জনসেবায় নিয়োজিত আছেন জামাল উদ্দীন

॥ ইকবাল হোসেন ॥

জনগনের সেবা করার ব্রত নিয়ে আমি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছি। তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আমাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে। আর এই জনগণের সেবা করতে গিয়ে আমার মৃত্যু হলেও কোন দুঃখ থাকবে না।

সিএইচটি টাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটি বলেছেন রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. জামাল উদ্দীন।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সর্বদা জনগনের সেবায় নিয়োজিত আছেন তিনি। ইতিপূর্বে, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জনসাধারণের জন্য সর্বদা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

প্রতিবারই ভিজিএফ এর কার্ডের চাউল বিতরণে ঘাটতি পড়লে নিজ উদ্যোগে বাদ পড়া পরিবারদের চাউলের ব্যবস্থা করে আসছেন। গত ঈদুল আযহার সময়ও ১০০টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ এর কার্ডের ঘাটতি পড়ায় তিনি নিজ খরচে ১ হাজার কেজি চাউল ক্রয় করে ১০কেজি করে তা পরিবার সমূহের মাঝে তা বিতরণ করেছেন।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনসাধারণের জন্য করা কার্যক্রম সম্পর্কে প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীন জানান, আমরা শুরুতেই পৌরসভার পক্ষ থেকে জনসচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। আমি ৭নং ওয়ার্ডের জন্য মেয়র মহোদয়ের পক্ষ থেকে ৬০০টি মাস্ক পেয়েছিলাম। তার সাথে নিজ খরচে আরো ১৪০০ মাস্ক কিনে মোট ২ হাজার মাস্ক ও জনসচেতনতা মূলক লিফলেট আমার ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়েছি।

এরপর পৌরসভার পক্ষ থেকে ৭নং ওয়ার্ডের জন্য ৩টি হাত ধোয়ার বেসিন পেয়েছি এর সাথে নিজ খরচে আরো ৮ বেসিন ক্রয় করে ১১টি স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করেছি। এছাড়াও ৪০টি স্থানে আমি নিজ উদ্যোগে বোতলের স্প্রে দিয়েছি। তাছাড়া আমি ৫টি স্প্রে মেশিন ক্রয় করেছি। তা দিয়ে আমার ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নিজে ও সেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে জীবাণুনাশক ছিঁটিয়েছি ও ছেঁটাচ্ছি।

এদিকে বিভিন্ন এলাকার লোকজনকেও তাদের পাড়া জীবাণুমুক্ত করার জন্য এই স্প্রে মেশিন সরবরাহ করে থাকি। আমি নিজ উদ্যোগে আমার ওয়ার্ডের জনসাধারণকে সচেতন করতে ১০টি ব্যানার বিভিন্ন স্পটে টাঙ্গিয়ে দিয়েছি।

ত্রাণ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, আমার এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস, রাঙামাটি পৌর এলাকার ১৪টি স-মিলের মধ্যে ৮টি আমার ওয়ার্ডে। রাঙামাটির ফার্নিচারের কারখানা ও শো-রুমের ৪ভাগের ৩ভাগই আমার ওয়ার্ডে। তাছাড়া ফিসারি শ্রমিকদের বিড়াট একটি অংশের বসবাসও আমার ওয়ার্ডে। এখানে আমার ভোটার ১০হাজার থাকলেও ভোটার না এমন ১৫হাজার মানুষের বসবাস করে। সকলের কথা বিবেচনা করে আমি আমার ওয়ার্ডে কর্মহীনদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ইতিপূর্বে পৌরসভার পক্ষ থেকে ৫০৫ জনের মধ্যে কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ দিয়েছি। এলাকা অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ বিষয়ে কয়েকটি এলাকা সম্পর্কে তিনি জানান, রসূলপুরে জেলা প্রশাসক মহোদয় ৫০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে গিয়েছেন।

এরপর আমি ও মসজিদ কমিটি মিলে আরো ৭১ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। শান্তিনগরে ৩২৮টি পরিবারের নাম তালিকাভুক্ত আছে যার মধ্যে ৩ ধাপে ১৭০ জনকে ত্রাণ দেয়া হয়েছে বাকিদের পর্যায়ক্রমে ত্রাণ দেয়া হবে। গর্জনতলীতে ৬৮ পরিবারের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ইতিপূর্বে ৫৫ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিরাও ধাপে ধাপে ত্রাণ পাবে। আমার ওয়ার্ডের অন্যান্য এলাকায় ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে পর্যায়ক্রমে সবাই ত্রাণ পাবে।

পরিশেষে তিনি বলেন, আমার ওয়ার্ডে সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরেও যদি ৫০০ বা ১ হাজার পরিবারও ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে আমি নিজ খরচে সবার বাসায় চাউল পৌঁছে দিবো। আমার ওয়ার্ডের কেউ চাউল পায়নি বলতে পারবে না।