করোনাপঞ্জীঃ রাঙামাটিতে সুস্থ রোগী এখন ১১৪ জন

॥ সিএইচটি টাইমস ডেস্ক ॥

নভেল করোনাভাইরাস। চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হওয়া এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ও অঞ্চলে। মহামারী ঘোষিত এই ভাইরাসে প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। ৬ মে রাঙ্গামাটিতে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এখানেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। রাঙ্গামাটিতে করোনা হানা দেওয়ার প্রথম মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ঠেকে ৬১তে।

২৮ জুন দুপুর পর্যন্ত রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রাঙামাটির সবকটি উপজেলাতে করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন যার মধ্যে রাঙামাটি সদরেই আছেন ১৫৪ জন। অন্য উপজেলাগুলোর মধ্যে লংগদুতে ৭ জন, নানিয়ারচরে ২ জন, কাউখালীতে ১৭ জন, কাপ্তাইয়ে ৫৪ জন, রাজস্থলীতে ৪ জন, বিলাইছড়িতে ২ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন, বরকলে ১ জন ও বাঘাইছড়িতে ৯ জন শনাক্ত হয়েছে।

রবিবার, ২৮ জুন

এইদিন দুপুর পর্যন্ত রাঙামাটিতে ২৫ জন করোনা পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়। পজেটিভ আসা ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জন রাঙামাটি সদরের, ৮ জন কাপ্তাইয়ের ও ১ জন লংগদুর বাসিন্দা। আক্রান্তদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশসহ ব্যাংকার আছে বলে জানা যায়।

এতে করে রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৬ জন। একইদিন রাঙামাটি সদর হতে ৮ জনকে সুস্থ ঘোষণা করে স্বাস্থ্যবিভাগ।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন ১১৪ জন, আইসোলেশনে ছিলেন ১৩ জন, সুস্থ হয়েছেন ১১৪ জন এবং এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন।

শনিবার, ২৭ জুন

এইদিন সকালে সিভাসু হতে আসা ২৬টি রিপোর্টের মধ্যে ৮টি করোনা পজেটিভ আসে। তখনো পর্যন্ত রাঙামাটিতে সর্বমোট ২৩১ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে এবং সর্বমোট ৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ। শনিবার দুপুরে নতুন করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জন রাঙামাটি সদরের, একজন রাজস্থলীর ও ২জন কাপ্তাইয়ের বাসিন্দা।

একইদিন করোনা উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চম্পকনগরের এক নারীর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া নারীর বয়স ৪০ নিশ্চিত করলেও তার পারিবারিক অসম্মতির কারনে বিস্তারিত পরিচয় জানায়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে উক্ত নারীর স্যাম্পল কালেক্ট করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৯৫ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ১০৭ জন, আইসোলেশনে আছেন ১১ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন।

শুক্রবার, ২৬ জুন

এইদিন দুপুরে সিভাসু ও বিআইটিআইডি হতে পৃথকভাবে আসা ৩৪ টি রিপোর্টের মধ্যে ১১টি করোনা পজেটিভ আসে। রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৩ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন রাঙামাটি সদরের, ১ জন লংগদুর, ১ জন কাউখালী ও বাকি একজন বাঘাইছড়ির বাসিন্দা। রাঙামাটি সদরের ৮ জন জেনারেল হাসপাতাল, রিজার্ভ বাজার, নিউ পুলিশ লাইন, পুরাতন পুলিশ লাইন, গর্জনতলী ও ঘাগড়া ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

একইদিন জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য সিভিল সার্জনের কাছে ৬৯ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করেন রাঙ্গামাটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব পবন চৌধুরী।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৯৫ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ১০৩ জন, আইসোলেশনে আছেন ১২ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন

