ব্রেকিং নিউজ

করোনা প্রতিষেধকের বায়বীয় তথ্যে রাঙামাটির ফার্মেসীগুলো থেকে ২ ট্যাবলেট উধাও!

॥ আলমগীর মানিক ॥

করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে এমন বায়বীয় তথ্যে পার্বত্য শহর রাঙামাটির ঔষধের দোকানগুলো থেকে উধাও হয়েগেছে রিকোনিল (২০০মি:গ্রা:) ট্যাবলেটসহ ম্যালেরিয়া রোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ঔষধ। কিছু কিছু ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা এবং একটি চক্র রাঙামাটির বাজারগুলোতে সংঘবদ্ধভাবে নেমে প্রায় একই সময়ে উক্ত রিকোনিল ট্যাবলেটি সংগ্রহ করে। যারফলে এই ঔষধটির কৃক্রিম সংকট তৈরি হয়েছে রাঙামাটিতে। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে এটি গুজবের উপর নির্ভর করে একটি চক্র বাজার থেকে এসব ঔষধ সরিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাঙামাটি শহরের ঔষধ বিক্রিকারি দোকানগুলোর মালিকরা জানিয়েছেন শনিবার বিকেল থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত সময়ে একটি চক্র আকস্মিকভাবেই রিকোনিল-২০০মি:গ্রা ঔষধটি কিনে নিয়ে যায়। এতে করে রোববার বিকেল থেকেই এই ঔষধটির তীব্র সংকট দেখা দেয় রাঙামাটিতে। এই ঔষধের সাপোর্ট ট্যাবলেট হিসেবে জেনিফ ফার্মাসিউটিক্যালস এর রোকুইন এবং ডেলটা ফার্মার রিয়োম্যাফ্লেক্স জাতীয় দু’টি ঔষধও রাঙামাটির বাজারে পাওয়া যাচ্ছেনা।

খোঁঁজনিয়ে জানাগেছে, রিকোনিল ঔষধটি ইনসেপ্টা কোম্পানীর। রাঙামাটিতে এই কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি আব্দুল গাফফার নিজেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হঠাৎ করেই এই ঔষধটি রাঙামাটির বাজার থেকে কে বা কাহারা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে এই বিক্রয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাদের চট্টগ্রামের ডিপোটেও রিকোনিল ট্যাবলেটটির স্টক শেষ হয়ে গেছে শনিবার থেকেই।

সরেজমিনে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার, বনরূপা ও তবলছড়ি বাজার ঘুরে ফার্মেসীগুলোতে গিয়ে রিকোনিল ট্যাবলেটের খোঁজ নিতেই দোকানিরা জানিয়েছেন, কিছু কিছু ঔষধ কোম্পানীর এমআর এসে রিকোনিল এর পুরো বক্স কিনে নিয়ে গেছে। তবলছড়ি বাজারের গোপা ফার্মেসীর মালিক বিপ্লব জানান, গত দুইদিন ধরে হঠাৎ করেই রিকোনিল কিনতে হিড়িক পড়েছে।

বনরূপা প্রদীপ ড্রাগ হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, যেখানে বিগত দিনে প্রতিমাসে এক থেকে দেড় বাক্স ঔষধ বিক্রি হতো। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে হঠাৎ করেই আমার দোকানের চার বাক্স ঔষধ বিক্রি হয়ে গেছে। অপরদিকে রিজার্ভ বাজারের গ্রীণহিল ফার্মেসী কর্তৃপক্ষ জানান, এক ব্যক্তি এসে আমাদের কাছ থেকে দুই বাক্স ট্যাবলেট কিনে গেছে।

রিজার্ভ বাজারের জনসেবা ফার্মেসীর মালিক ছোটন দেওয়ানজী জানান, আমার কাছে ঔষধ কোম্পানী এক বিক্রয় প্রতিনিধি এসে রিকোনিল কিনতে চাইলে তাকে আমি এক পাতা দিতে চাই। কিন্তু তিনি পুরো বক্স কিনতে চাইলে আমি তার কাছে একটিও বিক্রি করিনি। পরে আমার অনুপস্থিতিতে আমার কর্মচারির কাছ থেকে অপর এক ব্যক্তি এসে পুরো এক বক্স ঔষধ কিনে নিয়ে গেছে। অপরদিকে বনরূপাস্থ বিসমিল্লাহ ফার্মেসীর মালিক জানান, সাইদুল নামের এক বিক্রয় প্রতিনিধি এসে তার কাছ থেকে রিকোনিল পুরো বক্স কিনে নিয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রোববার থেকে বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসহ আরো কিছু অনলাইনে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, হাইড্রো ক্লোরোকুইন এবং এজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধ একসঙ্গে সেবন করলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা সেরে উঠবে! এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর মুহুর্তের মধ্যেই রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ফার্মেসীগুলোতে রিকোনিল জাতীয় ঔষধগুলো সংগ্রহ করে নেয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

এদিকে রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে এই ধরনের ঔষধ যে করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে এমন কোনো নির্দেশনা তাদের কাছে নেই। জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা জানিয়েছেন, দেশ-বিদেশের অনেক বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত চেষ্ঠা চালিয়ে করোনা ভাইরাসের কোনো ঔষধ আবিস্কার করতে পারেনি। সুতরাং এই ধরনের খবর একদমই গুজব বলেও জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। অপ্রয়োজনে কেউই যদি সংকট সৃষ্টির লক্ষ্যে ঔষধ সংগ্রহ করে বাজারে সংকট তৈরি করে এটাও এক ধরনের অপরাধ।

অপরদিকে, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শওকত আকবর খান জানিয়েছেন, এটা একটি গুজবীয় ব্যাপারের উপর নির্ভর করে এমনটা ঘটানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে, তক্ষক, রূপালী কয়েন ব্যবসার মতো বায়বীয় তথ্যের উপর নির্ভর করে একটি অসাধু চক্র দেশে এক ধরনের ব্যবসা করার অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। সেটির অংশ হিসেবেই এসব ঔষধ সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে চক্রটি।

জানাগেছে, ইনসেপ্টা কোম্পানীর বাজারজাত করা রিকোনিল(২০০মি:গ্রা:) ঔষটি মূলত: ক্লোরোকুইন ফসফেট ম্যালেরিয়া, প্রফিল্যাক্সিস এবং ম্যালেরিয়া দমন, অ্যামিবিক হেপাটাইটিস এবং ফোড়া, ডিসঅকয়েড এবং সিস্টেমিক এবং সিস্টেমিক লুপাস এরিথেথোসাস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে থাকে।

এদিকে ইনসেপ্টা কোম্পানীর রাঙামাটির বিক্রয় প্রতিনিধি আব্দুল গাফফার জানিয়েছেন, তাদের এই ঔষধটি ইতিমধ্যেই রাঙামাটি থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের ডিপোতেও সম্পূর্ন শেষ হয়েগেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার কোম্পানীর পক্ষ থেকেও এটি করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে এমন কোনো তথ্য তাকে দেওয়া হয়নি।