বান্দরবানের ৩ উপজেলা লক ডাউনের আওতায়: সেনাটহল জোরদার

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ী তিন উপজেলা পাশ্ববর্তী জেলা কক্সবাজারে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। কক্সবাজারে সাথে লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সংযোগ সড়ক থাকায় জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীর বিশেষ টিম। মঙ্গলবার দুপুর থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহলের পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, জনসমাগম না হওয়ার জন্য জনগণকে সচেতন কর‌ছেন সেনা সদস্যরা। এসময় সেনা সদস্যরা বিভিন্ন শপিংমল ও দোকানপাটে জনসমাগম হওয়ায় শপিংমল ও দোকান পাট বন্ধ ক‌রে দেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, বান্দরবানে এ পর্যন্ত প্রবাসীসহ ৫০ জন কোয়ারান্টিনে আছে। এদের মধ্যে ৯ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে। আর বাকি ৪১ জন হোম কোয়ারান্টিনে রয়েছে।

এদিকে বিকেলে বান্দরবান জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এবং স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকরা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের মাঝে স্প্রে, গ্লাভস, জ্যাকেটসহ অন্যান্য সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। সাতটি উপজেলাতেও ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাস আতঙ্কে বান্দরবান শহর এখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। সড়কগুলোতে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে।

এ ব্যাপারে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজারে করোনাভাইরাস আক্রান্তের শনাক্ত হওয়াতে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পুরো বান্দরবানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনসহ সেনাবাহিনী কাজ করছে।