করোনাপঞ্জীঃ রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকের চেয়ে বেশী সুস্থ!

॥ সিএইচটি টাইমস ডেস্ক ॥

নভেল করোনাভাইরাস। চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হওয়া এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ও অঞ্চলে। মহামারী ঘোষিত এই ভাইরাসে প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। ৬ মে রাঙ্গামাটিতে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এখানেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। রাঙ্গামাটিতে করোনা হানা দেওয়ার প্রথম মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ঠেকে ৬১তে।

৬ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রাঙামাটির ১০ টি উপজেলার মধ্যে ৮টিতে করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন যার মধ্যে রাঙামাটি সদরেই আছেন ৩৭ জন। অন্য উপজেলাগুলোর মধ্যে লংগদুতে ৫ জন, নানিয়ারচরে ১ জন, কাউখালীতে ৭ জন, কাপ্তাইয়ে ১১ জন, রাজস্থলীতে ১ জন, বিলাইছড়িতে ২ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন শনাক্ত হয়েছে। বাঘাইছড়ি ও বরকল এখনো এই ভাইরাস মুক্ত রয়েছে।

শনিবার, ৬ জুন

এইদিন বিকালে নতুন করে আরো ৯ জনকে সুস্থ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন অফিস। নতুন করোনাজয়ীদের সবাই রাঙামাটি সদরের বাসিন্দা। ৯ জনের মধ্যে ১ জন বেসরকারি ডাক্তার ও ২ জন স্বাস্থ্যকর্মীও আছেন। বিকালে বিআইটিআইডি হতে আসা উক্ত ৯ জনের তৃতীয় দফার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এতে করে আক্রান্ত ৭০ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ৪১ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক এইদিন পর্যন্ত রাঙামাটি থেকে সর্বমোট ১২৭০টি সংগৃহিত নমুনা চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে(সিভাসু) এবং ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে রাঙামাটির সিভিল সার্জন অফিস। তারমধ্যে ১০৫৮টি পরীক্ষার রিপোর্ট রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগে আসলেও এখন পর্যন্ত ২১২ টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পর্যন্ত হাতে পায়নি রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৪২ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ৪১ জন, আইসোলেশনে আছেন ৮ জন।

শুক্রবার, ৫ জুন

এইদিন সকালে নতুন করে আরো ৯ জনকে সুস্থ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন অফিস। নতুন করোনাজয়ীদের মধ্যে রাঙামাটি সদর থেকে আছেন ৭ জন ও লংগদু থেকে ২ জন।

এতে করে আক্রান্ত ৭০ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ৩২ জন।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন

এইদিন সকাল ৯টায় সিভাসু হতে আসা ১৩টি রিপোর্টের মধ্যে ১টি করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। নতুন শনাক্ত করোনা রোগী কাপ্তাইয়ের বাসিন্দা। আবার মধ্যরাতে বিআইটিআইডি হতে আসা ৪১টি রিপোর্টের মধ্যে ১টি করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। যিনি রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক বাসিন্দা।

এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ এ।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মোতাবেক এইদিন পর্যন্ত রাঙামাটি থেকে সর্বমোট ১২০৮টি সংগৃহিত নমুনা চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে(সিভাসু) এবং ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে রাঙামাটির সিভিল সার্জন অফিস। তারমধ্যে ১০২০টি পরীক্ষার রিপোর্ট রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগে আসলেও এখন পর্যন্ত ১৮৮ টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পর্যন্ত হাতে পায়নি রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৩৩ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ২৩ জন, আইসোলেশনে আছেন ১১ জন।

মঙ্গলবার, ২ জুন

এইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে নতুনভাবে ১৩ জনকে সুস্থ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন অফিস। নতুনভাবে সুস্থ ঘোষিত ১৩ জনের মধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ১ জন ডাক্তার, ১ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ১ জন আয়া ও তিনজন নার্সসহ সদর থেকে ৭ জন রয়েছেন। বাদ বাকি ৬ জন জুরাছড়ির বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল।

