রাঙ্গামাটির বাজারঃ ম্যাজিস্ট্রেটের পা পড়লে দাম কমে সড়লে বাড়ে!

॥ সৌরভ – নির্জন ॥

“করোনার জেরে বন্ধ হতে পারে বাজার-হাট, তাই এই বেলাই সেরে ফেলতে হবে সবকিছু” এমনটা মনে করে প্রায় সারা মাসের বাজার করতে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন আমজনতা। ফলে ভাটা পড়েছে কাঁচাবাজার থেকে মুদি দোকানের ভাঁড়ারে। আর তার সুযোগে অধিক দামে জিনিস বিক্রি করতে শুরু করেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তাই দাম নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি বাজারে অভিযান চালাচ্ছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে এতেও দমছে না এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা, বাজারে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেলেই দাম সহনশীল পর্যায়ে হাঁকাচ্ছে আবার ম্যাজিস্ট্রেট চোখের আড়াল হলেই উচ্চ দাম হাঁকাচ্ছে তারা।

সবে মাত্র দেশে প্রবেশ করেছে করোনা, এখনো প্রবেশ করেনি রাঙ্গামাটিতে কিন্তু এতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে ষোলো আনা। এই আতঙ্কে ঘি ঢেলে আবার অনেকে গুজব রটাচ্ছেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে দোকান-পাট! তাই কয়েকদিনের মধ্যেই কাঁচা সবজির দাম বেড়ে গিয়েছে। এমন অবস্থায় কী করবে মানুষ? পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই পথে নেমেছে জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন বাজারে ঘুরে জরিমানাসহ সতর্কও করা হচ্ছে কিন্তু তাতে দমার পাত্র নয় অসাধু ব্যবসায়ীদের এই চক্র। ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার সাথে সাথে আবারো উচ্চ দামেই বিক্রি করছে জিনিসপত্র এমনটাই অভিযোগ ক্রেতাদের। “ম্যাজিস্ট্রেট তো অনেক কথায় বলবে, তাদের কথা শুনে আমাদের পেট চলবে নাকি?” এমন স্পর্ধামূলক প্রশ্নও ছুঁড়ে দিচ্ছে অনেক বিক্রেতা।

শনিবার বিকেলে বনরুপা, রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ির বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেয়া যায়, টমেটো প্রতিকেজি ২০ টাকা, বাধাকপি ১৫-২০ টাকা, ফুলকপি ৪০-৫০টাকা, ঢেড়শ প্রতিকেজি ৭০-৮০ টাকা, পেয়াজ প্রতিকেজি ৭০-৮০ টাকা, রসুন প্রতিকেজি ১৫০-১৮০, আলু প্রতিকেজি ৩০ টাকা, কাচাঁমরিচ প্রতিকেজি ৬০-৮০ টাকা, বেগুন প্রতিকেজি ২০ টাকা, ডাটা শাক আটি ২০ টাকা, শশা ৩০ টাকা, গাজর ২৫-৩০ টাকা, শিম বিচি ৫০-৬০টাকা, কলমি শাক ২০ টাকা, পেপেঁ ৬০-৬৫ টাকা, বাংলা কলা ডজন ৭০-৮০ টাকা, মিষ্টি আলু প্রতিকেজি ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতিকেজি ৩০-৪০ টাকা, ধনেপাতা ৪০-৬০ টাকা(মান অনুযায়ী), সিম প্রতিকেজি ৪০ টাকা, বরবটি প্রতিকেজি ৬০ টাকা, করলা প্রতিকেজি ৭০-৮০ টাকা, লেবু বড় জোড়া ৫০ টাকা, লেবু ছোট জোড়া ৩৫-৪০ টাকা, লাউ শাক ২০-২৫ টাকা, মূলা প্রতিকেজি ২০ টাকা, মিশালী শাক আঁটি ৩০ টাকা, কাচা ভূট্টা ২০ টাকা, পুইশাক আঁটি ২০-২৫ টাকা, পটল প্রতিকেজি ৭০ টাকা ।

আরো পড়ুনঃ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্বগতি ঠেকাতে রাঙামাটির বাজারগুলোতে মোবাইলকোর্টের সাঁড়াশি অভিযান

আরো পড়ুনঃ রাঙামাটি শহরের প্রতিটি বাজারে মোবাইল কোর্টের অভিযান

এদিকে মৌসুমী ফলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় আনারস জোড়া ৩০ টাকা, ছোট আনারস জোড়া ২০ টাকা, বড় তরমুজ ২৫০-৩০০ টাকা, ছোট তরমুজ ১০০-১৮০ টাকা (আকার অনুযায়ী)।

মাংসের বাজারে দেশী মুরগী বিক্রি হচ্ছে ৩৯০-৪১০ টাকায়, ফার্মের মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা, মুরগীর ডিম ডজন প্রতি ১১০-১২০ টাকা, হাসের ডিম ডজন ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বিক্রেতারা জানান, সরবরাহকারীরা দাম বাড়িয়ে দিলে আমাদের কিছু করার থাকে না। আগের রেটে জিনিস বিক্রি করলে লাভের কিছুই থাকে না তাই বাধ্য হয়েই এমনটা করতে হচ্ছে।

মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, মোবাইল কোর্টের অভিযানের পর ভেবেছিলাম জিনিসপত্রের দাম সহনশীল থাকবে কিন্তু দাম বেড়েই চলেছে। দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রশাসনকে ক্রেতার বেশে অভিযান চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।