লুম্বিনীর ৫৪১ জন শ্রমিক কোয়ারেন্টাইনে!

॥ বান্দরবান সংবাদদাতা ॥

বান্দরবানে পোষাক কারখানার শ্রমিক’সহ আরও ২ জন করোনা পজেটিভ। এ ঘটনায় লুম্বিনী পোষাক কারখানা লকডাউন, পাশ্ববর্তী সব দোকান বন্ধ এবং কারখানার ৫৪১ জন শ্রমিকের হোম কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। সোমবার সন্ধ্যায় নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্টে শ্রমিকসহ ২ জনের করোনা সনাক্ত হওয়ার পর জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবানের মেঘলা পর্যটন এলাকায় লুম্বিনী পোষাক কারখানার একজন শ্রমিকের করোনা পজেটিভ আসে। সে সদরের মেঘলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। তার বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগড় এলাকায়। সনাক্তের পর রোগীকে এম্বুলেন্সে করে এনে সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

অপরদিকে জেলা শহরের স্বর্ণমন্দির এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকা একজন ফেরিওয়ালার করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়। তার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়। সে স্বর্ণমন্দির ব্রীজের পাশ্ববর্তী ভাড়া বাড়িতে থেকে বান্দরবান বাজারে বিভিন্ন পন্য  বিক্রি করত। সনাক্তের পর স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে রোগীকে পাটিয়া হাসপাতালে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে।

এদিকে সদরে পোষাক কারখানার শ্রমিকসহ ২ জন করোনা রোগী সনাক্তের খবরে বান্দরবান পৌরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় লুম্বিনী পোষাক কারখানা লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়াও কারখানার পাশ্ববর্তী সবগুলো দোকান বন্ধ এবং শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কারখানার ৫৪১ জন শ্রমিককে হোম কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করেছেন প্রশাসন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: শামিম হোসেন। এদিকে নতুন ২ জন’সহ জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যাটা বেড়ে দাড়ালো ১৯ জনে। তারমধ্যে ১০ জন রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা: অংসুই মারমা জানিয়েছেন, বান্দরবান পৌরসভায় প্রথম ২ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। জেলায় মোট ১৯ জন পজেটিভ সনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের মাধ্যমে নমুনা পাঠানো রোববারের সনাক্ত ২ জন বান্দরবানের করোনা রোগী নয়। তারা ঘুমধুমের ঠিকানা ব্যবহার করলেও তারা মূলত কক্সবাজারে চাকরী করে।