এতে করে আক্রান্ত ৬৮ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ২৩ জন।

এদিকে ২০৩ জনকে কোয়ারেন্টাইন মুক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৩০৯ জন, আইসোলেশনে আছেন ১১ জন।

সোমবার, ১ জুন

জুন মাসের প্রথম দিনে নতুন ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়। এইদিন রাতে বিআইটিআইডি ও সিভাসু হতে মোট ৫৯টি রিপোর্ট আসে যার মধ্যে ৭টি করোনা পজেটিভ। আক্রান্ত ৭ জনের মধ্যে ৯ বছর বয়সী এক শিশুসহ তিনজন পুুরুষ এবং ৪ জন নারী রয়েছে। উক্ত ৭ জনের মধ্যে ২ জন কাপ্তাই নৌবাহিনীর সদস্য এবং ৪ জন মহিলা তাদের পরিবারের সদস্য। বাকি একজন কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী।

এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮তে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মোতাবেক ওইদিন পর্যন্ত রাঙামাটি থেকে সর্বমোট ১১০৩টি সংগৃহিত নমুনা চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) এবং চট্টগ্রাম ভেটেনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে(সিভাসু) পাঠিয়েছে রাঙামাটির সিভিল সার্জন অফিস। তারমধ্যে ৮৯৭টি পরীক্ষার রিপোর্ট রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগে আসলেও এখন পর্যন্ত ২০৬ টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পর্যন্ত হাতে পায়নি রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

রবিবার, ৩১ মে

তিনদিন পর বিআইটিআইডি হতে রিপোর্ট পায় সিভিল সার্জন অফিস। দুপুর ৩টায় আসা রিপোর্টে কাউখালীতে একজন নারী (৪০) ও লংগদুতে একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের (৩০) করোনা পজেটিভ আসে। একইদিন মধ্যরাতে আসা রিপোর্টে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরো ১ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সিভাসু হতে আসা ৪ জনের রিপোর্টে উক্ত নার্সের (৩০) করোনা পজেটিভ আসে। তিনি রাঙামাটি শহরের রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১তে।

সিভিল সার্জন অফিস হতে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক রাঙ্গামাটিতে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৪২ জন, আইসোলেশনে আছেন ৯ জন, সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এখনো পর্যন্ত ১০১৮টি নমুনা পাঠিয়েছেন তাঁরা যার মধ্যে হাতে পেয়েছেন ৮৩৮ টি, এখনো ১৮০টি রিপোর্ট অপেক্ষমান।

শনিবার, ৩০ মে

এইদিনও চট্টগ্রাম হতে নতুন কোন রিপোর্ট আসেনি। তবে ৬০টি স্যাম্পল সংগ্রহ করে পাঠিয়েছে রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস। এই ৬০টি বিভিন্ন উপজেলায় শনাক্ত রোগীদের ফলোআপ এবং তাদের সংস্পর্শে আসাদের স্যাম্পল। বিআইটিআইডিতে বর্তমানে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ থাকায় নতুন রিপোর্ট আসছে না বলে জানান সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল। তিনি জানান, আমরা নতুন কারো স্যাম্পল কালেক্ট করছি না। বিআইটিআইডিতে টেস্টিং শুরু হলে তবেই আমরা নতুন স্যাম্পল কালেকশনে নামবো।

এদিকে সিভিল সার্জন অফিস হতে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক রাঙ্গামাটিতে মোট করোনা শনাক্ত ৫৮ জন, কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৪৭ জন, আইসোলেশনে আছেন ৯ জন, সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এখনো পর্যন্ত ১০১৮টি নমুনা পাঠিয়েছেন তাঁরা যার মধ্যে হাতে পেয়েছেন ৮৩২টি, এখনো ১৮৬টি রিপোর্ট অপেক্ষমান।

শুক্রবার, ২৯ মে

২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রাম হতে নতুন কোন রিপোর্ট হাতে পায়নি রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস। নতুন কোন নমুনাও পাঠাননি তাঁরা। তবে ৮জনকে কোয়ারেন্টাইন মুক্ত করা হয়েছে, বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৮১ জন।

