দেবদূত হয়ে সাজেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ালো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

॥ ওমর ফারুক সুমন ॥

দূর্গম সাজেকের হামে আক্রান্ত শিশুদের জীবন রক্ষার্থে পাশে এসে দাড়ালো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সম্প্রতিক সময়ে রাঙ্গামাটি জেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম শিয়ালদহ এলাকায় হাম রোগ বিশেষ করে শিশুদের মাঝে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়দিনে এই মহামারী রোগে আক্রান্ত হয়ে সাজেকের দূর্গম পাহাড়ি এলাকা তথা অরুন পাড়া, লুথিয়ান পাড়া ও কমলাপুরপাড়া গ্রামে অন্তত ৮ জন ত্রিপুরা শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এই অবস্থায়, উক্ত এলাকায় আক্রান্ত আরো শতাধিক মানুষদের উন্নত চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে গত ২৪ মার্চ বেসামরিক ও সামরিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চিকিৎসক দল সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে শিয়ালদা এলাকায় প্রেরণ করা হয়।

সাজেকের শিয়ালদহ লোকালয় থেকে অত্যন্ত দূরবর্তী এবং দুর্গমতার কারণে সামাজিক সুযোগ-সুবিধার অনেক কিছুই এই জায়গায় অনুপস্থিত। সেখানে এই অসুস্থ উপজাতিদের উন্নত চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার নিমিত্তে দূর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে দেবদূতের মত সেনাবাহিনীর এমন ছুটে আসা ছিল সকলের কাছে অকল্পনীয়। এসময় সমন্বিত চিকিৎসক দল সেই এলাকায় একটি পরিবারের ০৫ জন অপুষ্টিজনিত রোগসহ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সন্ধান পান এবং চিকিৎসকগণ শিশুদের জীবন বাঁচাতে জরুরী ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

বিষয়টি জানার পর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান অতি দ্রুত এই শিশুদের হেলিকপ্টারযোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসার নির্দেশনা প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে ২৫ মার্চ বিকেল ৪টা ৩০ ঘটিকায় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে রোগ আক্রান্ত দুস্থ এসকল শিশুদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

উদ্ধারকৃত শিশুরা হল: ১। প্রতিল ত্রিপুরা (০৫) ২। রোকেন্দ্র ত্রিপুরা (০৬) ৩। রোকেদ্র ত্রিপুরা (০৮) ৪। নহেন্দ্র ত্রিপুরা (১০) ৫। দিপায়ন ত্রিপুরা (১৩) বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর এমন মহানুভবতায় উক্ত এলাকায় মানুষগুলো আবারো বেঁচে থাকার ভরসা পাচ্ছে। হেলিকপ্টারযোগে দুঃস্থ রোগীদের স্থানান্তরের পাশাপাশি অন্যান্য আক্রান্ত রোগীদের সেবা শুশ্রুষায় যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে যে সেনা ও বেসামরিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দল।