নিজস্ব তহবিল থেকে সিএনজি-মাহিন্দ্র চালকদের ত্রাণ দিলো ইউনিয়ন নেতারা

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষিত সারা দেশব্যাপী লক ডাউন চলছে। লক ডাউনের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে। বান্দরবানেও নি¤œ আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই কারণে সরকারের পাশাপাশি বান্দরবান জেলার সিএনজি-মাহিন্দ্র চালক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা নিজস্ব তহবিল থেকে নিজেদের চালকদের খাদ্য সামগ্রী সহযোগিতা দিয়েছে। বুধবার সকালে ট্রাফিক মোড়ে শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে সাড়া দিয়ে জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার চালকদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

গতকাল বুধবার শহরের ট্রাফিক মোড়ে জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার ১০জন সিএনজি-মাহিন্দ্র চালক শ্রমিকের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার সিএনজি-মাহিন্দ্র চালক শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের ঘোষিত নির্দেশনা ও নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। সাময়িক কষ্ট হলেও সরকারের নির্দেশে পুলিশ আপনাদের পাশে থেকে সহযোগিতা দিয়ে যাবে। তাই অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া গাড়ী বের না করে সরকারের নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানান জেলা পুলিশ সুপার। নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোবাশ্বের হোসেন ,সদর সার্কেল রেজা সরোয়ার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হক বাহাদুর,জেলা সিএনজি-মাহিন্দ্র চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আনিছ, আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম, উপদেষ্টা মাহাবুবুল করিম, মো: আনিচ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

জেলা সিএনজি-মাহিন্দ্র চালক শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপার্জিত টাকার একটি অংশ নিজস্ব তহবিলে জমা রাখা হয়। সেই টাকা চালক শ্রমিকদের যেকোনো বিপদে সহযোগিতা দেওয়া হয়। এবার করোনা ভাইরাসের কারণে চালক শ্রমিকরা সরকারের নির্দেশনা পালন করছে। পালন করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার ক্রমে হিমশিম হাচ্ছে। যার দরুণ সরকারের দিকে চেয়ে না থেকে আমাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ২০০জন সিএনজি-মাহিন্দ্র চালক শ্রমিকদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরো দেওয়া হবে। যদি কোনো কারণে লক ডাউনের সময় বেড়ে যায় তাহলে চালক শ্রমিকরা আরো বেশি বিপদের সম্মুখিন হবে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সেক্ষেত্রে সরকার ও সরকারি সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন সিএনজি-মাহিন্দ্র চালক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।