সিভিল সার্জন অফিস হতে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক রাঙ্গামাটিতে মোট করোনা শনাক্ত ৫৮ জন, আইসোলেশনে আছেন ৯ জন, সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এখনো পর্যন্ত ৯৫৮টি নমুনা পাঠিয়েছেন তাঁরা যার মধ্যে হাতে পেয়েছেন ৮৩২টি, এখনো ১২৬টি রিপোর্ট অপেক্ষমান।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে

টানা ২ দিন পর সিভাসু হতে রিপোর্ট হাতে পায় রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস। উক্ত রিপোর্টে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্স ও কাপ্তাই আনসার ব্যাটেলিয়নের এক সদস্যের করোনা আক্রান্তের তথ্য পাওয়া যায়। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮তে।

এইদিনেই ২য় ও ৩য় রিপোর্ট নেগেটিভ আসার কারণে রাঙামাটি সদরে আক্রান্ত একজন বেসরকারী চিকিৎসক ও জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে সুস্থ ঘোষণা করে রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস। সিভিল সার্জন অফিস আরো জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৯৫৮টি নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন তাঁরা, যার মধ্যে ৮৩২টির ফলাফল হাতে পেয়েছেন। ফলাফল অনুযায়ী রাঙ্গামাটিতে ৫৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন, সুস্থ হয়েছেন ১০ জন, আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৯ জনকে। তবে এখনো পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি।

বুধবার, ২৭ মে

আক্রান্ত ৫৬ জনের মধ্যে আরো ৩জনকে সুস্থ ঘোষণা করেছে সিভিল সার্জন অফিস। এই তিনজনের ১ জন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ নার্স বাকি দুইজন বিলাইছড়ির বাসিন্দা। এই তিনজনেরই ২য় ও ৩য় দফা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন বিলাইছড়ি হতে শনাক্ত ২জনই সুস্থ। এতে জেলার সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জন।

তিনি আরো জানান, আমরা লংগদুতে আইসোলেশনে থাকা ২জনকেও রিলিজ করে বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের ২জনের ২য় দফা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তাদের আর আইসোলেশনে থাকার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৯ জন।

সকাল ৮টা পর্যন্ত সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ৩৫জনের রিপোর্ট এসেছে যাদের সবাই করোনা নেগেটিভ। নতুন কারো নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো না হলেও ২২ জনকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সোমবার, ২৫ মে 

রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিআইটিআইডি হতে ২ জনের রিপোর্ট আসে যাদের মধ্যে ১ জন করোনা পজেটিভ। উক্ত ব্যাক্তি লংগদু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী বলে জানা যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৬।

রবিবার, ২৪ মে 

সকালে সিভিল সার্জন অফিস থেকে সংশোধনী পাঠানো হয় যাতে উল্লেখ করা হয় ২৩ মে শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মধ্যে মানিকছড়ির ৩ জন পুলিশ কনস্টেবলের করোনা নেগেটিভ। চট্টগ্রাম থেকে রিপোর্ট পাঠানোর সময় কিছু সমস্যার কারণে এই ভুল হয় বলে জানায় সিভিল সার্জন অফিস। এই সংশোধনীর পর আক্রান্তের সংখ্যা কমে হয় ৫৩।

পরবর্তিতে রাত ১২টার পরে সিভাসু ও বিআইটিআইডি হতে ১৮ জনের রিপোর্ট আসে যাদের মধ্যে কাপ্তাই উপজেলা হতে ২ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় এবং বাকি ১৬ জনের করোনা নেগেটিভ আসে। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৫।

শনিবার, ২৩ মে 

রাত সাড়ে ১১টায় ও ১২টায় দুই দফায় রিপোর্ট আসে। প্রথম দফার ৩৬ জনের রিপোর্টে ২ জনের পজিটিভ আসে এবং বাকি ৩৪ জনের করোনা নেগেটিভ আসে। দ্বিতীয় দফায় ৪৬টি রিপোর্টে ৮টি পজিটিভ ও ৩৮টি নেগেটিভ আসে।

পজেটিভদের মধ্যে মানিকছড়ি চেকপোস্টের ৩ জন কনস্টেবল(পরদিনের সংশোধনীতে তাদের নেগেটিভ ঘোষণা করা হয়), পুলিশ লাইনের ১ জন বাবুর্চি, বেতবুনিয়া রাবার বাগান চেকপোস্টের ৩ জন কনস্টেবল, কাউখালীর এক মহিলা, রাঙামাটি শহরের টিএন্ডটি এলাকার এক বাসিন্দা ও লংগদুর ১জন সহ সর্বমোট ১০ জন করোনা শনাক্ত হয়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৬।

শুক্রবার, ২২ মে

এইদিন ্মধ্যরাতে ৩ জনের করোনা পজেটিভ আসে। বিআইটিআইডি এবং সিভাসু থেকে আসা মোট ৪৬টি রিপোর্টের মধ্যে ৩টি পজিটিভ এবং ৪৩টি নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। উক্ত ৩ জনের একজন রাঙামাটি সদরের, একজন নানিয়ারচর ও অপরজন কাউখালীর বাসিন্দা। রাঙামাটি শহরের আক্রান্ত ব্যক্তি শহরের এ্যালায়েন্স হাসপাতালের কর্মী বলে জানা যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৬।

মঙ্গলবার, ১৯ মে 

এইদিন রাঙ্গামাটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে বড় ধরণের উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যায়। মধ্যরাতে সিভাসু হতে আসা রিপোর্টে ১৭ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। আক্রান্তদের সবাই রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা। সূত্রমতে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে আক্রান্ত ১৭ জনের মধ্যে শহরের রায় বাহাদুর সড়ক এলাকায় ৩ জন, উত্তর কালিন্দীপুরে ৩ জন, জেনারেল হাসপাতালের ২ জন, রাজবাড়ি এলাকায়-১, রাঙাপানিতে-১, চক্রপাড়া এলাকায়-১, মানিকছড়িতে-১, কল্যাণপুরে ১, তবলছড়ির ওমদামিয়া পাহাড় এলাকায়-১, মাঝেরবস্তিতে ১জন, ম্যাজিষ্ট্রেট কলোনীতে ১ এবং বনরূপা এলাকার একজন বেসরকারি চিকিৎসক বলে জানা যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৩।

শনিবার, ১৬ মে 

এইদিন সন্ধ্যায় সিভাসু হতে পাওয়া রিপোর্টে রাঙামাটি শহরের টি এন্ড টি এলাকার ৪৬ বছর বয়সী একজন নার্সের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৬।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে 

এইদিন ২ দফায় আসা রিপোর্টে মোট ১১ জন করোনা শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ২ জন স্টাফ নার্স, রিজার্ভ বাজারের ২নং পাথরঘাটায় সর্বপ্রথম শনাক্ত ৯ মাস বয়সী শিশুর পিতা, জুড়াছড়ি উপজেলায় ৬ জন এবং লংগদু উপজেলায় ২জন (স্বামী-স্ত্রী)বলে নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন অফিস। শনাক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৮ বছরের মধ্যে।এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৫।

বুধবার, ১৩ মে 

এইদিন ডাক্তার-নার্স মিলিয়ে রাঙ্গামাটিতে মোট ৯ জন করোনা শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ৩২ বছর বয়সী একজন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, অপরজন ৪২ বছর বয়সী বেসরকারী চিকিৎসক, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ৪ জন নার্স, বিলাইছড়ির মা(৩১)-ছেলে-(১৩), রাজস্থলীর এক বাসিন্দা (৩৭) আছেন। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ১৪।

মঙ্গলবার, ১২ মে

এইদিন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫।

বুধবার, ৬ মে 

বাংলাদেশে করোনা হানা দেওয়ার ২ মাস পর সর্বপ্রথম এইদিন রাঙামাটিতে ৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। যারা সবাই রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা। তারা হচ্ছেন রিজার্ভ বাজারের পাথরঘাটা এলাকার ৯ মাস বয়সী শিশু, মোল্লাপাড়ার ৩৮ বছরের এক দিনমজুর, দেবাশিষ নগরের ১৯ বছরের এক যুবক, ৫০ বছরের রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের এক স্টাফ নার্স।