রাঙামাটির করোনাপঞ্জীঃ ৮ উপজেলায় আক্রান্ত ৫৬

॥ সিএইচটি টাইমস ডেস্ক ॥

নভেল করোনাভাইরাস। চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হওয়া এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ও অঞ্চলে। মহামারী ঘোষিত এই ভাইরাসে প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। ৬ মে রাঙ্গামাটিতে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এখানেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

২৬মে সকাল ৮টা পর্যন্ত রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রাঙামাটির ১০ টি উপজেলার মধ্যে ৮টিতে করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া গিয়েছে যার মধ্যে রাঙামাটি সদরেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪। অন্য উপজেলাগুলোর মধ্যে লংগদুতে ৪ জন, নানিয়ারচরে ১ জন, কাউখালীতে ৬ জন, কাপ্তাইয়ে ২ জন, রাজস্থলীতে ১ জন, বিলাইছড়িতে ২ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন করোনা আক্রান্ত রয়েছে। বাঘাইছড়ি ও বরকল এখনো এই ভাইরাস মুক্ত রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য হিসেবে রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল জানান, ২৫ তারিখ বিকাল পর্যন্ত নতুন করে ২৭ জনসহ মোট ৬০৩ জনের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। ৯২৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে যার মধ্যে ৭৭২টি রিপোর্ট সিএস অফিসের হাতে এসেছে, তবে এখনো ১৫৪টি রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।

তিনি জানান, শনাক্ত ৫৬ জনই মোটামুটি সুস্থ আছেন তারপরো ১১ জনকে হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। মূলত এই ১১ জনের মধ্যে কারো হালকা জ্বর বা কারো বাসায় মানুষ বেশি থাকায় তাদের আলাদা করে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সর্বপ্রথম করোনা আক্রান্ত ৪ জনের স্বজনদের মধ্যে শুধুমাত্র ৯ মাসের বাচ্চাটির পিতা ছাড়া বাকি সবার রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ এসেছে। বাচ্চাটির পিতার ২-৩ দফার রিপোর্ট এখনো পায়নি সিভিল সার্জন অফিস।

সোমবার, ২৫ মে 

রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিআইটিআইডি হতে ২ জনের রিপোর্ট আসে যাদের মধ্যে ১ জন করোনা পজেটিভ। উক্ত ব্যাক্তি লংগদু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী বলে জানা যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৬।

রবিবার, ২৪ মে 

সকালে সিভিল সার্জন অফিস থেকে সংশোধনী পাঠানো হয় যাতে উল্লেখ করা হয় ২৩ মে শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মধ্যে মানিকছড়ির ৩ জন পুলিশ কনস্টেবলের করোনা নেগেটিভ। চট্টগ্রাম থেকে রিপোর্ট পাঠানোর সময় কিছু সমস্যার কারণে এই ভুল হয় বলে জানায় সিভিল সার্জন অফিস। এই সংশোধনীর পর আক্রান্তের সংখ্যা কমে হয় ৫৩।

পরবর্তিতে রাত ১২টার পরে সিভাসু ও বিআইটিআইডি হতে ১৮ জনের রিপোর্ট আসে যাদের মধ্যে কাপ্তাই উপজেলা হতে ২ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় এবং বাকি ১৬ জনের করোনা নেগেটিভ আসে। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৫।

শনিবার, ২৩ মে 

রাত সাড়ে ১১টায় ও ১২টায় দুই দফায় রিপোর্ট আসে। প্রথম দফার ৩৬ জনের রিপোর্টে ২ জনের পজিটিভ আসে এবং বাকি ৩৪ জনের করোনা নেগেটিভ আসে। দ্বিতীয় দফায় ৪৬টি রিপোর্টে ৮টি পজিটিভ ও ৩৮টি নেগেটিভ আসে।

