ব্রেকিং নিউজ

প্রথমবার সংসদে বঙ্গবন্ধু

১৯৫৪ সাল। পূর্ব পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জের প্রার্থী বঙ্গবন্ধু। পূর্ব বাংলাজুড়ে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় নিজের নমিনেশন পেপার জমা দিতে এলাকায় আসার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তিনি। এলেন শেষদিন। ততদিনে  মুসলিম লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী বিত্তশালী ওয়াহিদুজ্জামান প্রচুর অর্থ খরচ করে প্রচারণার কাজ এগিয়ে ফেলেছেন।

অবশ্য বঙ্গবন্ধু এলাকায় আসতেই পরিস্থিতি পাল্টে গেল। সবাই তাকে ভীষণ ভালোবাসত। তার প্রচারণার সম্বল ছিল কয়েকটা সাইকেল আর মাইক্রোফোন। তবু তার আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা টের পেয়ে প্রতিপক্ষ কূটচাল শুরু করেন। ধর্মীয় নেতাদের বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে প্রচারণায় নামিয়ে দেন ওয়াহিদুজ্জামান।

বিখ্যাত আলেম মাওলানা শামসুল হক স্পিডবোটে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ফতোয়া দিতে থাকলেন, বঙ্গবন্ধুকে ভোট দিলে ইসলাম থাকবে না, ধর্মনাশ হয়ে যাবে! শর্ষিনার পীর সাহেব, বরগুনার পীর সাহেবসহ অনেকেই ছিলেন এই দলে। সরকারি কর্মচারীরাও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কাজ শুরু করল। ঢাকা থেকে পুলিশ প্রধান গেলেন বঙ্গবন্ধুর বিজয় ঠেকাতে।

তাতে কোনো লাভ হলো না। ৩৪ বছর বয়সে, ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচন জিতলেন বঙ্গবন্ধু।

তথ্য সূত্রঃ 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’,

দেবব্রত দেব রায়ের ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনে স্মরণীয় ঘটনা’

আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’

এস এ করিমের ‘শেখ মুজিব ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি’