করোনা হতে বাঁচতে অনুসরণ করুন এসএমএস থিওরি!

ভেবে দেখেছেন?
দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ১ম ১০ হাজার ৫৪ দিনে
১০-২০হাজার ১১ দিনে
২০-৩০ হাজার ৭ দিনে
৩০-৪০ হাজার ৬ দিনে
৪০-৫০ হাজার ৫ দিনে
এখন ভেবে দেখুন কি হতে যাচ্ছে আগামী কয়েকটি দিন!!

এতোদিন বহির্বিশ্বের অপরিচিত মানুষের মৃত্যুর মিছিল দেখেছেন। এই কয়দিনে নিশ্চয়ই দেশের ভেতরেই পরিচিত কারো আক্রান্ত কিংবা মৃত্যুর খবর পেতে শুরু করেছেন তাইনা?
যখন বহির্বিশ্বে মৃত্যুর হোলিখেলা চলছে তখন আমরা গুরুত্ব দেইনি। আমরা অপেক্ষায় ছিলাম আগে আসুক তারপর মেহমানদারী করবো। তখন গুরুত্ব দিয়ে যদি আর কয়দিন আগে পোর্ট এবং বর্ডার গুলো সিল করে দিতো তাহলে আজ দেশের এই পরিস্থিতি হতোনা। বরং আমরা করোনামুক্ত দেশ হিসেবে বহির্বিশ্বে খাদ্য বস্ত্র চিকিৎসা এবং নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিকে নিয়ে যেতে পারতাম ঈর্ষনীয় উচ্চতায়। আমাদের আমলারা এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণের সময় পায়নি।
আকেরটি বিষয় কি খেয়াল করেছেন? লকডাউন শুরু হওয়ার প্রথম সপ্তাহ দশদিন অথবা দেশে মাত্র দুই চার কিংবা দশজন আক্রান্ত রোগী ছিলো তখন আমাদের সতর্কতা ছিলো বলা যায় নির্বাচনী উৎসবমুখর! রাস্তাঘাটে মাঠ-ক্ষেতে পাড়া মহল্লা বাড়িতে বাড়িতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ এইটা সেইটা বিতরণ; রাস্তাঘাট ধুয়ে মুছে সাফ। অথচ এখন সরকারি ঘোষণাতেই পঞ্চান্ন হাজার ছাড়িয়ে গেছে- কিন্তু এই সময়ে আর সেইসব দেখা যাচ্ছেনা। এখন দেখা যাচ্ছে ইপিজেড লঞ্চঘাট রেল স্টেশন বাস স্টেশন গুলো লোকে লোকারণ্য!! অন্যদিকে পর্যাপ্ত আইসিইউ কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই; অপ্রতুল পরীক্ষাগারে অপ্রতুল জনবল সহ অপ্রতুল অপ্রতুল কলরব! বুঝতে পারছেন? চট্টগ্রামে দেশের অন্যতম শীর্ষ ধনী কিংবা চিকিৎসক মারা গিয়েও আমাদেরকে কিছু শিখিয়ে বা দেখিয়ে যেতে পেরেছে বলে মনে হয়না। পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের চিকিৎসা সেবার প্রাণকেন্দ্রে একজন চিকিৎসক নিজ কর্মস্থলে একটু অক্সিজেন পায়নি। তাহলে মফস্বল বা গাঁও-গ্রামের মানুষ যথাযথ চিকিৎসা পাবে আশা করেন? আমি করিনা।

তবুও বাঁচতে হবে; বাঁচার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আসুন সচেতন হই। নিজ নিজ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের কাঁধে দায়িত্বশীলভাবে নিন। যে আপনি এক কথায় মুখস্থ বলে ফেলেন – পরিবারের জন্য যুদ্ধ করছি; সেই আপনিই তাদের আক্রান্ত হওয়ার মাধ্যম হয়ে যাবেননা। এখন সব কিছুই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কি আদৌ কিছু করার আছে? কিছুই করার নেই। এখন আপনার নিজের এবং প্রিয়জনদের নিরাপত্তা আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে।
বাইরের লকডাউন শেষ, এবার নিজের লকডাউন শুরু করুন। নিয়মগুলো মেনে চলুন, নিরাপদ থাকুন।