এইদিন রাঙামাটিতে সক্রিয় করোনা রোগী ও সুস্থ রোগীর সংখ্যা সমান সমান হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সিভাসু হতে আসা রিপোর্ট অনুযায়ী রাঙামাটি সদরের ভেদভেদী এলাকার এক বাসিন্দা করোনা পজেটিভ আসে। এতে করে রাঙামাটিতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১২ জন। তবে নতুন শনাক্তের সাথে একইদিন ১৩ জন সুস্থ হয়। এতে করে রাঙ্গামাটিতে সুস্থ করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৩ জন আর সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যাও ১০৩ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন।

নতুন সুস্থ ১৩ জনের মধ্যে ১২ জন সদরের ও ১ জন কাপ্তাইয়ের বাসিন্দা।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৯৫ জন, আইসোলেশনে আছেন ১৩ জন।

বুধবার, ২৪ জুন

এইদিন দুপুরে সিভাসু হতে আসা রিপোর্টের মধ্যে কাপ্তাইরাজস্থলী হতে দুইজনের করোনা পজেটিভ আসে।

রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১১ জন।

একইদিন করোনা ও করোনা সন্দেহযুক্ত রোগীদের জরুরী টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়ার জন্য একটি মোবাইল নম্বর প্রকাশ করে রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস। নম্বরটি হলঃ ০১৭৩০৩২৪৭৭৫

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৮১ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ৮৭ জন, আইসোলেশনে আছেন ১৫ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন

এইদিন রাতে বিআইটিআইডি হতে আসা ১১টি রিপোর্টের মধ্যে কাপ্তাইয়ে কর্মরত একজন পুলিশ সদস্যের করোনা পজেটিভ আসে বলে নিশ্চিত করেন রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল।

এইদিন রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০৯ জন। এইদিন কাপ্তাই হতে ২ জন সুস্থ হওয়ার মধ্যে দিয়ে রাঙামাটিতে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৭ জনে।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৪ জন, আইসোলেশনে আছেন ১৯ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন।

সোমবার, ২২ জুন

এইদিন দিবাগত রাতে সিভাসু হতে আসা ৫৮টি রিপোর্টে ২৫ জনের করোনা শনাক্তের তথ্য পাওয়া যায়। নতুন শনাক্তের মধ্যে ২৩ জন রাঙ্গামাটি সদরের, কাউখালী থেকে ১ জন ও বরকল থেকে ১ জন আছে বলে নিশ্চিত করেন রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল। এর মাধ্যমে জেলার একমাত্র করোনামুক্ত উপজেলা বরকলেও প্রথমবারের মত রোগী শনাক্ত হয়।

এইদিন রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০৮ জন।

রাঙামাটি সদর হতে আক্রান্তদের মধ্যে ৯ জন পুরাতন পুলিশ লাইনের, ২জন কাঠালতলীর, ২ জন হ্যাপীর মোড়ের, ফিশারীঘাটের ১ জন, সদর পুলিশ ফাঁড়ির ২ জন, ইসলামী ব্যাংকের ২জন, পুলিশ সুপার কার্যালয় ১ জন, মাস্টার কলোনীর ১ জন, লেকার্স স্কুল এলাকার-১ জন, স্বর্ণটিলার-২জন বাসিন্দা রয়েছে।

নতুন শনাক্তের সাথে সাথে ৪ জন সুস্থও হয়েছেন বলে নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন অফিস। নতুন সুস্থ ৪ জনের মধ্যে ৩ জন সদরের ও বাকি ১ জন লংগদুর বাসিন্দা। ফলে রাঙামাটিতে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫ জনে।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৭ জন, আইসোলেশনে আছেন ১৯ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন।

রবিবার, ২১ জুন

এইদিন রাঙামাটি হতে ২৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলার কৃষি ব্যাংকের ৩ জন কর্মকর্তা করোনা পজিটিভ আসার পর রাতে সিভাসু ও বিআইটিআইডি হতে পৃথকভাবে আসা রিপোর্টে ২৫ জনের করোনা শনাক্তের তথ্য পাওয়া যায়। ২৪ জনের মধ্যে ১৩ জন রাঙ্গামাটি সদরের, ১ জন বাঘাইছড়ির এবং বাকি ১১ জন কাপ্তাইয়ের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেন রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল।

