বিনামূল্যেই ২০০ মাস্ক বিতরণ করলো সেই দর্জি

॥ শহিদুল ইসলাম হৃদয় ॥

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে সনাক্ত হওয়ার পরপরই সারা দেশের ন্যায় রাঙামাটিতেও মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কিন্তু সবার ব্যতিক্রম দর্জি জসীম। জসীম স্বেচ্ছায় নিজের পরিশ্রম ও কাপড় দিয়ে মাস্ক বানিয়ে বিনামূল্যে সবার হাতে হাতে মাস্ক ধরিয়ে দিচ্ছেন। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তবলছড়ি জামে মসজিদে মুসল্লিদের মাঝে দুই শতাধিক মাস্ক বিতরণ করেন জসীম। বিতরণকালে তার সাথে ছিলেন রাঙামাটি টেইলার্স সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল জাব্বার।

মাস্ক বিতরণ শেষে তিনি বলেন, সারা দেশে মাস্কের দাম বেড়েছে। ১০ টাকার মাস্ক ৫০ টাকা ও ৪০ বা ৫০ টাকার মাস্ক ১০০/২০০/২৫০ টাকায় বিক্রি করছে কিছু মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী। তাই আমি চিন্তা করেছি যেহেতু সেলাই কাজ করি সেহেতু আমার কাছে যা কাপড়ের টুকরো আছে এবং কিছু গজকাপড় কিনে তা দিয়ে মাস্ক বানিয়ে আমার সামার্থ্য অনুযায়ী মাস্ক বিতরণ করবো। তাই আমি কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু সময় বের করে মাস্ক বানিয়ে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর তবলছড়ি এলাকার জামে মসজিদে দুই শতাধিক মাস্ক বিতরন করেছি।

জসীম আরো বলেন, আমাদের রাঙামাটিতে এমনও অনেক পরিবার আছে যারা দিনে এনে দিনে খায় তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য মাস্ক কিনলে তাদের রাতের খাবার কপালে জুটবেনা। কারণ গরিবদের তো আর ১০০/২০০/২৫০ টাকা দিয়ে মাস্ক কেনার সামার্থ্য নেই। তাই আমি গত বুধবার দেশের পরিস্থিতির কথা ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে চিন্তা করি আমাদের রাঙামাটিতে যদি মহামারি ভাইরাস করোনায় পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ আক্রান্ত হওয়া শুরু হয় তাহলে একজন ও এই ভাইরাসের প্রকোপ থেকে রেহাই পাবেনা। তাই সেদিন রাত থেকে মাস্ক বানানোর কাজ শুরু করি এবং আমার এই উদ্যোগ দেখে আমার সমিতির সকলে আমাকে আরো উৎসাহ দিয়েছে। তাই আমি কাজটি করতে সক্ষম হয়েছি। আমি আগামী সপ্তাহে আরো তিন থেকে চার শতাধিক মাস্ক বিতরণ করবো।

রাঙামাটি টেইলার্স সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল জাব্বার বলেন, জসীমের উদ্যোগ দেখে আমরা আসলেই অনেক মুগ্ধ হয়েছি। তাই আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী সপ্তাহে রাঙামাটি টেইলার্স সমিতির পক্ষ থেকে রাঙামাটিতে বসবাসরত সকল স্তরের মানুষের জন্য এক হাজারেরও বেশি মাস্ক বিতরণ করবো।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সমিতির আওতায় রাঙামাটিতে মোট ৭৩ টি দোকান আছে তারা সকলেই আমাদের সমিতিকে মাস্ক তৈরি করে দিয়ে সহযোগিতা করবে। ইতিমধ্যে আমাদেরকে বনরুপা বিএম ১ এর অনেক কাপড় ব্যবসায়ীরা ৫ গজ ১০ গজ করে কাপড় দিয়ে যাচ্ছে যাতে এই করোনা মোকাবেলার মহৎ উদ্যোগে তারাও অংশীদার হতে পারে।