ব্রেকিং নিউজ

জেলা পরিষদকে দেওয়া অনুদান সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিতরণের দাবী ছাত্রলীগ সভাপতির

॥ সৌরভ দে ॥

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জেলা পরিষদকে প্রদত্ত অনুদানের ৫০ লক্ষ টাকা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিতরণের দাবী জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন। ২৮ তারিখ শনিবার সকালে এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই দাবী জানান। এতে করে বন্টনের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি থাকবে না বলে মনে করছেন সভাপতি সুজন।

মিঃ সুজন তার স্ট্যাটাসে লিখেন,

“রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সকল #প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং সকল জনসাধারণকে সর্বদা সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি যে, করোনা মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাঙ্গামাটিতে যে ১০০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য ও ১০লাখ টাকা এবং পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে ১কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ৩ জেলা পরিষদকে দেওয়া হলো.. তা যেনো সঠিকভাবে দরিদ্র অসহায়, দিনমজুর, জনগণের কাছে পৌঁছে। আর সবচাইতে ভালো হবে বলে আমি মনে করছি যদি এসব অর্থ, খাদ্যশস্য- সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিতরণ করা হয়। এতে আর খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ বন্টনের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি থাকবে না বলে আমি মনে করছি।”

এদিকে তার এই স্ট্যাটাসের কমেন্ট সেকশনে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মত।

রাঙ্গামাটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিউল ইসলাম শিমুল কমেন্ট করেছেন, “ঠিক বলছেন ভাই। একমাত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্বারাই সুষ্ট বন্টন সম্ভব। সেনাবাহিনীকেই যেন এই দায়িত্বটা দেওয়া হয়।”

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নবুননের চেয়ারম্যান নূর তালুকদার মুন্না কমেন্ট করেছেন, “সঠিক ও যথার্থ প্রস্তাব।”

ফাতেমা বিনতে নামে একজন কমেন্ট করেছনে “ভোটের সময় প্রত্যেকটি ব্যক্তির বাড়ি যাইয়ে হাতে পায়ে ধরে, আর যখন কোন অনুদান আসে তখন তো প্রত্যেক ব্যক্তি অনুদান পায়না, মুখ দেখে বিতরন করে, ১০০% উচিত অনুদানের বিতরন সেনাবাহিনী দ্বারা হোক, তাহলে প্রতিটা ব্যক্তি এবং প্রতিটা পরিবার পাবে।”

আরো পড়ুনঃ রাঙামাটির করোনাবন্দী খেটেখাওয়া মানুষগুলোর ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিলো সেনাবাহিনী

আরো পড়ুনঃ পাহাড়ের তিন জেলাপরিষদকে দেড়কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পার্বত্য মন্ত্রণালয়(ভিডিও)

হাসান নামে একজন কমেন্ট করেছেন, “কি করলেন ভাই আপনি, সর্বনাশ করে দিলেন চাটাদের,এই কথা শুনা মাত্রই চাটাদের কলিজায় মনে হবে বন্দুকের আঘাত লাগলো।”

ছাত্রলীগ কর্মী জাহাঙ্গীর আলম কমেন্ট করেছেন, “১০০% খাঁটিকথা ভাই। শকুনিরা এটাতেও ভাগ বসাবে।”

প্রসঙ্গত, করোনা মোকাবেলায় রাঙামাটি জেলার জন্য ত্রাণ মন্ত্রনালয় থেকে ১০০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য ও ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে ও পার্বত্য মন্ত্রনালয় থেকে জেলা পরিষদকে ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন বন্টনের স্বচ্ছতা রক্ষার্থে কোন উপজেলায় কত টন খাদ্য ও কি পরিমাণ টাকা দেওয়া হয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, ত্রান মন্ত্রনালয়ের থেকে ১০০ মেট্রিক টন খাদ্যের মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলার জন্য ২৪ মেট্রিক টন খাদ্য ও ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, লংগদু উপজেলায় ১২ মেট্রিক টন খাদ্য ও ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, কাউখালী উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন খাদ্য ও ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, বরকল উপজেলায় ৮ মেট্রিক টন খাদ্য ও ১ লক্ষ টাকা, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১৪ মেট্রিক টন খাদ্য ও ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, জুরাছড়ি উপজেলায় ৫ মেট্রিক টন খাদ্য ও ৭৫,০০০ টাকা, নানিয়ারচর উপজেলায় ৭ মেট্রিক টন খাদ্য ও ৭৫,০০০ টাকা, কাপ্তাই উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন খাদ্য ও ৭৫,০০০ টাকা, বিলাইছড়ি উপজেলায় ৫ মেট্রিক টন খাদ্য ও ৫০,০০০ টাকা, ও রাজস্থলী উপজেলায় ৫ মেট্রিক টন খাদ্য ৫০,০০০ টাকা ইতিমধ্যেই উক্ত ১০ উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা(ইউএনও) এবং দুইটি পৌরসভার মেয়রদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে জেলা পরিষদকে দেওয়া ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় উঠেছে। যাদের উদ্দেশ্য করে এই টাকা অনুদান হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে তাদের কাছে পৌঁছাবে কিনা এই বিষয়েও আশংকা প্রকাশ করছেন অনেকে।