বান্দরবান ত্রাণ পেয়েছে ৪৭ মেট্রিকটন খাদ্যশষ্য ও সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

বান্দরবানে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ত্রান বিতরণের জন্য ৪৭ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া জেলার ৭ উপজেলায় সাড়ে তিনলক্ষ টাকাও অনুদান দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক উপজেলায় শ্রমজীবি ও দিন মজুরদের জন প্রতিনিধির মাধ্যমে তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ করাহ হচ্ছে। এর মধ্যে চাল ও নিত্য প্রয়োজনী সামগ্রী রয়েছে।

রোববার সকালেও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে গোদাপাড়া এলাকায় শ্রমজীবি ৬০পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজি চাল এবং নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে আলু, পেঁয়াজ, লবন ও সয়াবিন তেল।

এর আগেও গত দুদিন ধরে শহরে বেশ কিছু এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন জেলা প্রশাসন। পৌরসভার আরও বিভিন্ন এলাকায় তালিকা করে শ্রম জীবি ও দিন মজুরদের ত্রাণ বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী জানিয়েছেন,সোমবার থেকে জেলা পরিষদ ও পৌরসভার উদ্যোগেও শহরে বিভিন্ন এলাকায় দিন মজুর ও শ্রম জীবিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়েও খেটে খাওয়া ও দিন মজুর দের ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জন প্রতিনিধিরা।

এদিকে,করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধের লক্ষ্যে লক-ডাউনের পর চিরচেনা বান্দরবান শহরের ট্রাফিক মোড় যেন অচেনা রূপ ধারণ করেছে। শহরের ব্যস্ততম ট্রাফিক মোড় কিংবা বাসস্টেশন এলাকা একে বারেই একে বারে ফাকা হয়ে গেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে গত চারদিন বান্দরবানের সাথে বন্ধ রয়েছে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ। শুধু দূরপাল্লা নয়, শহরের ছোট বড় সবধরণের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট পরিবহণগুলো বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্রেতারা। প্রয়োজনীয় পন্য কিনতে অনেকে বাজারে এলেও কোন ধরনের পরিবহন না থাকায় পণ্যদ্রব্য নিয়ে বাড়ি ফিরতে ভোগান্তিতে পড়েছে তারা।

বাজার করতে আসা আবদুল সালাম ইয়াকুর,ইদ্রিচ জানান, সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা রেখেছে যাতে মানুষ জরুরী দ্রব্য ক্রয় করতে পারে। কিন্তু শহরে টমটম, সিএনজি ও রিকশা সব পরিবহন বন্ধ। তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করে বাসায় নিব কিভাবে?

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জেলা শহরে সেনা সদস্যসহ বিভিন্ন উপজেলা বিজিবি, পুলিশ নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে। পরিবহন না চলায় রাস্তায় মানুষের আনাগোনা তেমন একটা নেই বললেই চলে। চারিদিকে ফাঁকা এবং নিস্তবদ্ধতা বিরাজ করছে।

এদিকে আইন শৃংখলাবাহিনী, সাংবাদিকসহ প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি গাড়ি মাঝে মধ্যে রাস্তায় দেখা গেছে। এসব পরিবহণগুলোকে জীবাণুনাশক করতে বিভিন্ন সংস্থা থেকে স্প্রে করেছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো:শামীম হোসেন বলেন, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। মানুষজনকে বাড়িতে অবস্থান করার জন্য সচেতন করা হয়েছে। জরুরী পণ্যের দোকান সকাল ১০টা থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখার জন্য বলা হয়েছে। যাতে মানুষ জরুরী দ্রব্য ক্রয় করতে পারে।