রাঙামাটিতে দিশেহারা হাজারো অটোচালকের প্রত্যেককে ২৫ কেজি চাল ও ৫লিটার তেল বিতরণ

॥ আলমগীর মানিক ॥

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষায় সরকারী নির্দেশনা অনুসারে ২৬শে মার্চ থেকে সকল প্রকার যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পার্বত্য শহর রাঙামাটিতেও বন্ধ থাকবে শহরের একমাত্র যাত্রীবাহী যান অটোরিক্সা।এতে করে সম্পূর্নরূপে বেকার হয়ে পড়েছে হাজারো অটোরিক্সা চালক। এতে করে অটোচালকদের পরিবারে সম্ভাব্য দূর্যোগ নেমে আসার আশঙ্কা থেকে প্রতিজন অটোচালককে মাথাপিছু ২৫কেজি চাউল ও ৫ লিটার ভোজ্যতেল বিনামূল্যে বিতরণ করেছে অটোচালকদের সংগঠন রাঙামাটি বেবিটেক্সি চালক কল্যাণ সমিতি কর্তৃপক্ষ। এই সংগঠনের কল্যাণ ফান্ড থেকে এই খাদ্যশষ্য ও ভোজ্য তেল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান।

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রোমান বলেন, সরকারের নির্দেশনানুসারে করোনা ভাইরাসের সংক্রামন থেকে রক্ষায় আমাদেরকে নিজ নিজ বাসায় আবদ্ধ থাকতে হবে। যেহেতু সামনের দিনগুলো আমাদের জন্য কি ধরনের বিপদ হতে পারে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। তাই সামান্য কষ্ট করে হলেও সাধারণ চালক ভাইদেরকে আজ ডেকেছি এবং বিপদকালীন সময়ের জন্য চাউল ও তেল বিতরণ করেছি। এই সহায়তা পর্যাপ্ত নয় মন্তব্য করে রোমান বলেন, তারপরও আমরা আমাদের সংগঠনের সামথ্য অনুসারে সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

এসময় সংগঠনের সভাপতি পরেশ মজুমদার, সহ-সভাপতি কবির আহাম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম, নুরুল ইসলাম, কামাল হোসেন, আফসার সদস্যসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে চাউল ও তেল পাওয়া অটোরিক্সা চালকরা জানিয়েছেন, আমরা প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালাতাম। অনির্দিষ্ট্যকালের জন্য গাড়ি বন্ধ রাখার সরকারী সিদ্ধান্তে আমাদের মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্থা। অটোচালক জাকির হোসেন লিটন জানালেন, বউ-বাচ্চা নিয়ে কিভাবে সামনের দিনগুলো কাটাবো” এই দুঃশ্চিন্তায় যখন চালকরা দিশেহারা, ঠিক এমন সময়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের উদ্যোগে চাউল ও তেল বিতরণে দুঃশ্চিন্তায় দিশেহারা চালকদের মনে এনেদিলো প্রশান্তির ছোয়া। আর যাই হোক অন্তত লবন দিয়ে হলেও দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁেচ থাকা যাবে বলেই দু’হাত তুলে নেতৃবৃন্দের জন্যে দোয়া করতেও ভূল করলোনা কয়েকজন বৃদ্ধ চালক।

রাঙামাটি বেবিটেক্সী চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান রোমান জানিয়েছেন, আমাদের সংগঠনের নিজস্ব কল্যাণ ফান্ড থেকে প্রায় এক হাজার সদস্য চালকদের মাথাপিছু হারে ২৫ কেজি চাউল ও ৫ লিটার করে সয়াবিন তেল বিতরণ করেছি। কারন এই চালকরা বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় তাদের সংসারে চরম অভাব নেমে আসবে এবং এতে করে নিদারুন কষ্টকর পরিস্থিতি পড়তে হবে তাদের। তাই দূর্যোগময় মুহুর্তেও যাতে অন্তত তিনবেলা ভাত খেয়ে হলেও দিনানিপাত করতে পারে সেই লক্ষ্যেই তাদের জন্য এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন রোমান।