ব্রেকিং নিউজ

করোনা সহায়তার অর্থ বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট’র বিরুদ্ধে

॥ আলমগীর মানিক ॥

প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণে রেড ক্রিসেন্টের ব্যাপারে বৈষম্য ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ তুলেছে ৭২ বছরের বৃদ্ধা। তার ভাষায় প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় ৫শ টাকা খরছ করে ৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করার পর আমাদেরকে যে ত্রাণ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার মূল্য যাতায়াত খরচের চেয়েও কম। তবে তিনি এও জানিয়েছেন, মুখ চেনা কাউকে কাউকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থও প্রদান করা হয়েছে। রাঙামাটির রেড ক্রিসেন্ট এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন প্রত্যন্ত নানিয়ারচর উপজেলার ৩নং বুড়িঘাট ইউনিয়নের আরো কয়েকজন বাসিন্দা।

বৈষম্যের শিকার বেশ কয়েকজন প্রতিবেদককে মুঠোফোনে এই অভিযোগ জানিয়েছেন। রেড ক্রিসেন্ট এর মতো আর্ন্তজাতিক একটি সংস্থা পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার অধিবাসীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে।এছাড়াও ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়টি অবহিত করা হয়নি উপজেলার জনপ্রতিনিধিদেরও। এতে করে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তবে এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিট লেভেল কর্মকর্তা নুরুল করিম এর। তিনি সদম্ভেই জানালেন, এটা ভিত্তিহীন কথাবার্তা। যাদেরকে আমাদের চোখে ভালো লেগেছে তাদেরকেই আমরা বাছাই করেছি। এখানে কোনো শ্রেণী বিভাজন করা হয়নি। তিনি বলেন, আমরা আমাদের থিমেই চলি, অন্য কারো থিমে চলিনা-আমার দৃষ্টি যেদিকে যাবে,সেদিকেই আমি চলি” বলেও মন্তব্য করেছেন ইউনিট লেভেল কর্মকর্তা।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় রেড ক্রিসেন্ট রাঙামাটি ইউনিট এর উদ্যোগে ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কার্যক্রমে উপজেলার সদরের ৬০জন(যাদের অনেকেই স্বচ্ছল) এর মাঝে নগদ ৪৫০০ টাকা করে দিয়েছে সংস্থাটি। একই ধরনের সহায়তার কথা বলে উপজেলার ৩নং বুড়িঘাট ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকার ৪২জনকে ডেকে আনা হয় বুড়িঘাটস্থ আমলকি পাড়া পুর্নবাসন বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে উপস্থিত হওয়া ৪২ জনের মাত্র চারজনকে নগদ সাড়ে ৪ হাজার দিয়ে বাকিদের সকলকে একটি করে ত্রাণের প্যাকেট ধরিয়ে দেওয়া হয়। যার মধ্যে ছিলো ৭.৫ কেজি চাল, ডাল-১ কেজি, তেল ১ লিটার, চিনি-১ কেজি, লবন-১ কেজি এবং সুজি ৫০০ গ্রাম।

নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে এনে এই ধরনের ত্রাণের প্যাকেট পেয়ে ক্ষুব্ধ হন অনেকেই। তাদের মধ্যে ৭২ বছর বয়সী বকুল বেগমসহ আরো কয়েকজন জানান লক ডাউনের মধ্যে ৫শ থেকে ৬শ টাকা মোটর সাইকেল রিজার্ভ করে এখানে এসেছিলাম নগদ টাকা দিবে সেগুলো দিয়ে এবারের ঈদের বাজার করবো এই আশায়। কিন্তু আমাদের যে ত্রাণে প্যাকেট ধরিয়ে দিলো সেগুলোতো গাড়ি ভাড়ার টাকার চেয়েও কম! এছাড়া কিছুকে টাকা দিলো, আর কিছুকে ত্রাণ দিলো” এতো বড় একটি সংস্থার এমন বৈষম্যমূলক নির্মম আচরন না করলেইতো হতো বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন।

এদিকে ত্রাণ বিতরনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নূন্যতম সমন্বয় করা হয়নি অভিযোগ করে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা ও ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জানান, উপজেলা ত্রাণ দিবে এই ধরনের কোনো তথ্য রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ একটি বারের জন্যেও জানায়নি। তাদের এই কর্মকান্ডের ফলে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে আমাদের।

ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে এতোদিন সুনামের সহিত কাজ করে আসলেও নানিয়ারচরে আর্ন্তজাতিক এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি সেখানকার দরিদ্র জনগোষ্ঠির সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সময়ে করোনার যাতাকলে পিষ্ট হওয়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটেখাওয়া মানুষজনের পাশে থাকার নামে তামাশা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা।

এদিকে রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট এর সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, আমাদের কিছু অতি উৎসাহি লাইফ মেম্বার ও প্রতিনিধিদের কারনে এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, যেখানে সেখানে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করা যায়না। তারপরও এই ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেটি আমি খেয়াল রাখবো।

এদিকে রেড ক্রিসেন্ট এর পক্ষ থেকে রাঙামাটি শহরেও প্রদত্ত সহায়তার অর্থ বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে জানাগেছে। কয়েকটি দোকানের মালিক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা ও নেতাদের নিজস্ব পছন্দের লোকদের নাম তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আসা অর্থ ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আর্ন্তজাতিক এই সংস্থাটির বিরুদ্ধে।