জেলা প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা:ঋণ আদায় চালিয়ে যাবে রাঙামাটির এনজিওগুলো

॥ আলমগীর মানিক ॥

বিশ্ব বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটেও সুদের ব্যবসা ত্যাগ করতে পারেনি রাঙামাটিতে কাজ করা এনজিওগুলো। করোনা ভাইরাসের কারনে অঘোষিত জরুরি অবস্থায় যখন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ দুবেলা ভাতের চিন্তায় নাকাল, তখনো কিস্তির জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে এনজিওগুলো।

বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের অনুরোধও উপেক্ষা করছে এনজিওগুলো। সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই কিস্তি উত্তোলন বন্ধ হলেও রাঙামাটিতে এখনো পর্যন্ত এই তৎপরতা চলছে জোরেশোরে।

স্থানীয় জনসাধারনের ত্রাহি অবস্থার বিবেচনায় সোমবার দুপুরে রাঙামাটির এনজিওগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভা করেছে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। সভায় সভাপতিত্ব করেছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিল্পী রাণী রায়। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইসলাম উদ্দিন এর সঞ্চালনায় উক্ত সভায় রাঙামাটিতে কর্মরত বিভিন্ন এনজিওগুলোর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে এখন একটি সংকটময় মুহুর্ত চলছে। এই মুহুর্তেও রাঙামাটিতে কাজ করা এনজিওগুলো এখনো পর্যন্ত তাদের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

করোনা ভাইরাসের সংক্রামন থেকে রাঙামাটিবাসীকে রক্ষায় এনজিওগুলো কোনো ধরনের সচেনতামূলক কার্যক্রম শুরু না করারও সমালোচনা করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। অপরদিকে এনজিও প্রতিনিধিরা ঢাকা থেকে নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত রাঙামাটিতে ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে সভায় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের ঋণকার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ উপেক্ষা করেই বৈঠক শেষ করে এনজিও প্রতিনিধিরা।

এদিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, এনজিওগুলোকে বর্তমানে সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের ঋণ আদায় কার্যক্রম যথা সম্ভব শিথিল রাখার জন্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি নিজেই ফোন করে কিছু কিছু এনজিওকে ঋণ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছি। এছাড়া প্রয়োজন হলে এনজিওগুলোর ঋণ আদায় কার্যক্রম বন্ধে কঠোর নির্দেশনাও জারি করা বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক।