পৈত্রিক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল হলেও পুলিশী সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ এড.দীপেন দেওয়ানের

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটি শহরে দিনে-দুপুরে নিজস্ব ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক যুগ্ম জেলা জজ এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে দীপেন দেওয়ানের লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি।
সংবাদ মাধ্যমকে দীপেন দেওয়ান জানান, গত ২২শে মার্চ রোববার জনৈক স্বপনের নেতৃত্বে চিহ্নিত ১২জনসহ সবমিলিয়ে প্রায় ২০/২৫ জনের একদল লোক আমার এজমালি সূত্রে প্রাপ্ত কলেজ গেইটস্থ পাহাড়িকা টিকেট কাউন্টার সংলগ্ন ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে বেআইনীভাবে প্রবেশ করে টিনের চালের ঘরটি ভাংচুর করে।

এসময় পুরো জায়গাটিতে নতুনভাবে খুটি গেড়ে দখল করে নেয়। এসময় আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে বাধা দিলে আমাকে সরে বলে, অন্যথায় প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দীপেন দেওয়ান। সন্ত্রাসীদের এই ধরনের হুমকিতে আমি হতবিহ্বল হয়ে প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে আসি। পরবর্তী উপরোক্ত বিষয় উল্লেখ করে কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু রাত বারোটা পর্যন্ত আমার অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেননি কোতয়ালী থানার ওসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন, আমরা দীপেন দেওয়ান সাহেবের কাছ থেকে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু সেখানে দীপেন দেওয়ানের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলোনা এবং কাউকে পায়নি কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার। মামলা না নেওয়ার প্রসঙ্গে ওসি জানান, আমি লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তিনি জানান, বিষয়টি দুই পরিবারের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এবং এটি দেওয়ানী অভিযোগ। তাই এই বিষয়ে আমি দীপেন দেওয়ানকে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা আনার পরামর্শও দিয়েছি। তিনি নিষেধাজ্ঞা আনলে এবং আমাদের কাছে সেটি দিলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলেও জানান ওসি।

এদিকে ওসির বক্তব্য মোটেও সত্য নয় বলে জানিয়েছেন এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, আমি নিজেই আমার আত্মীয়কে সাথে নিয়ে কোতয়ালী থানা গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তিনি বলেন, ওসি সাহেব কেন আমার লিখিত অভিযোগ পেলেননা বলে জানিয়েছেন সেটি আমার বোধগম্য নয়। দীপেন দেওয়ান বলেন, আমি বিকেল তিনটার সময় থানায় গিয়েছি এবং ওসি ভাত খেয়ে আসছেন জানিয়ে আমাকে নিজেই বসতে বলে চলে গেলো। পরবর্তীতে আমার অভিযোগটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাকে আশ্বস্থ করেছিলেন। দীপেন দেওয়ান বলেন, আমি যে কোতয়ালী থানায় গিয়েছি সেটি থানার সিসিটিভি ফুটেজেই রেকর্ড রয়েছে এবং সেটির মাধ্যমেই প্রমান করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, রাঙামাটি শহরের ১০২ নম্বর রাঙ্গাপানি মৌজার কলেজগেট এলাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতির উপজাতীয় বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী) সুবিমল দেওয়ানের নামে ২ দশমিক ২২ একর জায়গা বন্দোবস্তির রেকর্ড হয়। সুবিমল দেওয়ানের ছেলে চাঁদপুর জেলার সাবেক জেলা যুগ্ম জজ এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, তর্কিত জায়গাটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন আছে। আমরা আদালতের রায় মেনে নেব। কিন্তু আইন অমান্য করে লোক লাগিয়ে দিয়ে জায়গাটি জোরপূর্বক বেদখল করতে চেষ্টা চালাচ্ছে আমাদের প্রতিপক্ষ। এরআগেও উক্ত জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিলো। সেসময়ও আমি গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে আইনী প্রতিকার চেয়েছিলাম। গণমাধ্যমকর্মীরা সকলেই উক্ত জায়গাটি নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে সচিত্র রির্পোর্ট করেছিলো।