একটি স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি কিংবা টিকা আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আরো দ্বিগুণ সাবধান হোন। সর্বক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে রাখুন। সাথে সবসময় স্যানিটাইজার রাখুন। মোবাইল ব্যাবহারে সতর্ক হউন। পাবলিক প্লেস এবং ট্রান্সপোর্টে ভিড় এড়িয়ে চলুন। বাড়ির বাইরের খাওয়া এভয়েড করুন। প্রয়োজনে তার পরিবর্তে সাথে শুকনো হাই ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, শুকনো ফল রাখুন, নিজের পানির বোতল আলাদা করুন। দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সঠিক খাদ্যাভাসে নিয়ম আনুন। হাট বাজারে অপ্রয়োজনীয় লোকসমাগম এড়িয়ে চলুন; টাকা লেনদেনে / হাত বদলে অধিক সতর্ক হউন। কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করুন। যেখানে সেখানে আড্ডা, দাঁড়ানো, হেলান দেওয়া , বসা, কনুইএ ভর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কাপড় নিয়মিত ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিস্কার করুন।ঘড়ি, আংটি, জুয়েলারী ব্যাবহার বাদ দিন।

যথাযথ ভাবে মাস্ক পড়া এবং হাত নিয়মিত পরিস্কার করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপদ থাকতে পারেন। মাস্ক ঢিলেঢালা ভাবে না পড়ে অবশ্যই সঠিকভাবে পরিধান করুন। থুতনির নিচে মাস্ক ঝুলিয়ে না রেখে- নাক মুখ থুতনি ঢেকে রাখুন। কাপড়ের মাস্ক রোজ পরিস্কার করুন। মাস্কের সাথে ফেস শিল্ড ব্যবহার করুন। ফেস শিল্ড ব্যবহারের ফলে নিরাপত্তার পাশাপাশি মুখে হাত লাগানোর প্রবনতা নব্বই ভাগ কমে যাবে।

আরেকটি বিষয় না বল্লেই নয়; কোন প্রতিবেশী আক্রান্ত হলে তাকে হেয় বা নির্যাতন না করে যথাযথ নিয়মে সাহায্য করুন; সামাজিক দূরত্বের কথা বলে অসামাজিক হবেননা। আমরা দেখেছি উত্তরার মতো শিক্ষিত সচেতন সমাজে করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ মিছিল হয়েছে অথচ এখন উত্তরার মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল খুঁজে খুঁজে কান্না করে; দেশের আনাচে কানাচে সবাই চিকিৎসা কেন্দ্র চায়। আমরা দেখেছি ফেনীর একজন মানুষকে নিজ পরিবারের মানুষেরা কিভাবে গৃহবন্দী করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি বয়োবৃদ্ধ মানুষ গুলো এখন কিভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। এগুলো সচেতন শিক্ষিত মানুষের বৈশিষ্ট্যতো নয়-ই; মানবীয় বৈশিষ্ট্যের উদাহরণও হতে পারেনা। এই যে পরিচিত মানুষজনের আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পাওয়া শুরু হয়েছে – সেটা আগামীকাল আপনার ঘরেই এসে মিলতে পারে! তখন কি পারবেন অসামাজিক হয়ে তাকেও হেয় অথবা অত্যাচার করতে? আসুন সচেতন এবং দায়িত্বশীলভাবেই মানবিক হই। অসহায় মানুষকে সাহায্য করুন। সম্পদ সাথে যাবেনা। হালাল সম্পদ দুনিয়ায় ফেলে গেলে তার হিসাব দিতে হবে আর হারাম হলেতো কথাই নেই।

পরিশেষে একটি ছোট্ট পদ্ধতি বলি; করোনা থেকে বাঁচতে চাইলে সর্বাত্মক এসএমএস ফলো করুন। এসএমএস মানে হলো- স্যানিটাইজ, মাস্ক এবং সোশ্যাল ডিসট্যান্স। এই এসএমএস ই নিরাপত্তার মূলমন্ত্র।

লেখক – এম. জহির  বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কর্মরত
এবং সভাপতি, পার্লামেন্টারি পিএ এসোসিয়েশন।