এইদিন রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৩ জন।

এইদিন ৪ জন সুস্থ হন। ৪ জনের মধ্যে ২ জন সদরের ও বাকি ২ জন কাপ্তাইয়েরকাপ্তাইয়ে সুস্থ ২ জনের মধ্যে একজন ডাক্তার আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

শনিবার, ২০ জুন

এইদিন দুপুরে বিআইটিআইডি হতে ৫৩টি রিপোর্ট আসে যার মধ্যে ৯টি করোনা পজেটিভ। আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য আছেন বলে নিশ্চিত করেন রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল।

নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে রাঙামাটি সদর থেকে ৩ জন আনসার সদস্য ও একজন সরকারি কর্মচারী রয়েছেন, কাউখালী হতে ৪ জন পুলিশ সদস্য ও কাপ্তাইয়ের এক বাসিন্দাও আছেন। এইদিন রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৫ জন।

একইদিন কাপ্তাই উপজেলা থেকে ১ জন, কাউখালি থেকে ৫ জন ও সদর থেকে ৫ জনসহ সর্বমোট ১১ জন COVID-19 জয় করেন। ফলে রাঙামাটিতে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৭ জনে।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৮৬ জন, আইসোলেশনে আছেন ২০ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ জন।

বুধবার, ১৭ জুন

এইদিন ২৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সকালে কাপ্তাইরাজস্থলীতে ৫ জন করোনা রোগী পাওয়ার পর দুপুরে রাঙামাটি সদর হতে আরো ১ জনের করোনা পজেটিভ আসার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বাঘাইছড়ি হতে একজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা পজেটিভ আসার পর রাত সোয়া ১১টার দিকে ১৮ জন করোনা পজেটিভ আসার খবর পাওয়া যায়। এই ১৮ জনের মধ্যে রাঙামাটি সদরের ১৫ জন, কাউখালীর একজন পল্লী চিকিৎসক, কাপ্তাইয়ে একজন ও নানিয়ারচর উপজেলাতে একজন আক্রান্ত বলে জানা যায়। সদরের ১৫ বাসিন্দাদের মধ্যে পুরাতন পুলিশ লাইন্স-৪ জন, আপার রাঙামাটি এলাকায়-১, তবলছড়ি অফিসার্স কলোনী-১, কলেজ গেইট-১, আলম ডক ইয়ার্ড-১, ভেদভেদী ক্যান্টমেন্ট-১, রিজার্ভ বাজার-২, রাজমনি পাড়া-১, বনরূপা-১, সুখীনীলগঞ্জস্থ নতুন পুলিশ লাইন্সে-১, কাপ্তাই-১, কাউখালী-১ জন চিকিৎসক, এসপি অফিসের ডিবি ইন্সপেক্টর-১জন এবং নানিয়ারচরের ঘিলাছড়িতে-১জন।

আক্রান্ত ২৫ জনের মধ্যে ১৩ জনই পুলিশ সদস্য বলে জানা যায়।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন

এইদিন রাত ৯ টার দিকে সিভাসু হতে ২৩টি রিপোর্ট আসে যার মধ্যে ১৬টি করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে রাঙামাটি সদরের ভেদভেদীর ৬ জন আনসার সদস্য, কাপ্তাইয়ের ১ জন পুলিশ সদস্য, সদরের সুখিনীলগঞ্জ পুলিশ লাইনের ১ জন পুলিশ সদস্য, আসামবস্তির ১ বাসিন্দা, শান্তিনগরের ১ বাসিন্দা, কাঠালতলীর ১ বাসিন্দা, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ১ জন ডাক্তার, দেবাশীষ নগরের ১ বাসিন্দা, কালিন্দীপুরের ১ বাসিন্দা, রিজার্ভ বাজারের ১ বাসিন্দা, তবলছড়ির ১ বাসিন্দা আছেন। বাড়ি লকডাউন করতে গিয়ে জানা যায় শান্তিনগর হতে আক্রান্ত ৩ মাস বয়সী শিশুটি নমুনা সংগ্রহের পরদিনই মারা গিয়েছে। একইদিন রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাঙামাটি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিনের মা করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান (পরবর্তীতে তার রিপোর্ট করোনা পজেটিভ আসে)।

এ নিয়ে রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২১ জন।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৯৫ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ৫০ জন, আইসোলেশনে আছেন ২৩ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন।

রবিবার, ১৪ জুন

এইদিন বাঘাইছড়িতে ২৮ বছর বয়সী ১ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা পজেটিভ আসে। এর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে মোট করোনা পজেটিভ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৫ জনে।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৯৭ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ৫০ জন, আইসোলেশনে আছেন ৯ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন।

শনিবার, ১৩ জুন

এইদিন ৫ দিন বিরতির পর রাঙামাটিতে নতুন করে একই দিনে ২২জনের দেহে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়। এর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে মোট করোনা পজেটিভ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৪ জনে।

সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল ২২জনের পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দিবাগত রাতে দ্বিতীয় কিস্তিতে আমরা আরো ৫৭ জনের রিপোর্ট হাতে পাই, যেখানে ১৪ জন করোনা পজেটিভ রয়েছেন। বিআইটিআইডি’র নমুনা পরীক্ষায় ওই ১৪ জনের করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হন। এই ১৪ জনের সকলেই রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন কারনে গেলে তাদের কাছ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম পাঠিয়েছিলো। তার তথ্য মতে এই ২২ জনের মধ্যে ৮ বছরের শিশুকন্যা থেকে ৪৭ বছরের পৌঢ় রয়েছেন।

আক্রান্ত ২২ জনের মধ্যে ১৩ জনই পুলিশ সদস্য বলে জানা যায়। এছাড়াও কাপ্তাইয়ে করোনা পজিটিভ ৮ জনের মধ্যেও ৪ জন ওয়াগ্গাছড়া পাগলী পাড়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্য। এছাড়া একজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মচারী, একজন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানবিদ, একজন বড়ইছড়ি কর্নফুলি সরকারি কলেজ এলাকার বাসিন্দা এবং অপর একজন রাইখালী ইউনিয়নের পূর্ব কোদালার করোনায় মৃত নার্স যুবকের পিতা।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৯৭ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ৪৮ জন, আইসোলেশনে আছেন ৯ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন।

 মঙ্গলবার, ৯ জুন

এইদিন রাঙ্গামাটিতে নতুন করে আরো ৪ জন করোনা পজেটিভ রোগী পাওয়া যায়। মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিআইটিআইডি ও সিভাসু হতে ৭৮ টি রিপোর্টের মধ্যে ৪টি করোনা পজেটিভ। নতুন শনাক্ত করোনা রোগীর মধ্যে বাঘাইছড়ির ১ জন, কাউখালীর ১ জন, কাপ্তাইয়ের ১ জন ও সদরের ১ জন। তার মধ্যে কাপ্তাইয়ে নতুন শনাক্ত ব্যাক্তি পেশায় ডাক্তার বলে নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাসুদ আহমেদ চৌধুরী।

এর মাধ্যমে রাঙ্গামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ জনে।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২০৩ জন, আইসোলেশন ১০ জন, আরোগ্য ৪৫ জন ও মৃত্যু ২ জন।

সোমবার, ৮ জুন

এইদিন প্রথমবারের মত রাঙামাটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের তালিকায় যুক্ত হয় ২ জন। ৩১ মে কাপ্তাইয়ে ২৬ বছরের এক নার্স ও ৬ জুন রাঙামাটি শহরের ভেদভেদীতে ৬৫ বছরের এক ব্যাক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যায়। উক্ত দুইজনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে ৮জুন। এই দুইজন সহ রাঙামাটিতে মোট ৭ জন COVID-19 সনাক্ত হয় এইদিন। সিভাসু থেকে আসা রিপোর্টে জানা যায় রাঙামাটি সদর থেকে ৩ জন, কাউখালি থেকে ২ জন ও কাপ্তাই থেকে ২ জন নতুন করে সনাক্ত হয়েছে।

