ব্রেকিং নিউজ

রাঙ্গামাটিতে করোনা শনাক্তদের ৪০ভাগই জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ!

॥ সৌরভ দে ॥

দেশের একমাত্র করোনামুক্ত জেলার ‘দর্প’ চূর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। লাফিয়ে বাড়তে থাকা নতুন রোগীর সংখ্যা এখন রাঙ্গামাটিবাসীর কাছে তিক্ত বাস্তবতা। তবে শঙ্কার বিষয় হচ্ছে এই আক্রান্তদের প্রায় ৪০ ভাগই রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন কর্মচারী। এদিকে ওটি ইনচার্জ করোনা পজেটিভ হওয়ার প্রেক্ষিতে হাসপাতালের সকল প্রকার সার্জারি অপারেশন (ওটি) বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জেলার একমাত্র হাসপাতালের এমন অবস্থায় অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। ফলে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা যদি ব্যাহত হয়, তাহলে বহু মানুষের জীবন সংশয় তৈরি হতে পারে।

মোট শনাক্তের প্রায় ৪০ শতাংশই জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ!

রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন অফিসের হিসেব অনুযায়ী, জেলাটিতে এখনো পর্যন্ত ৩ জন ডাক্তারের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একজন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের। অন্যদিকে মোট ৮ জন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন।

সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল বুধবার সন্ধ্যায় জানান, শনাক্ত হওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ১৭ জন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ, তার মধ্যে আছেন ১ জন চিকিৎসক, ৮ জন নার্স, স্বাস্থ্য সহকারী ১ জন, আয়া ১ জন, এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ১ জন, স্টোর কিপার ১ জন, প্যাথোলজিস্ট ১ জন, এমএলএসএস ৩ জন।

যা জেলায় মোট শনাক্তের প্রায় ৪০ শতাংশ!

কিভাবে সংক্রমণ ছড়ালো?

কিভাবে সংক্রমণ ছড়ালো? এই প্রশ্নের উত্তর স্বয়ং সিভিল সার্জনের কাছেও নেই। সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা জানান, রাঙ্গামাটিতে করোনার উৎস খুঁজে পাওয়াটা খুবই দুষ্কর। কারণ আমরা এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের চতুর্থ ধাপে আছি, এই পরিস্থিতিতে মূল সোর্স খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। আমরা শনাক্ত হওয়া রোগীদের হিস্ট্রি ট্র্যাক করে নমুনা সংগ্রহ করছি আর তাতেই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

তবে তিনি এটিও জানান, জেনারেল হাসপাতালে এই ভাইরাস কোন ডাক্তার, নার্স বা হাসপাতালে কর্মরত অন্য কারো মাধ্যমে আসেনি। এটি অবশ্যই কোন রোগী বহন করে এনেছে।

তিনি জানান, ধরেন কোন রোগী পেট ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে আসলো যার মধ্যে কোন ধরণের করোনা উপসর্গ নেই। এইরকমি উপসর্গবিহীন কেউ আমাদের ইনফেক্ট করে গেছে।

সুরক্ষা উপকরণের মান!

সরকারের তরফ থেকে এ কথা বলা হচ্ছে যে সুরক্ষা উপকরণের কোন অভাব নেই এবং সব চিকিৎসাকর্মীদেরই পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ দেয়া হচ্ছে। রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালেও পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ রয়েছে কিন্তু সেগুলোর মান নিয়ে যথেষ্ঠ প্রশ্ন রয়েছে।

সিনিয়র একজন চিকিৎসক আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরেই হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট্য সকলেই পিপিই থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু তারপরও কেন ডাক্তার-নার্স, আয়ারা আক্রান্ত হচ্ছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সরকার থেকে যেসব পিপিই দেওয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত পাতলা এবং ওয়ান টাইম ইউজের জন্য। এই অবস্থায় হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন নতুন পিপিই সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে কিন্তু তা নেই। এমন অবস্থায় ডাক্তার-নার্সরা একই পিপিই জীবাণুমুক্ত করে একাধিকবার ব্যবহার করছেন।