ব্রেকিং নিউজ

লংগদুতে সধবারাও পাচ্ছে বিধবা ভাতা! মেম্বারের বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের শেষ নেই!

॥ সৌরভ দে ॥

লংগদুতে করোনাকালীন সময়ে দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে ২৫০০ টাকা করে মানবিক সহায়তা প্রদানের ফর্ম বিলি ও বিধবা ভাতা প্রদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হচ্ছেন লংগদু ৪ নং বগাচত্তর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলী আহম্মদ। সধবাদেরকেও বিধবা ভাতা প্রদানসহ নগদ সহায়তার ফর্ম বিলিকালে প্রত্যেক সহায়তা প্রার্থীর কাছ থেকে ২০০-৩০০ টাকা করে আদায় ও টাকা না দিলে নগদ সহায়তা পাবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এসেছে এই মেম্বারের বিরুদ্ধে।

৭ নং ওয়ার্ডের ভূক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিতভাবে অভিযোগ প্রদানকারী নাছিরউদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ হতে দূর্যোগকালীন ২৫০০ টাকা ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে ফর্ম ছাড়া হয় কিন্তু বগাচত্তর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলী আহম্মদ ওই ফর্মগুলোর বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০-৩০০ টাকা করে উত্তোলন করছে। যারা টাকা দিয়েছে শুধু তাদেরকেই লিস্টে রেখে প্রায় ২০০ জনের একটি লিস্ট তিনি বানিয়েছেন। যারা টাকা দিতে পারেনি তাদেরকে ওই লিস্টে রাখা হয়নি। এই জন্যেই আমি এলাকাবাসীর পক্ষে চলতি মাসের ৭ তারিখ ইউএনও স্যার বরাবর একটি আবেদন করি। পরবর্তীতে শুনি যে এই অভিযোগের তদন্ত অন্য একজন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। আমি বহুবার চেষ্টা করেও ওই তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে পারিনি।

এদিকে ৭ নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসীর সাথে যোগাযোগ করে উক্ত মেম্বারের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার কার্ড নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, গত দুইদিন আগে এলাকায় বিধবা ভাতা প্রদান করা হয়। তখন দেখা যায় যেসব মহিলার স্বামী আছে (সধবা) তাদেরকেও কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং তারা দিব্যি ভাতা উত্তোলন করছে। এসব মহিলাদের কাছ থেকে কার্ড প্রতি ৩০০০-৪০০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে দাবী করে এলাকাবাসীরা জানান, ভাতা পাওয়ার পর তাদের কাছ থেকে আরো ৫০০ টাকা করে নিয়েছে মেম্বার আলী আহম্মদ।

আবার মৃত ব্যাক্তির ত্রাণের কার্ড দিয়েও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষজনকে দিয়ে ত্রাণ উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে আত্মসাতের অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে মেম্বার আলী আহম্মদের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৭ নং ওয়ার্ডের এক ভূক্তভোগী জানান, এলাকায় সুন্দর আলী নামে এক ব্যাক্তি যিনি কয়েক বছর আগে মারা গেছেন ওই ব্যাক্তির কার্ড সমাজসেবা অফিসে জমা দেওয়ার নাম করে মেম্বার আলী আহম্মদ নিয়ে যায় কিন্তু জমা না দিয়ে নিজেই সেই মৃত ব্যাক্তির ত্রাণ উত্তোলন করছে।

এই বিষয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনুল আবেদীন প্রতিবেদককে বলেন, আমি এই মেম্বারের বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তা প্রদানের ফর্ম বিলির ক্ষেত্রে অনিয়মের ব্যাপারে লিখিত আকারে অভিযোগ পেয়েছি এবং আমার একজন কর্মকর্তাকে এটির তদন্তের ভার দিয়েছি। উনি আগামী কালের মধ্যেই তদন্তের রিপোর্ট জমা দিবেন। রিপোর্ট হাতে পেলেই আমরা ওই মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

সধবাদের বিধবা ভাতা উত্তোলনের বিষয়ে ইউএনও বলেন, আমি তাদের বলেছি এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে, লিখিত অভিযোগ না পেলে তো আমরা কোন একশনে যেতে পারবো না। এলাকাবাসীর পক্ষে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ভালভাবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবো।

তবে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেছেন অভিযুক্ত মেম্বার আলি আহম্মদ। তিনি বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, যারা এই ধরণের অভিযোগ দিয়েছে তাদেরকে বলেন প্রমাণ করতে। প্রয়োজনে সবাইকে ডাকেন আমিও আসবো এরপর সব প্রমাণ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, কেউ আমার বিরুদ্ধে যা তা বলবে আর আমি চুপ করে থাকবো তা তো হয় না, আমিও তাদের মোকাবেলা করবো।