অনিশ্চয়তার মুখে জুরাছড়ির গরীব ও জুমচাষা পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন

॥ স্মৃতিবিন্দু চাকমা ॥

জুরাছড়ি উপজেলায় ২০১৭ সালে স্থাপিত হয় বেসরকারি শলক কলেজ। কলেজ স্থাপন হওয়ার পর ২০১৯ সালে চট্রগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরিদর্শন করা হয়। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রনালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি কলেজ -৬ শাখা বাংলাদেশ সচিবালয় কর্তৃক পাঠদানের অনুমতির জন্য চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্রগ্রামকে স্মারক নং ৩৭.০০.০০০০.০৭০.১৬.০০১.১৭.৬১ মূলে পত্র প্রেরণ করে।

বর্তমানে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের কারণে অদ্যবধি সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্তৃক পাঠদানের অনুমোদনের বিষয়ে কলেজ পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি বিধায় ২০২০-২০২১ শিক্ষা বর্ষে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তির অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। জুরাছড়ি উপজেলার জনগণ অধিকাংশ গরীব ও অসহায়, তাহাদের আর্থিক দৈন্যতার কারণে দেশের বিভিন্ন কলেজে ছেলেমেয়েদের পড়ার ইচ্ছা থাকার সত্বেও অনেকের ইতি টানতে হচ্ছে। তাই প্রত্যন্ত এলাকা হিসেবে এখানকার ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের স্বার্থে বিশেষ বিবেচনায় ২০২০-২০২১ শিক্ষা বর্ষে শলক কলেজে একাদশ শ্রেনীতে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি অনুমোদন লাভের জন্য কলেজ কর্র্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ঠ বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা থেকে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, এলাকার ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের স্বার্থে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ হইতে শলক কলেজে ছাত্রছাত্রী ভর্তি অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। তিনি আর জানান যে, অত্র এলাকার জনগণ অত্যন্ত গরীব ও অসহায় এবং বর্তমান নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের বিভিন্ন কলেজে গিয়ে পড়াশুনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই শলক কলেজে বিশেষ বিবেচনায় এলাকায় ছাত্র ছাত্রীরা যাহাতে শলক কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারেন, সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় তথা শিক্ষা বোর্ডের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেন।

জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান এর থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখানকার জনগণ অধিকাংশ গরীব ও জুমচাষের উপড় নির্ভরশীল। তাই প্রত্যন্ত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি ২০২০-২০২১ সালে শলক কলেজে একাদশ শ্রেনীর ভর্তির সুব্যবস্থা করে তাহলে এখানকার গরীব ছাত্রছাত্রীদের অনেকটাই উপকারে আসবে।