রোয়াংছড়িতে আগুনে পুড়লো ৭৯টি দোকান ও বসতঘর

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

রোয়াংছড়িতে আগুনে পুড়ল ৭৯টি দোকান ও বসতঘর। শুক্রবার রাতে উপজেলা সদরে বাজারে এ ঘটনার কথা জানান উপজেলা ফায়ার ষ্টেশনের কর্মকর্তা। উপজেলা ফায়ার ষ্টেশনের কর্মকর্তা মংশিনু মারমা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পাই। এরপর ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। ফায়ার সার্ভিসের রোয়াংছড়ি উপজেলা ও বান্দরবান সদরের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। প্রায় তিন ঘন্টার পর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’

কিছু দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারনে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ আনা যায়নি বলে জানান ফায়ার ষ্টেশনের এই কর্মকতা। এ ঘটনায় বাজারে একটি ব্রয়লার মুরগি দোকানের বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে উপজেলা সদরে ফায়ার ষ্টেশন থাকার সত্ত্বেও পানির সমস্যা কারনে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত মুদি দোকানি নুথোয়াইচিং মারমা জানান, নতুন দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করছিলাম। সব পুড়ে গেছে। কিছুই বের করতে পারিনি। এই সময়ে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেক কষ্ট হবে।

আরেক দোকানদার জাহাঙ্গীর বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি ফার্নিচার ব্যবসা করেন। দোকানে অনেকগুলো অটবি ফার্নিচার ছিল। আগুনে সব পুড়ে চরম ক্ষতি হয়েছে তার।

এদিকে শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সস্পাদক ও পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী। পরে জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে নগদ ৩ হাজার টাকা, ৩ বান্ডিল ঢেউটিন, চাল ও কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য কান্ঞন জয় তংচঙ্গ্যা. উপজেলা চেয়ারম্যান চহাইমং মারমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান. রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্ব নাথ তংচঙ্গ্যা. সদর ইউপি চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমাসহ ও স্থানীয় জন প্রতিনিধি।

বান্দরবান জেলা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়ন ষ্টেশন কর্মকতা শাকরিয়া হায়দার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষতি নিরুপনে কাজ করছে।