পুষ্টিকর খাবার নিয়ে সাজেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের কাছে ছুটে গেলেন ইউএনও

॥ ওমর ফারুক সুমন ॥

সাজেকের দূর্গম অঞ্চলে নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত একমাস ধরেই সাজেকে হামের প্রকোপ চলছে, এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮ শিশু, অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে আরো প্রায় ১৫০ শিশু, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যৌথ ৫ টি মেডিকেল টীম গঠন করে চিকিৎসা সেবা দিলেও দিন দিন বেড়েই চলছে হামের এই প্রদুর্ভাব। মুমূর্ষ ৫ শিশুকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছে চট্রগ্রাম মেডিকেলে বাকিদের চিকিৎসা চলছে সাজেকে।

এই অবস্থায় গত ৩দিন ধরে আবারো নতুন নতুন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৩১ মার্চ মঙ্গলবার নতুন করে হামে আক্রান্ত সাজেকের ৭ নম্বর ও আশপাশের তিন পাড়া পরিদর্শন করেছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু। এখানে নতুন আক্রান্ত শিশু অর্ধশতাধিক। সকলের অবস্থাই নাজুক এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন তাদের সচেতন করার চেষ্টা করেন এবং সকলকে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। এসময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু বলেন, এখানে অন্যতম কারণ হচ্ছে পুষ্টিহীনতা ও ইপিআই টিকা ঠিকমত না দেয়া এবং মনিটরিং ঠিকমত না করা। তাই শিশুরা হামে আক্রন্ত হয়ে মারা যাচ্ছে এরইমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু চাউল, ডাল, দুধ, ডিম, চিনিসহ পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করলাম।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের ইপিআই পোগ্রাম ম্যানেজার ডাঃ মাওলা বক্স চৌধুরী দায়ী করছেন দূর্গমতা ও কুসংস্কারকে। তিনি বলেন, উপজেলা সদর থেকে ওখানে পৌছাতে একজন স্ব্যাস্থ্য কর্মীর ১ দিন লেগে যায়, সংবাদ পাওয়া মাত্র আমরা ৫ টি মেডিকেল টিম পাঠিয়েছি তারা কাজ করছে। প্রতিটা শিশু চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগছে তাদের কোন জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা খুবই জরুরী হয়ে পড়ছে, তারা ওখানে যেতে চায়না এবং ঠিকমত ঔষধ গ্রহন না করে ঝাড়ফুক নিয়ে থাকে।