এতে করে রাঙামাটিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৮ জনে।

তবে এইদিন সুস্থও হয়েছেন ৪ জন। সুস্থদের মধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ১ জন নার্সসহ সদর হতে ৩ জন এবং নানিয়ারচরের ১ জন রয়েছেন।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৯৭ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ৪৫ জন, আইসোলেশনে আছেন ৮ জন, মারা গেছেন ২ জন।

রবিবার, ৭ জুন

এইদিন বিআইটিআইডি হতে আসা রিপোর্টে বাঘাইছড়িতে ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের করোনা পজেটিভ আসার তথ্য পাওয়া যায়। এতে করে রাঙামাটির ৮টি করোনা সংক্রমিত উপজেলার সাথে বাঘাইছড়ির নামও যুক্ত হয়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১।

শনিবার, ৬ জুন

এইদিন বিকালে নতুন করে আরো ৯ জনকে সুস্থ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন অফিস। নতুন করোনাজয়ীদের সবাই রাঙামাটি সদরের বাসিন্দা। ৯ জনের মধ্যে ১ জন বেসরকারি ডাক্তার ও ২ জন স্বাস্থ্যকর্মীও আছেন। বিকালে বিআইটিআইডি হতে আসা উক্ত ৯ জনের তৃতীয় দফার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এতে করে আক্রান্ত ৭০ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ৪১ জন।

এইদিন করোনা উপসর্গ নিয়ে রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকার ৬৫ বছরের এক ব্যাক্তি মারা যায়। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায় সিভিল সার্জন অফিস।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৪২ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ৪১ জন, আইসোলেশনে আছেন ৮ জন।

শুক্রবার, ৫ জুন

এইদিন সকালে নতুন করে আরো ৯ জনকে সুস্থ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন অফিস। নতুন করোনাজয়ীদের মধ্যে রাঙামাটি সদর থেকে আছেন ৭ জন ও লংগদু থেকে ২ জন।

এতে করে আক্রান্ত ৭০ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ৩২ জন।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন

এইদিন সকাল ৯টায় সিভাসু হতে আসা ১৩টি রিপোর্টের মধ্যে ১টি করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। নতুন শনাক্ত করোনা রোগী কাপ্তাইয়ের বাসিন্দা। আবার মধ্যরাতে বিআইটিআইডি হতে আসা ৪১টি রিপোর্টের মধ্যে ১টি করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। যিনি রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক বাসিন্দা।

এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ এ।

ওইদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিভাগের হিসাবমতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৩৩ জন, আরোগ্য লাভ করেছেন ২৩ জন, আইসোলেশনে আছেন ১১ জন।

মঙ্গলবার, ২ জুন

এইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে নতুনভাবে ১৩ জনকে সুস্থ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন অফিস। নতুনভাবে সুস্থ ঘোষিত ১৩ জনের মধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ১ জন ডাক্তার, ১ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ১ জন আয়া ও তিনজন নার্সসহ সদর থেকে ৭ জন রয়েছেন। বাদ বাকি ৬ জন জুরাছড়ির বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল।

এতে করে আক্রান্ত ৬৮ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ২৩ জন।

এদিকে ২০৩ জনকে কোয়ারেন্টাইন মুক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৩০৯ জন, আইসোলেশনে আছেন ১১ জন।

সোমবার, ১ জুন

জুন মাসের প্রথম দিনে নতুন ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়। এইদিন রাতে বিআইটিআইডি ও সিভাসু হতে মোট ৫৯টি রিপোর্ট আসে যার মধ্যে ৭টি করোনা পজেটিভ। আক্রান্ত ৭ জনের মধ্যে ৯ বছর বয়সী এক শিশুসহ তিনজন পুুরুষ এবং ৪ জন নারী রয়েছে। উক্ত ৭ জনের মধ্যে ২ জন কাপ্তাই নৌবাহিনীর সদস্য এবং ৪ জন মহিলা তাদের পরিবারের সদস্য। বাকি একজন কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী।

এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮তে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মোতাবেক ওইদিন পর্যন্ত রাঙামাটি থেকে সর্বমোট ১১০৩টি সংগৃহিত নমুনা চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) এবং চট্টগ্রাম ভেটেনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে(সিভাসু) পাঠিয়েছে রাঙামাটির সিভিল সার্জন অফিস। তারমধ্যে ৮৯৭টি পরীক্ষার রিপোর্ট রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগে আসলেও এখন পর্যন্ত ২০৬ টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পর্যন্ত হাতে পায়নি রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

রবিবার, ৩১ মে

তিনদিন পর বিআইটিআইডি হতে রিপোর্ট পায় সিভিল সার্জন অফিস। দুপুর ৩টায় আসা রিপোর্টে কাউখালীতে একজন নারী (৪০) ও লংগদুতে একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের (৩০) করোনা পজেটিভ আসে। একইদিন মধ্যরাতে আসা রিপোর্টে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরো ১ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সিভাসু হতে আসা ৪ জনের রিপোর্টে উক্ত নার্সের (৩০) করোনা পজেটিভ আসে। তিনি রাঙামাটি শহরের রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১তে।

এইদিন কাপ্তাই উপজেলাধীন রাইখালীর পূর্বকোদালায় করোনা উপসর্গ নিয়ে সি অং প্রু মারমা (২৬) নামের এক নার্স মারা যান। বিকাল ৫টায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান বলে জানা যায়।

সিভিল সার্জন অফিস হতে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক রাঙ্গামাটিতে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৪২ জন, আইসোলেশনে আছেন ৯ জন, সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এখনো পর্যন্ত ১০১৮টি নমুনা পাঠিয়েছেন তাঁরা যার মধ্যে হাতে পেয়েছেন ৮৩৮ টি, এখনো ১৮০টি রিপোর্ট অপেক্ষমান।

শনিবার, ৩০ মে

এইদিনও চট্টগ্রাম হতে নতুন কোন রিপোর্ট আসেনি। তবে ৬০টি স্যাম্পল সংগ্রহ করে পাঠিয়েছে রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস। এই ৬০টি বিভিন্ন উপজেলায় শনাক্ত রোগীদের ফলোআপ এবং তাদের সংস্পর্শে আসাদের স্যাম্পল। বিআইটিআইডিতে বর্তমানে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ থাকায় নতুন রিপোর্ট আসছে না বলে জানান সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল। তিনি জানান, আমরা নতুন কারো স্যাম্পল কালেক্ট করছি না। বিআইটিআইডিতে টেস্টিং শুরু হলে তবেই আমরা নতুন স্যাম্পল কালেকশনে নামবো।

এদিকে সিভিল সার্জন অফিস হতে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক রাঙ্গামাটিতে মোট করোনা শনাক্ত ৫৮ জন, কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৪৭ জন, আইসোলেশনে আছেন ৯ জন, সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এখনো পর্যন্ত ১০১৮টি নমুনা পাঠিয়েছেন তাঁরা যার মধ্যে হাতে পেয়েছেন ৮৩২টি, এখনো ১৮৬টি রিপোর্ট অপেক্ষমান।

শুক্রবার, ২৯ মে

২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রাম হতে নতুন কোন রিপোর্ট হাতে পায়নি রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস। নতুন কোন নমুনাও পাঠাননি তাঁরা। তবে ৮জনকে কোয়ারেন্টাইন মুক্ত করা হয়েছে, বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৮১ জন।

সিভিল সার্জন অফিস হতে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক রাঙ্গামাটিতে মোট করোনা শনাক্ত ৫৮ জন, আইসোলেশনে আছেন ৯ জন, সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এখনো পর্যন্ত ৯৫৮টি নমুনা পাঠিয়েছেন তাঁরা যার মধ্যে হাতে পেয়েছেন ৮৩২টি, এখনো ১২৬টি রিপোর্ট অপেক্ষমান।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে

টানা ২ দিন পর সিভাসু হতে রিপোর্ট হাতে পায় রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস। উক্ত রিপোর্টে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্স ও কাপ্তাই আনসার ব্যাটেলিয়নের এক সদস্যের করোনা আক্রান্তের তথ্য পাওয়া যায়। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮তে।

এইদিনেই ২য় ও ৩য় রিপোর্ট নেগেটিভ আসার কারণে রাঙামাটি সদরে আক্রান্ত একজন বেসরকারী চিকিৎসক ও জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে সুস্থ ঘোষণা করে রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিস। সিভিল সার্জন অফিস আরো জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৯৫৮টি নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন তাঁরা, যার মধ্যে ৮৩২টির ফলাফল হাতে পেয়েছেন। ফলাফল অনুযায়ী রাঙ্গামাটিতে ৫৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন, সুস্থ হয়েছেন ১০ জন, আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৯ জনকে। তবে এখনো পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি।

বুধবার, ২৭ মে

আক্রান্ত ৫৬ জনের মধ্যে আরো ৩জনকে সুস্থ ঘোষণা করেছে সিভিল সার্জন অফিস। এই তিনজনের ১ জন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ নার্স বাকি দুইজন বিলাইছড়ির বাসিন্দা। এই তিনজনেরই ২য় ও ৩য় দফা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন বিলাইছড়ি হতে শনাক্ত ২জনই সুস্থ। এতে জেলার সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জন।

তিনি আরো জানান, আমরা লংগদুতে আইসোলেশনে থাকা ২জনকেও রিলিজ করে বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের ২জনের ২য় দফা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তাদের আর আইসোলেশনে থাকার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৯ জন।

সকাল ৮টা পর্যন্ত সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ৩৫জনের রিপোর্ট এসেছে যাদের সবাই করোনা নেগেটিভ। নতুন কারো নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো না হলেও ২২ জনকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সোমবার, ২৫ মে 

রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিআইটিআইডি হতে ২ জনের রিপোর্ট আসে যাদের মধ্যে ১ জন করোনা পজেটিভ। উক্ত ব্যাক্তি লংগদু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী বলে জানা যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৬।

রবিবার, ২৪ মে 

সকালে সিভিল সার্জন অফিস থেকে সংশোধনী পাঠানো হয় যাতে উল্লেখ করা হয় ২৩ মে শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মধ্যে মানিকছড়ির ৩ জন পুলিশ কনস্টেবলের করোনা নেগেটিভ। চট্টগ্রাম থেকে রিপোর্ট পাঠানোর সময় কিছু সমস্যার কারণে এই ভুল হয় বলে জানায় সিভিল সার্জন অফিস। এই সংশোধনীর পর আক্রান্তের সংখ্যা কমে হয় ৫৩।

পরবর্তিতে রাত ১২টার পরে সিভাসু ও বিআইটিআইডি হতে ১৮ জনের রিপোর্ট আসে যাদের মধ্যে কাপ্তাই উপজেলা হতে ২ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় এবং বাকি ১৬ জনের করোনা নেগেটিভ আসে। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৫।

শনিবার, ২৩ মে 

রাত সাড়ে ১১টায় ও ১২টায় দুই দফায় রিপোর্ট আসে। প্রথম দফার ৩৬ জনের রিপোর্টে ২ জনের পজিটিভ আসে এবং বাকি ৩৪ জনের করোনা নেগেটিভ আসে। দ্বিতীয় দফায় ৪৬টি রিপোর্টে ৮টি পজিটিভ ও ৩৮টি নেগেটিভ আসে।

