ব্রেকিং নিউজ

অবশেষে বকেয়া কর আদায় হলো পৌরসভারঃ বেতন পেলো ৭৮ কর্মজীবি

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিএইচটি টাইমস২৪.কম এ সংবাদ প্রকাশের পর রাঙামাটি পৌরসভায় বকেয়া কর আদায় বেড়েছে। ইতোমধ্যেই পৌর সভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের বকেয়া পাওয়া পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে পৌর নাগরিকদের পাশাপাশি সরকারী ৪৭টি অফিসের কাছে সর্বমোট প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার পৌরকর বকেয়া থাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারছিলো না পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রথম শ্রেণীর হয়েও অর্থাভাবে গত দুই মাস ধরেই তাদের ৭৮জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারেনি এই প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে অনলাইন নিউজ র্পোটাল সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর বেশ কয়েকটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের বকেয়া পৌরকর পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন।

তিনি জানান, আমরা চলতি সপ্তাহে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া প্রায় ২৩ লাখ টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে নিজেদের সর্বোচ্চ বিলিয়ে দিয়ে কাজ করার পরে মাস শেষে যদি নিজেদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা না পায় তাহলে সবারই মন খারাপ হয়। বিষয়টি মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সরকারী সকল প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পৌরকর গুলো সময়মতো পরিশোধ করতো তাহলে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতাও সময়োনুসারে পরিশোধ করা যেতো।

এদিকে পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি কর্মহীন নাগরিকদের কথা চিন্তা করে আমরা আপাতত নাগরিকদের কাছ থেকে পৌরকর আদায়ে কোনো চাপ দিচ্ছিনা। কিন্তু সরকারী কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো আমাদের পৌরকর পরিশোধ করেনি। মেয়র বলেন, এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের পৌরবাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই আছেন বিত্তশালী। তারা এরকম একটা সময়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠির পাশেও দাঁড়াচ্ছেন না, আবার পৌরসভার করও দিচ্ছেন না। যদি এই মুহুর্তে বকেয়া পৌরকরগুলো পরিশোধ করা হয়, তাহলে আমরা পৌর কর্মচারিদের বেতন-ভাতা পরিশোধের পাশাপাশি পৌর এলাকার দরিদ্র নাগরিকদের মাঝে ত্রাণ সহায়তার পেছনেও এই টাকা ব্যয় করতে পারবো।

রাঙামাটি পৌরসভার অফিসিয়ালি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, রাঙামাটির প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ নাগরিকদের নিয়ে সর্বমোট করদাতা হলো ১৫ হাজার ২৪৫(হোল্ডিংধারী)। নিয়মানুসারে এসব হোল্ডিংধারী প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের এর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা পৌরকর আদায় হওয়ার কথা।

অফিসিয়ালী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন, গণপূর্ত ও গৃহায়ন, স্বরাষ্ট্র, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক, স্থানীয় সরকার, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ, সড়ক ও জনপথ অভ্যান্তরীণ সম্পদ, যুব ও ক্রীড়া, সমবায় ও পল্লী এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ রাঙামাটির সর্বমোট ৪৭টি সরকারি অফিসে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৭ টাকা পৌরকর বকেয়া ছিলো, তার মধ্যে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার পর ৩০ লাখ টাকার মতো বকেয়া পৌরকর আদায় হয়েছে বলে সূত্রে জানাগেছে। পৌরসভায় বসবাসকারি নাগরিকদের কাছে পৌরকর বাবদ পাওনা বকেয়া রয়েছে আরো অন্তত ২ কোটি টাকা। গত বছর রাঙামাটি পৌরসভায় সর্বমোট পৌরকর আদায় করেছিলেন প্রায় ৬ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত: গত ২১ এপ্রিল সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম অনলাইন নিউজ পোর্টালে “রাঙামাটির ৪৭ সরকারী অফিসে ২.২৮ কোটি টাকার কর বাকি, পৌরসভায় ২মাস বেতন বন্ধ” শিরোনামে খবর প্রকাশ করা হয়েছিলো। এই খবর প্রকাশের পর হতে সরকারী বেশ কয়েকটি অফিসের পক্ষ থেকে পৌরসভায় যোগাযোগ করে তাদের প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পৌরকর পরিশোধ করা হয়েছে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। এতে করে করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে বেতন বন্ধ অবস্থায় নিদারুন কষ্টে থাকা পৌরসভার ৭৮জন কর্মচারীকে তাদের পাওনা বকেয়া বেতনের প্রায় ২৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেন মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ও পৌরসভার নতুন দায়িত্ব পাওয়া মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন।

এনিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কর আদায় বেড়েছে জানিয়ে পৌরসভার কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ পৌর কর্তৃপক্ষ সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন।