অন্তঃকোন্দলের বলিঃ ইউপি চেয়ারম্যানকে কল্পিত ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

দলীয় অন্তঃকোন্দলে প্রতিপক্ষ কর্তৃক রাঙামাটির বরকলে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে নারী দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্ঠা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান নিজেই। বরকল উপজেলাধীন ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন জানিয়েছেন, আসন্ন উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এবং পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ থাকায় তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তারই দলের কিছু বিপদগামী নেতাকর্মী তাকে একটি কল্পিত ধর্ষনের ঘটনায় ফাঁসিয়ে মামলা করার অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম থেকে একটি মেয়েকে ধরে এনে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির মাধ্যমে একটি কল্পিত ধর্ষণের কাহিনী প্রচারসহ এই ঘটনায় মেয়েটিকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্ঠা চালাচ্ছে।

ইউপি চেয়ারম্যান মামুন জানান, তারই এলাকার জনৈক নাছির উদ্দিনের প্রথম সংসারের বড় মেয়েকে বছর দেড়েক আগে কাপ্তাইয়ে বিয়ে দেয়। কিন্তু জামাই প্রতিবন্ধি এই অভিযোগে মেয়েটি কয়েক মাস সংসার করে তাকে রাঙামাটির লিগ্যাল এইড এর মাধ্যমে তালাক দেয়। এই ঘটনার পর হতে মেয়েটি চট্টগ্রাম গিয়ে গার্মেন্টে চাকুরি করা তার মায়ের সাথে থাকতে থাকে। এরই মধ্যে মেয়েটি বরকল এসে তার পেটে বাচ্চা হয়েছে জানিয়ে সেটি গর্ভপাত করে নষ্ট করতে চায়। বিষয়টি স্থানীয় ধাত্রী থেকে শুরু করে তার মা, দাদা-দাদীসহ আরো অনেকেই প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জানে। আমাকে বিষয়টি জানালে আমি এই ধরনের পাপকাজ থেকে বিরত থাকতে বলে তাকে তাড়িয়ে দিই। এর কয়েকদিন পর আমার দলীয় প্রতিপক্ষ কিছু নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে শুরু করে যে, আমি নিজেই মেয়েটিকে গর্ভবতী করেছি। যাহা চরম মিথ্যাচার এবং বানোয়াট ছাড়া আর কিছু নয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উক্ত মেয়ের মা পারুল বেগম জানান, আমার মেয়ে গর্ভবতী হবার পেছনে ভুষনছড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো মামুনুর রশীদ মামুন দায়ী নয়। আমি চট্টগ্রাম থাকা অবস্থায় আমার পাশের বাসার এক ভাড়াটিয়া মেয়ের জামাইয়ের বন্ধুর সাথে আমার মেয়ে সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। সেখান থেকেই এসব হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা উক্ত ছেলের নামে চট্টগ্রাম বন্দর থানায় একটি জিডি করি। গত ২০ শে জুন আমি চাকরির জন্য গার্মেন্টেসে চলে গেলে আমার স্বামী মো নাছির, সায়েরা বেগম,এমদাদুল মিলে আমার মেয়েকে জোর করে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে।
পারুল বেগম জানান, আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে অনেক বছর যাবত আমাদের থেকে দুরে আছেন। এলাকার কিছু ব্যাক্তি তাকে অর্থের লোভ দেখালে তিনি মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে মামুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জোর করে মিথ্যা বলাতে বাধ্য করছে। আমি আমার মেয়েকে এভাবে রাজনীতির বলি করতে চাচ্ছি না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ দয়া করে অত্র এলাকার রাজনৈতিক মারপ্যাচের এই বাজে খেলা থেকে আমার মেয়েকে বাচান।

এ বিষয়ে উক্ত মেয়ের দাদী বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পুর্ন মিথ্যা। আমার নাতিনের দেয়া তথ্য মতে তার গর্ভের সন্তানের বাবা চট্টগ্রামের এক ছেলে। মেয়ের দাদা নুর ইসলাম জানান, আমার ছেলে নাসির(মেয়ের পিতা) অর্থের লোভে আমার নাতিনকে ভয় দেখিয়ে এসব করাচ্ছে। কারা করাছে জানতে চাইলে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের নাম জানাতে অস্বীকার করে বলেন নাম প্রকাশ করলে তারা আমাদের মেরে ফেলবে।

এদিকে কথিত ভিকটিমের আপন ছোটবোন এ বিষয়ে জানান, মামুন চেয়ারম্যান কখনো আমাদের বাসায় আসে নাই বা এই ধরনের খারাপ কোনো কাজ তিনি করেননি।

অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট্য একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, বরকলে ক্ষমতাসীনদলের কয়েকজন নেতার ইন্ধনে প্রলোভনে পড়ে এমনটি করছে নাসির উদ্দিন। তার ফোনালাপের মাধ্যমে জানাগেছে তার মেয়ের সাথে চট্টগ্রামের ইমন নামের একটি ছেলের সম্পর্ক ছিলো এবং তার মাধ্যমেই মেয়েটি গর্ভবতী হয়। সেই ছেলে বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

এদিকে, উক্ত মেয়ের চট্টগ্রামের বাসার পাশের ভাড়াটিয়া মো. আব্দুর রহমান জানান, আমরা কিছুদিন ধরেই দেখতেছি পারুল বেগম ও তার মেয়েকে কে তার সাবেক স্বামী নাসির এসে মারধর করে স্বীকার করাতে চেষ্টা করতেছে যে তার মেয়ের পেটের বাচ্চার বাবা মামুন। কিন্তু তারা কেউ স্বীকার করতেছিলো না। অবশেষে ২০ তারিখ সকালে পারুল বেগম গার্মেন্টসে চলে গেলে একজন মহিলা, আর একজন পুরুষসহ নাসির তার মেয়েকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে মেয়েটিকে নিয়ে কোতয়ালী থানায় গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মামুনের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বললে বিষয়টি পুলিশের উদ্বর্তন কর্তারা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সকলেই বরকলের বাসিন্দা হওয়ায় সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মামলা গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে। থানার দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানাগেছে, মেয়েটিকে একজন কর্মকর্তা তার অভিভাবকদের সামনেই যখন প্রশ্ন করে ধর্ষনের বিষয়টি জানতে চাইলেন,তখন মেয়েটি একেক সময় একেক রকম অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। এদিকে উপরোক্ত বিষয়াদি জানতে উক্ত ভিকটিমের পিতা নাসির উদ্দিনের মোবাইল নাম্বারে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে রং নাম্বার বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মামুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, উক্ত মেয়েটির গর্ভের সন্তানের ডিএনএ টেষ্ট করানো হোক। সেই ক্ষেত্রে আমি দোষি প্রমাণিত হলে আমি যা শাস্তি দেওয়া হোক মাথা পেতে নেবো।

জানাগেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের আসন্ন নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান মামুন নিজে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ায় তাকে সেই পথ থেকে বিরত রাখতে এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আর যেন তিনি প্রার্থী না হন সেই লক্ষ্যে তারই দলের একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ এই ধরনের নোংরামিতে মেতেছে।