ব্রেকিং নিউজ

জুরাছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকার খাদ্য সংকট নিরসনে হেলিকপ্টারে ত্রাণ পাঠাবে জেলা প্রশাসন

॥ আলমগীর মানিক ॥

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে রাঙামাটির জুড়াছড়ি উপজেলাধীন ভারত সীমান্তবর্তী দূর্গম দুমদুম্যা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে বসবাসরত ৬ শতাধিক পাহাড়ি এলাকাবাসীকে চরম খাদ্য সংকট থেকে রক্ষায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা পাঠাবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। আগামী দু’তিনদিনের মধ্যেই দুমদুম্যা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বড় কুড়াইদিয়া, ছোট কুড়াইদিয়া, কুন্ডাছড়া পাংখোয়া পাড়া, দুলুছড়ি, কুলুকপানিছড়া ৫নং ওয়ার্ডের বগাখালী, ৬নং ওয়ার্ডের আদিআবছড়া এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাঙামাটি রিজিয়নের সহায়তায় খাদ্য পৌছিয়ে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

জেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানাগেছে, ইতিমধ্যেই সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে জনসাধারণকে খাদ্য সংকট থেকে রক্ষায় বৃহস্পতিবার রাঙামাটি রিজিয়ন বরাবরে একটি পত্র (স্মারক নং-০৫.৪২.৮৪০০.১০২.০০৮.০০৩.২০২০-১৩৪) দিয়ে হেলিকপ্টার সহায়তা চেয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনের মাধ্যমে উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে নিশ্চিতও করা হয়েছে ইতোমধ্যে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩ তারিখের মধ্যেই যেকোন দিন হেলিকপ্টারের মাধ্যমে রাঙামাটি থেকে জুড়াছড়ির দুমদুম্যা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বগাখালি বিজিবি ক্যাম্পের হেলিপ্যাডে খাদ্য সহায়তার ত্রাণ সামগ্রী পৌছে যাবে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আগে কখনো এভাবে সাহায্য পাঠানো হয়নি। এবারই প্রথমবারের মতো রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের উদ্যোগে সেখানকার পাহাড়ি বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য সহায়তা পাঠানো হবে।

আরো পড়ুনঃ জুরাছড়ির দূর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলছে তীব্র খাদ্য সংকট

চরম এই সংকটময় মুহুর্তে ডিসির এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কালা চোগা তংচংঙ্গ্যা জানান, বর্তমানে বগাখালী এলাকায় চাউলের দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকা করে বিক্রি হলেও বেশির ভাগ সময় চাউল পাওয়া যাচ্ছেনা। জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগের ফলে আগামী অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত যদি খাবার যোগানো যায় তাহলে আর সংকটে পড়বেনা সেখানকার বাসিন্দারা। কারন ২০দিন পর সেখানকার জমিগুলো থেকে চাষের ধান গোলায় তুলবে স্থানীয়রা।

পার্শ্ববর্তী ভারতের ওপারে লকডাউন চলাসহ ক্ষেতের ধান গোলায় না ওঠায় এসব এলাকার পাহাড়ি জনগণ চরম খাদ্যকষ্টে রয়েছে। এধরনের পরিস্থিতির মুখে আগে কখনো পড়েনি সেখানকার বাসিন্দারা।

জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, দুমদুম্যা ইউনিয়নের সবচাইতে দূর্গম ও যোগাযোগহীন এই তিনটি ওয়ার্ড। ঐ এলাকায় কোনভাবে চাউল পৌছানো সম্ভব নয়, তাই হেলিকপ্টারের মাধ্যেমে চাউল পৌছানোর সম্ভাব্যতা নিয়ে জেলা প্রশাসক স্যারকে বিষয়টি জানাতেই তিনি দু’দিনের মধ্যেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৩/৪ তারিখের মধ্যেই স্থানীয় সকলেই খাদ্য সহায়থা পাবেন বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য, “জুরাছড়ির দূর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলছে তীব্র খাদ্য সংকট” এই শিরোনামে ২৯ এপ্রিল সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। উক্ত প্রতিবেদনেই সর্বপ্রথম জুরাছড়ির দূর্গম সীমান্তবর্তী দুমদুম্যা ইউনিয়নের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের তথ্য উঠে আসে।