ডিসি’র খাদ্য সহায়তা পেলো রাঙামাটির কর্মহীন সাড়ে ৫ হাজার পরিবার

॥ আলমগীর মানিক ॥

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করা কর্মহীন সাড়ে ৫ হাজার দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। জেলার ১০টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভাসহ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমেও খাদ্য সহায়তা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। তিনি জানান, আমাদের পর্যাপ্ত পরিমানে ত্রাণ মজুদ রয়েছে এবং প্রয়োজনে সরকার আরো ত্রাণ সহায়তা দিবে বলে নিশ্চিত করেছে। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয় শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য শস্য বিতরণকালে জেলা প্রশাসক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এসময় রাঙামাটির পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ জামাল উদ্দিন,জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিতরণ শেষে জেলা প্রশাসক জানান, সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজেদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় নাগরিকরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছে। শ্রমজীবি দরিদ্র মানুষজনদের জন্য সরকার পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্য সহায়তা বরাদ্ধ দিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্মানিত নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সহায়তা পৌছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। জেলায় রোববার পর্যন্ত ৫ হাজার ৫৫৪ টি পরিবারের কাছে ৪৫ মেট্রিকটন খাদ্য শস্য ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, এ পর্যন্ত রাঙামাটির উপজেলাগুলোসহ শহরে ২শ মেট্রিক টন চাউল ও নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। রাঙামাটি শহরেই রোববার পর্যন্ত তালিকানুসারে ধারাবাহিকভাবে একশোটি পরিবারের মাঝে ইতিমধ্যেই খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং এটি চলমান প্রক্রিয়া। শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভার মাধ্যমেও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে।

রাঙামাটির ডিসি একেএম মামুনুর রশিদ জানান, জেলা প্রশাসনের কাছে এখনো খাদ্য শষ্য মজুত রয়েছে। করোনা ভাইরাস আতংকে যারা কাজে যেতে পারছে না তাদের বাড়ী বাড়ী খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়াই হচ্ছে আমাদের মুল লক্ষ্য, কেউ যাতে বলতে না পারে সরকার তাদের পাশে নেই। তিনি বলেন আগামী দিনগুলোতেও সরকার জনসাধারনের পাশে থাকবে এবং খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়া হবে।

এই ধরনের ক্রান্তিলগ্নে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে এই সংকট মোকাবেলা করতে আমাদের বেগ পেতে হবে না।