ব্রেকিং নিউজ

নিষেধাজ্ঞার মাঝেও রাঙামাটিতে বহিরাগতদের ঢলঃ বাড়ছে উৎকন্ঠা

॥ আলমগীর মানিক ॥

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পুশইন করা হচ্ছে শ-শ মানুষকে। প্রতিদিনই ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম থেকে শয়ে শয়ে মানুষ ট্রাক নিয়ে বা বিভিন্ন অসুদপায় অবলম্বন করে দালালদের মাধ্যমে রাঙামাটি শহরসহ বাঘাইছড়ি-লংগদু, নানিয়ারচর উপজেলায় প্রবেশ করছে বলে তথ্য মিলছে। সোমবার দুপুরেও জেলার লংগদু উপজেলায় শতাধিক মানুষের আগমন ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রাকে ভর্তি করে এসব মানুষ এসেছে করোনার হট স্পট নারায়ণগঞ্জ থেকে। পেশায় ইটভাটা শ্রমিক এই মানুষগুলো ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে এতোগুলো চেকপোষ্ট পেরিয়ে কিভাবে রাঙামাটি সীমান্তে এলো এই প্রশ্ন এখন এখানকার প্রশাসনসহ সর্বস্তুরের মানুষের। এই ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাওয়া রাঙামাটির প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিস্মিতও হয়েছেন। এই ধরনের চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই রাঙামাটি জেলায় করোনা রোগীর দেখা মিলবে আর কমিউনিটি ট্রান্সমিশনও দ্রুতগতিতে ঘটবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গত কয়েকদিন রাঙামাটির বাঘাইছড়িতেই প্রবেশ করেছে প্রায় তিন হাজার কর্মজীবি শ্রমিক। উপজেলা প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট্য তালিকানুসারে ২ হাজার ৬শতাধিক লোক শুধুমাত্র বাঘাইছড়িতেই প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন পাহাড়ি পথে লংগদু ও নানিয়ারচরে প্রবেশ করেছে এক হাজারেরও অধিক মানুষ। জানাগেছে, রাঙামাটির জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারির কারনে রাউজান পর্যন্ত এসে অনেকেই কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়ন হয়ে রাঙামাটির ফুরোমুন পাহাড় বেয়ে খাগড়াছড়ি সড়কের উপর নামে। এখানকার পাহাড়িদের মধ্যে যারা পাহাড়ি পথ চেনে এমন একশ্রেণীর গাইডের মাধ্যমে জনপ্রতি দুই থেকে ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে জেলায় প্রবেশ করছে হাজারো মানুষ।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর(পিপিএম) জানিয়েছেন, রাঙামাটির পুলিশ সদস্যরা পালাক্রমে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন ২শতাধিক পুলিশ সদস্য করোনা পরিস্থিতিতে ৮ থেকে ১০ঘন্টা করে দায়িত্ব পালন করছে। সকলের মাঝে সচেতনতাবোধ না জাগলে আমরা বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্যরা রাতদিন পরিশ্রম করেও বিপদ থেকে মুক্ত রাখতে পারবো না।

অন্যদিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, নিজের অসুস্থ শরীর নিয়েও সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্ঠা করছি রাঙামাটিবাসীকে সুরক্ষিত রাখার। জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সার্বক্ষনিকভাবে মাঠে নিয়োজিত রেখেছি। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্টসহ সচেতনতাবৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ড এবং ত্রাণ সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

একটু অসচেতনতাবোধই আমাদেরকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত করতে পারে মন্তব্য করে জেলা প্রশাসক জানান, ইতিমধ্যেই আমরা প্রশাসনের সকল স্তরে কথা বলেছি এবং আরো কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি আগতরাও যদি একটু সচেতন হয় তাহলেই হয়তো আল্লাহর রহমতে আমরা রক্ষা পাবো বলেও মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক।

এদিকে, এসব আগত লোকজনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহের দাবি উঠলেও লোকবলের অভাবে এবং নির্দেশনা না থাকায় এসব মানুষজনের কাছ থেকে কোনো প্রকার নমুনা সংগ্রহও করছেনা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। যার ফলে এদের মধ্যে কার করোনা আছে বা নাই সেটা নিশ্চিত হতে পারছেনা কেউই। সংক্রামনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই সরকারিভাবে জারিকৃত এক জরুরী বিজ্ঞপ্তির (স্মারক নং-৩৫.০৩.০০০০.০০৪.০৭.০০২.১৮.২২) মাধ্যমে পণ্যবাহি গাড়িতে করে যাত্রী পরিবহন করা যাবেনা মর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের নির্দেশনামতে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।