পজেটিভদের মধ্যে মানিকছড়ি চেকপোস্টের ৩ জন কনস্টেবল(পরদিনের সংশোধনীতে তাদের নেগেটিভ ঘোষণা করা হয়), পুলিশ লাইনের ১ জন বাবুর্চি, বেতবুনিয়া রাবার বাগান চেকপোস্টের ৩ জন কনস্টেবল, কাউখালীর এক মহিলা, রাঙামাটি শহরের টিএন্ডটি এলাকার এক বাসিন্দা ও লংগদুর ১জন সহ সর্বমোট ১০ জন করোনা শনাক্ত হয়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৬।

শুক্রবার, ২২ মে

এইদিন ্মধ্যরাতে ৩ জনের করোনা পজেটিভ আসে। বিআইটিআইডি এবং সিভাসু থেকে আসা মোট ৪৬টি রিপোর্টের মধ্যে ৩টি পজিটিভ এবং ৪৩টি নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। উক্ত ৩ জনের একজন রাঙামাটি সদরের, একজন নানিয়ারচর ও অপরজন কাউখালীর বাসিন্দা। রাঙামাটি শহরের আক্রান্ত ব্যক্তি শহরের এ্যালায়েন্স হাসপাতালের কর্মী বলে জানা যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৬।

মঙ্গলবার, ১৯ মে 

এইদিন রাঙ্গামাটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে বড় ধরণের উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যায়। মধ্যরাতে সিভাসু হতে আসা রিপোর্টে ১৭ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। আক্রান্তদের সবাই রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা। সূত্রমতে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে আক্রান্ত ১৭ জনের মধ্যে শহরের রায় বাহাদুর সড়ক এলাকায় ৩ জন, উত্তর কালিন্দীপুরে ৩ জন, জেনারেল হাসপাতালের ২ জন, রাজবাড়ি এলাকায়-১, রাঙাপানিতে-১, চক্রপাড়া এলাকায়-১, মানিকছড়িতে-১, কল্যাণপুরে ১, তবলছড়ির ওমদামিয়া পাহাড় এলাকায়-১, মাঝেরবস্তিতে ১জন, ম্যাজিষ্ট্রেট কলোনীতে ১ এবং বনরূপা এলাকার একজন বেসরকারি চিকিৎসক বলে জানা যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৩।

শনিবার, ১৬ মে 

এইদিন সন্ধ্যায় সিভাসু হতে পাওয়া রিপোর্টে রাঙামাটি শহরের টি এন্ড টি এলাকার ৪৬ বছর বয়সী একজন নার্সের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৬।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে 

এইদিন ২ দফায় আসা রিপোর্টে মোট ১১ জন করোনা শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ২ জন স্টাফ নার্স, রিজার্ভ বাজারের ২নং পাথরঘাটায় সর্বপ্রথম শনাক্ত ৯ মাস বয়সী শিশুর পিতা, জুড়াছড়ি উপজেলায় ৬ জন এবং লংগদু উপজেলায় ২জন (স্বামী-স্ত্রী)বলে নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন অফিস। শনাক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৮ বছরের মধ্যে।এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৫।

বুধবার, ১৩ মে 

এইদিন ডাক্তার-নার্স মিলিয়ে রাঙ্গামাটিতে মোট ৯ জন করোনা শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ৩২ বছর বয়সী একজন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, অপরজন ৪২ বছর বয়সী বেসরকারী চিকিৎসক, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ৪ জন নার্স, বিলাইছড়ির মা(৩১)-ছেলে-(১৩), রাজস্থলীর এক বাসিন্দা (৩৭) আছেন। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ১৪।

মঙ্গলবার, ১২ মে

এইদিন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫।

বুধবার, ৬ মে 

বাংলাদেশে করোনা হানা দেওয়ার ২ মাস পর সর্বপ্রথম এইদিন রাঙামাটিতে ৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। যারা সবাই রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা। তারা হচ্ছেন রিজার্ভ বাজারের পাথরঘাটা এলাকার ৯ মাস বয়সী শিশু, মোল্লাপাড়ার ৩৮ বছরের এক দিনমজুর, দেবাশিষ নগরের ১৯ বছরের এক যুবক, ৫০ বছরের রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের এক স্টাফ নার্স।