পজেটিভদের মধ্যে মানিকছড়ি চেকপোস্টের ৩ জন কনস্টেবল(পরদিনের সংশোধনীতে তাদের নেগেটিভ ঘোষণা করা হয়), পুলিশ লাইনের ১ জন বাবুর্চি, বেতবুনিয়া রাবার বাগান চেকপোস্টের ৩ জন কনস্টেবল, কাউখালীর এক মহিলা, রাঙামাটি শহরের টিএন্ডটি এলাকার এক বাসিন্দা ও লংগদুর ১জন সহ সর্বমোট ১০ জন করোনা শনাক্ত হয়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৬।

শুক্রবার, ২২ মে

এইদিন ্মধ্যরাতে ৩ জনের করোনা পজেটিভ আসে। বিআইটিআইডি এবং সিভাসু থেকে আসা মোট ৪৬টি রিপোর্টের মধ্যে ৩টি পজিটিভ এবং ৪৩টি নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। উক্ত ৩ জনের একজন রাঙামাটি সদরের, একজন নানিয়ারচর ও অপরজন কাউখালীর বাসিন্দা। রাঙামাটি শহরের আক্রান্ত ব্যক্তি শহরের এ্যালায়েন্স হাসপাতালের কর্মী বলে জানা যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৬।

মঙ্গলবার, ১৯ মে 

এইদিন রাঙ্গামাটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে বড় ধরণের উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যায়। মধ্যরাতে সিভাসু হতে আসা রিপোর্টে ১৭ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। আক্রান্তদের সবাই রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা। সূত্রমতে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে আক্রান্ত ১৭ জনের মধ্যে শহরের রায় বাহাদুর সড়ক এলাকায় ৩ জন, উত্তর কালিন্দীপুরে ৩ জন, জেনারেল হাসপাতালের ২ জন, রাজবাড়ি এলাকায়-১, রাঙাপানিতে-১, চক্রপাড়া এলাকায়-১, মানিকছড়িতে-১, কল্যাণপুরে ১, তবলছড়ির ওমদামিয়া পাহাড় এলাকায়-১, মাঝেরবস্তিতে ১জন, ম্যাজিষ্ট্রেট কলোনীতে ১ এবং বনরূপা এলাকার একজন বেসরকারি চিকিৎসক বলে জানা যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৩।

শনিবার, ১৬ মে 

এইদিন সন্ধ্যায় সিভাসু হতে পাওয়া রিপোর্টে রাঙামাটি শহরের টি এন্ড টি এলাকার ৪৬ বছর বয়সী একজন নার্সের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৬।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে 

এইদিন ২ দফায় আসা রিপোর্টে মোট ১১ জন করোনা শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ২ জন স্টাফ নার্স, রিজার্ভ বাজারের ২নং পাথরঘাটায় সর্বপ্রথম শনাক্ত ৯ মাস বয়সী শিশুর পিতা, জুড়াছড়ি উপজেলায় ৬ জন এবং লংগদু উপজেলায় ২জন (স্বামী-স্ত্রী)বলে নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন অফিস। শনাক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৮ বছরের মধ্যে।এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৫।

বুধবার, ১৩ মে 

এইদিন ডাক্তার-নার্স মিলিয়ে রাঙ্গামাটিতে মোট ৯ জন করোনা শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ৩২ বছর বয়সী একজন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, অপরজন ৪২ বছর বয়সী বেসরকারী চিকিৎসক, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ৪ জন নার্স, বিলাইছড়ির মা(৩১)-ছেলে-(১৩), রাজস্থলীর এক বাসিন্দা (৩৭) আছেন। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ১৪।

মঙ্গলবার, ১২ মে

এইদিন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এইদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫।

বুধবার, ৬ মে 

বাংলাদেশে করোনা হানা দেওয়ার ২ মাস পর সর্বপ্রথম এইদিন রাঙামাটিতে ৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। যারা সবাই রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা। তারা হচ্ছেন রিজার্ভ বাজারের পাথরঘাটা এলাকার ৯ মাস বয়সী শিশু, মোল্লাপাড়ার ৩৮ বছরের এক দিনমজুর, দেবাশিষ নগরের ১৯ বছরের এক যুবক, ৫০ বছরের রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের এক স্টাফ নার্স।