৩২,৮৮০ পরিবারে পৌঁছেছে খাদ্য সহায়তাঃ প্রধানমন্ত্রী সমীপে ডিসি রাঙ্গামাটি

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির ৩২ হাজার ৮শ ৮০টি পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, আমাদের রাঙামাটিতে একটি মেডিকেল কলেজ রয়েছে এবং এটিতে আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন জেলা প্রশাসক।

রাঙামাটিতে এখনো পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত কোনো রোগি আক্রান্ত হয়নি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষায় জেলা শহর থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত পৃথক কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট্য সকলের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত ১৯৭জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিলো ইতিমধ্যেই সময় শেষ হওয়ায় ১৫০ জনকে রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ছাত্রপত্র প্রদান করা হয়েছে এবং বর্তমানে রাঙামাটিতে ৪৩জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য বিধি, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বাজারে পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখাসহ হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধিসহ মাঠ পর্যায়ে কর্মরতদের নিয়ে সর্বোচ্চ উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এখানে জেলা সদর উপজেলা পর্যায়ে ১৫০টি আইসোলেশন বেডসহ সড়ক পথের জন্য ৪টি এ্যাম্বুলেন্স, নৌ-পথের জন্য ৪টি স্পীড বোট জরুরী রোগি আনা-নেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, বর্তমান সময়ে ঘরে বসে থাকা রাঙামাটিতে কর্মহীন শ্রমিক, দিন মজুরসহ অভাবী মানুষজনের ঘরে খাদ্যের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে এসব মানুষের প্রত্যেকের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি এখনো পর্যন্ত চলমান রয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতির তথ্য শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাঙামাটিতে করোনা রোগি না পাওয়ায় আমি খুশী হলাম। রাঙামাটিতে চলমান খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখুন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যারা হাত পেতে নেবে না, তাদের জন্য ১০টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রির আলাদা রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতে পারি আমরা। যাতে এসব পরিবারগুলো নিয়মিত চাউল কিনতে পারে।