অঘোষিত লকডাউনে লক্ষ টাকার মালামাল গেল ইঁদুরের পেটে!

॥ শহিদুল ইসলাম হৃদয় ॥

সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করা নভেল করোনা ভাইরাস বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো হানা দিয়েছে বাংলাদেশে। দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সরকারের বিচক্ষণতায় দেশের মানুষকে ভাইরাসের মরণ ছোবল থেকে রক্ষা করতে সারা দেশে ২৬ মার্চ থেকে অঘোষিত লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে দেশের কর্মহীন মানুষের অচল হয়ে পরার হাহাকার দেখে ৩১ মে হতে সীমিত পরিসরে লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেন সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় সারা দেশের ন্যায় রাঙামাটিতেও সরকারি নিয়মকানুন মেনে চালু হয়েছে যান চলাচল তার সাথে খুলেছে শহরের সকল দোকানপাট।

এদিকে, সরকার ঘোষিত লকডাউনে প্রশাসনিক নির্দেশনায় নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য ও ফার্মেসীর দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকাতে দীর্ঘ ২ মাস পর অঘোষিত লকডাউন সীমিত পরিসরে শিথিল করার পর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ব্যতিত অন্যান্য ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এমন ঘটনার শিকার রাঙামাটি জেলা শহরের দোয়েল চত্ত্বর পুরাতন বাস স্টেশনের “সুমন ফাস্ট ফুড এন্ড টি হাউজ” এর মালিক সুমন। লকডাউনের ২ মাস শেষে দোকান খোলার পর কপাল চাপড়াতে দেখা গেছে এই দোকানীকে।

এসময় সিএইচটি টাইমসের প্রতিবেদক ঘটনা স্থলে উপস্থিত থাকায় তার কাছে প্রশ্নের তীর ছুড়ে মারার সাথে সাথে দোকান মালিক সুমন দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মনে বলে উঠলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে যখন সরকারি ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো ২৬ মার্চ হতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া অন্য সব দোকান পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই ঘোষনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি প্রথম দিনেই দোকান বন্ধ করে আমার দেশের বাড়ী চট্টগ্রামে পরিবার নিয়ে চলে যাই। পরবর্তীতে যখন আবার সরকার ঘোষণা দিয়েছে ৩১ তারিখ থেকে সীমিত পরিসরে সব ধরণের দোকান খুলা হবে, এটা শুনে আমি পুনরায় পরিবার নিয়ে় দেশের বাড়ী থেকে রাঙামাটিতে চলে আসি, আমার পরিবার নিয়ে এই দু’মাস অনেক কষ্টে জীবনযাপন করার পর আমার কর্মস্থল যেটা থেকে আমার পরিবারের সদস্য দের মুখে দুমুঠো খাবার ও ছেলেদের পড়ালেখার খরচ চালাই। আমার কুলিং কর্ণার খুলতেই দেখি দোকানের সব মালামাল ইঁদুর কেটে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে বিক্রয় ও কোম্পানি ফেরত অযোগ্য করে রেখেছে। কিছু মালামাল ভালো ছিলো তা দিয়ে কোনোরকম ব্যবসা আবার সচল করেছি।

তেল, সাবান, বিস্কুট, চিপস, চকলেট, কোমল পানিয় ইত্যাদি যাবতীয় পণ্য হিসাব করে অন্তত ১ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছন “সুমন ফাস্ট ফুড এন্ড টি হাউজ” এর মালিক সুমন।