নিজ অর্থায়নে জনসেবায় পিছিয়ে নেই রোমান

॥ শহিদুল ইসলাম হৃদয় ॥

সারা দেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে চলছে অঘোষিত লকডাউন। করোনা ভাইরাসের কারণে পাহাড়ারে প্রায় হতদরিদ্র মানুষ কর্মহীন হয়ে পরায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে জনপ্রতিনিধিরাও। কিন্তু সদর উপজেলা পরিষদের কোন বরাদ্দ না থাকায় জনগনের ভোট দ্বারা নির্বাচিত রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান জনগনের পাশে দাঁড়াতে পারছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

জন্মসূত্রে রাঙামাটির কৃতি সন্তান হওয়ায় ও জনসাধারণ দ্বারা নির্বাচিত সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হওয়ার দরুন জেলার মানুষের এই দূর্দিনে ঘরে বসে থাকতে নারাজ রোমান। জেলা ও পাহাড়ারের দূর্গম এলাকায় কাঁধে জীবাণুনাশক স্প্রে ও হাতে হ্যান্ড মাইক হাতে নিয়ে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ঘুরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সিএইচটি টাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে রোমান বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে আমার জেলা রাঙামাটির বসবারত সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে রক্ষা করতে আমি নিজ উদ্যোগে প্রথমে জেলার প্রতিটি অলিতে গলিতে ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যেখানে সড়ক যোগযোগের ব্যবস্থা রয়েছে ঐ ইউনিয়ন সমূহে আমি জীবাণুনাশক পানি ছেঁটানোসহ যেহেতু রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশির ভাগ নৌ পথে তাই আমি স্ব শরীরে গিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে করেছি এবং করোনা সংক্রামন ঠেকাতে করনীয় সম্পর্কে সকলকে অবগত করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমি জনপ্রতিনিধি হিসাবে একজন জনপ্রতিনিধির যা যা দায়ত্ব আছে তা পালন করতে চেষ্টা করে যচ্ছি এবং আমার নিজ উদ্যোগে সদর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের হতদরিদ্র ৮০০ পরিবারের ঘরে ঘরে ত্রান সমগ্রী পৌঁছে দিয়ে এসেছি।

আমার এই কার্যক্রম যতদিন পর্যন্ত মহামারী দূর্যোগ থেকে আমার রাঙামাটির মানুষকে রক্ষা করতে না পারি আমি জনস্বার্থে কাজ করে যাবো প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক জনপ্রতিনিধির যে কাজ সেটি চালিয়ে যাবো। আমার প্রানের বিনিময়ে রাঙামাটি বাসীর একটি প্রাণও বাঁচে সেটিই হবে আমার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সফলতা এবং উপজেলাবাসী যে আমাকে নির্বাচিত করেছে সেটির স্বার্থকতা।

তিনি আরো বলেন, উপজেলা পরিষদের আইন সংশোধনের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি, আমাকে যদি বরাদ্দ দেওয়া হতো তাহলে আমি আমার সদর উপজেলা একটি হতদরিদ্র পরিবারেরও হাহাকার শুনতে হতোনা। আমি যেহেতু তাদের ভোটে নির্বাচিত সদর উপজেলা জনপ্রতিনিধি তদ্রুপ জনগনের এই দূঃসময়ে তাদের অপূর্ণতা পূরণ করতে পারতাম।

করোনা পরিস্থিতিতে রাঙামাটিতে অঘোষিত লকডাউনের ১৪ দিনে জেলা ও সদর উপজেলার জন্য নিজ উদ্যোগে রোমানের কয়েকটি উল্লেক্ষযোগ্য কার্যক্রম, তিনি (৩০ মার্চ) সোমবার বিকেল থেকে ট্রাক ভর্তি জীবাণুনাশক পানি নিয়ে শহরের মূল সড়ক ও অলিগলিতে স্প্রে করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। এদিকে (২এপ্রিল) বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কেইল্লামুড়া, সাপমারা পাহাড়, বাঙ্গালী পাড়াসহ বেশকিছু এলাকায় তিনি হাতে হ্যান্ডমাইক ও কাঁধে জীবাণুনাশক ভর্তি স্প্রে মেশিন নিয়ে জনগণকে সচেতন করেন। (৫ এপ্রিল) রবিবার দুপুর ১২টায় তিনি সরেজমিনে উপস্থিত থেকে নিজ খরচে পিকআপ ভ্যানে জীবাণুনাশক পানি নিয়ে কুতুবছড়ি বাজার ও এর আশেপাশের এলাকার সকল অলিগলিতে ছেঁটান তিনি। এছাড়াও তিনি হাতে হ্যান্ড মাইক নিয়ে বাজারের দোকনী, ক্রেতা ও এলাকাবাসীকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করেন ও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানান। (৬ এপ্রিল) সোমবার সকাল ১১ টায় তিনি মগবান ইউনিয়নের বরাদম বাজার ও আশপাশের এলাকার অলিগলিতে তিনি পিকআপ ভ্যানে করে জীবাণুনাশক পানি ছিঁটিয়ে জীবাণুমুক্ত করেন। এর পাশাপাশি তিনি নিজ কাঁধে স্প্রে মেশিন নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে করেন ও হ্যান্ড মাইকে সকলকে সচেতন করেন। আর জনসাধারণকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে না আসার আহ্বান জানান। এছাড়াও জনস্বার্থে কাজ করে যাওয়া অনেক কিছু প্রকাশ করতে রাজিনন তিনি।