রাজনীতিবিদ থেকে শিশু পর্যন্ত সবার ১ দাবীঃ পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ চাই

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল রাঙ্গামাটি জেলা। ৬১১৬.১৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দিক দিয়ে এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা।আয়তনে বড় হলেও স্বাস্থ্য খাতে করুণ ভাবে পিছিয়ে আছে জেলাটি। সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশের ন্যায় করোনার ছোবল থেকে নিস্তার পায়নি এই জেলা। আর প্রতিবারের মতো এবারো স্বাস্থ্যচিত্রের দুর্দশা পানির মতো স্বচ্ছ হয়ে যায় রাঙামাটিবাসীর কাছে। প্রায় ১ মাস ২৮ দিন করোনা মুক্ত থাকার পর ৬মে রাঙ্গামাটিতে প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়ে। এর ১১ দিনের মধ্যেই রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ এ! এদিকে নমুনা সংগ্রহের পর চট্টগ্রামে পাঠিয়ে রিপোর্ট আনতে খরচ হচ্ছে সপ্তাহের চেয়ে বেশি সময়। এতে বেড়ে যাচ্ছে ব্যাপক হারে সংক্রমণের আশংকা। আবার কেউ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে আইসিইউ’র অভাবে পাবে না সুচিকিৎসা। এমন অবস্থায় পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউর দাবী গণদাবীতে পরিণত হয়েছে।

চলতি মাসের ৮ তারিখ পাহাড়ের মহিলা সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি ফিরোজা বেগম চিনু প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে পিসিআর ল্যাবের দাবী জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিলে আরো গতি পায় এই গণদাবী। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, আমি জানি আমার এই লেখা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসলেই তিনি ব্যবস্থা নেবেন। তবে প্রয়োজনে তাঁকে এই ব্যাপারে নক করতে হবে। আমাদের জেলায় অনেক সংস্থা আছে, তাঁরা একটু ততপর হলেই আমরা একটি পিসিআর ল্যাব অবশ্যই পাবো।

তবে স্বপ্নবুননের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউর দাবী নতুন জোয়ার পায়। ১৭মে শনিবার রাত ৯.৩০ টায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নবুননের উদ্যোগে সচেতন জনগণ প্লেকার্ড হাতে পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউর দাবীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরে নিজেদের দাবী। রাজনীতিবিদ, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, গৃহীনী এমনকি ছোট ছোট শিশু পর্যন্ত একাত্মতা ঘোষণা করে ফেইসবুকে প্লেকার্ড নিয়ে ছবি পোস্ট করতে থাকে।

তাদেরই একজন পৌরসভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীন। তিনি বলেন, রাঙামাটি সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা এর পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চল হওয়ার ফলে দূর্গম অঞ্চলের মানুষ প্রায়ই চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিপাকে পড়ে থাকে। তাই রাঙামাটি পার্বত্য জেলা ও পৌরবাসীর সুবিধার্থে জনসাধারণের পাশাপাশি আমি সকলের জন্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী রাঙামাটির সংসদ সদস্য আমাদের অভিভাবক দীপংকর তালুকদার এমপির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখা হাসিনার কাছে পিসিআর ল্যাব স্থাপনসহ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। যেকোন পরিস্থিতিতে যেন রাঙামাটি বাসী সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবাটি পেতে পারে তাই সকলের সাথে একমত হয়ে আমিও এই দাবী জানাচ্ছি।

স্বপ্নবুননের সভাপতি নূর তালুকদার মুন্না জানায়, দূর্গম সব উপজেলা নিয়ে গঠিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটিতে অনেকদিন ধরেই উন্নত মানের চিকিৎসা সম্পন্ন হাসপাতাল এর দাবীতে সোচ্চার ছিলো রাঙামাটির জনসাধারণ, যার সাথে যুক্ত হলো করোনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবের চাহিদা। প্রয়োজন ছিলো শুধু এক হওয়ার জন্য একটা উদ্যোগ নেওয়া এবং সচেতনতা সৃষ্টি করা। দেশের বাইরে থেকে শুরু করে অনান্য অনেক জেলার মানুষ সহ রাঙামাটির সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য, প্যানেল মেয়র থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, গৃহীনী শিক্ষার্থী, ছোট ছোট কোমলবতী শিশু এতে অংশগ্রহণ করেছে। আশা করছি রাঙামাটিবাসীর দাবি শীগ্রই পূরন হবে।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, রাঙামাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো এবং নমুনা পরিক্ষার রিপোর্ট হাতে পেতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগছে যা খুবই দুঃখজনক। তাই রাঙামাটি বাসীর সুবিধার্থে আমাদের এই পার্বত্য জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবী জানাচ্ছি। আর এই পরিস্থিতিতে যদি কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় সে আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। এক্ষেত্রে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকার শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। তাই পুরাতন হাসপাতালটি অস্থায়ী ভিত্তিতে হলেও চালু করার জোর দাবী জানাচ্ছি।