সাজেকের দূর্গমাঞ্চলে হামরোগে ১৪দিনে ৬শিশুর মৃত্যু!আক্রান্ত আরো শতাধিক শিশু

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির দূর্গমাঞ্চল সাজেক ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের তিনটি এলাকায় মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। গত ১৪দিনে সেখানে দেখা দেয়া হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরো অন্তত শতাধিক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাটির জনপ্রতিনিধি ১৭০ নং তুইছুই মৌজাস্থ ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার জৌপৈই থাং ত্রিপুরা।

নিহত শিশুরা হলো, সাগরিকা ত্রিপুরা (১মাস), সুজন কুমার (৯) কহেন ত্রিপুরা (১০), বিধান ত্রিপুরা (১২) রেজিনা ত্রিপুরা (২), নিক্সন ত্রিপুরা (৩)। মেম্বার জানান, অরুন পাড়া, লাংকাটান পাড়া ও হাইচ্যাপাড়া নামক এই তিনটি এলাকায় সর্বমোট ১০৭জন লোক হামরোগে আক্রান্ত হয়ে আছে।

এদিকে নিহতের সংখ্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা তিন শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সেখানে কুঃসংস্কারের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে মানুষজন উন্নত চিকিৎসা নিতে অন্যত্র আসতে চাচ্ছেনা বিধায় আমরা রেফার্ড করার পরেও তারা খাগড়াছড়িতে বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্যে যাচ্ছেনা।

অপরদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু হামরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪দিনের ৫ শিশু মারাগেছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সেখানে বিজিবি’র দুইটি এবং স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে একটি মেডিকেল টিম পাঠিয়েছি। তারা সেখানে কাজ করছে বর্তমানে অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিগত ২০১৪ সালেও এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। সেসময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জরুরি মেডিকেল টিম পাঠিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছিলো এবং এলাকার মানুষ মহামারি থেকে রক্ষা পেয়েছিলো। বর্তমানেও চলমান পরিস্তিতি থেকে উত্তরনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার জৌপৈই থাং ত্রিপুরা।