এসএমএস পেয়ে খাদ্য সংকটে থাকা মধ্যবিত্তদের ঘরে ত্রাণ পৌছে দিচ্ছে ডিসি’র রেসপন্স টিম

॥ আলমগীর মানিক ॥

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কারখানা, শপিংমলসহ সকল ধরনের যানবাহন। প্রশাসনিক ব্যাপক তৎপরতার মাঝে অঘোষিত লক ডাউনে কার্যত অচল পড়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। এ অবস্থায় দেশের সবশ্রেণির মানুষের সমস্যা হলেও সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্তরা। নিম্নবিত্তরা সরকার ও অনেক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা পেলেও মধ্যবিত্তরা তা থেকে বঞ্চিত। এই শ্রেণির মানুষ লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতেও পারছেন না।

ইতিমধ্যেই বিষয়টি নজরে এসেছে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের। তারই প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ১১ সদস্যের ইর্মাজেন্সী রেসপন্স টীমের মাধ্যমে রাঙামাটি শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ঘরে ঘরে ত্রাণ সহায়তা পৌছে দেয়া হচ্ছে। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা এবং ফেসবুকের ইনবক্সে ম্যাসেজ পাওয়ার ঘন্টা খানেকের ভেতরে নীরবেই সংশ্লিষ্ট্য মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ঘরে পৌছে দেওয়া হচ্ছে চাল-ডাল, আলু, তেল-পেয়াঁজ এর বিশেষ প্যাকেট। কারো হাতে অথবা কারো কারো ঘরের দরজা রেখে এসে মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের কর্তাকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে আপনার দরজাটি খুলুন।

এমনিভাবেই একটি ফোন পেয়ে মঙ্গলবার রাতে ঘরের দরজা খুলেই জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের পাঠানো খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট পেয়ে চোখের কোনে আনন্দ অশ্রুর ফোটা বের হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠ পর্যায়ে পরিচালিত একটি প্রোগ্রামের এক কর্মচারির। শহরের এক কোনে বাসা এই কর্মচারী গত চারমাস যাবৎ বেতন পাননা। বিষয়টি স্থানীয় একজনের সাথে শেয়ার করে বর্তমান চলমান পরিস্থিতিতে বউ-বাচ্চা নিয়ে নিধারুণ কষ্টে চলার বর্ণনা দিয়েছিলেন। জানালেন, খুবই কষ্টে কাটছে তার প্রতিটি দিন। জীবনে কখনো কারো কাছে হাত পাতেননি। এদিকে তার অগোচরেই জেলা প্রশাসনের এনডিসি উত্তম কুমার দাশকে জানালে তিনি ইফা কর্মচারির মুঠোফোন নাম্বার সংগ্রহ করেন। রাতে উক্ত ব্যক্তির বসতঘরের দরজায় একটি খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট দিয়ে আসে ইর্মাজেন্সি রেসপন্স টীমের এক সদস্য। অপ্রত্যাশিতভাবে খাদ্য সহায়তা পেয়ে সাথে সাথেই ফোন করে কৃতজ্ঞা জানিয়ে বললেন, ভাই এই মুহুর্তে এই সাহায্য আমার জন্য কি পরিমান স্বস্তিদায়ক হয়েছে সেটা বলে বুঝাতে পারবোনা। জেলা প্রশাসকের এই ধরনের উদ্যোগের প্রতিদান আখিরাতে আল্লাহ নিজ হাতে যাতে দেন, নামাজ পড়ে সেই দোয়া করবেন বলেও জানালেন উক্ত ত্রান প্রাপ্ত ব্যক্তি।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের এনডিসি উত্তম কুমার দাশ জানান, জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার পরও অনেক সময় দরিদ্র কিংবা নিন্ম আয়ের লোকজনের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায় এবং লোক-লজ্জায় অনেকেই ত্রান সহায়তা থেকে নিজেদের বঞ্চিত রাখে। এই ধরনের লোকজনের নাম কখনো কন্ট্রোল রুম, সামাজিক মাধ্যম বা বিভিন্নভাবে জানানো হয় এধরনের লোকজনের বাসায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন এই ১১ সদস্য বিশিষ্ট ইর্মাজেন্সী রেসপন্স টীম গঠন করে। এরা সবাই জেলা প্রশাসনের মোটর বাইক চালক, যারা জরুরী প্রয়োজনে বাড়ীতে গিয়ে ত্রাণ পৌছে দিবে।

মঙ্গলবার রাতেই এই রেসপন্স টিমের মাধ্যমে রাঙামাটি শহরের ৮জনকে তাদের নিজ নিজ ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌছে দেওয়া হয়েছে। ইমার্জেন্সী এই রেসপন্স টিমের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন এনডিসি উত্তম কুমার দাশ। দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ প্রাপ্তি নিয়ে যখন মানুষ হা হুতাশ করে না পাওয়ার নানা অভিযোগ উত্থাপন করছে এমনিতর মুহুর্তে রাঙামাটি শহরে জেলা প্রশাসনের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে জরুরি রেসপন্স টীম গঠনকরে এবং অনেকেই অগোচরেই ঘরের দরজায় ত্রাণ পৌছে দেওয়ার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন অনেকে।