ব্রেকিং নিউজ

রাঙামাটিতে পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই

॥ আলমগীর মানিক ॥

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে করোনা শনাক্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়েই চলেছে। জেলা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রন্ট লাইনে কাজ করা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ সদস্যদের মাঝে আক্রান্তের সংখ্যাই এখনো পর্যন্ত বেশি। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুসারে এখনো পর্যন্ত রাঙামাটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৬ জন। তার মধ্যে ৩৯জন স্বাস্থ্য বিভাগের এবং এদের মধ্যে চারজন চিকিৎসক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে ২৮শে জুন দিবাগত শেষ রাত পর্যন্ত রাঙামাটিতে পুলিশ বিভাগের একজন সিনিয়র এডিশনাল এসপিসহ ৮৮ জন অফিসার-কনস্টেবলের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর-পিপিএম(সেবা)। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম থেকেই রাঙামাটির পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে যেসকল পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলগণ দায়িত্ব পালন করেছে তাদের অনেকেই এখন পজেটিভ হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে রোববার দিবাগত শেষ রাত পর্যন্ত সর্বোচ্চ রাঙামাটি সদরে ১৫৪ করোনা পজেটিভের মধ্যে পুলিশ সদস্য রয়েছেন ৪৯ জন। বাঘাইছড়ি ও সাজেকে-৯, লংগদু’তে-৭ জনের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য, নানিয়ারচর-২, বরকল-১, জুড়াছড়ি-৬, বিলাইছড়ি-২, রাজস্থলী-৪, কাউখালী-১৭ জনের মধ্যে ১৬ জনই পুলিশ। কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা দুই থানায় সর্বমোট ৫৪ জনের মধ্যে পুলিশের সদস্য রয়েছে ২২ জন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ছূফি উল্লাহ জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত ৪৭৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৮৮জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সম্প্রতি ১৬জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ অফিস সূত্রে জানাগেছে, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন নিজে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি তার তিন বছর বয়সী জমজ দুই ছেলে সন্তানসহ বাসার আরো দু’জন স্বজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রোববার সন্তান ও স্বজনদের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট তিনি পেয়েছেন।

পুলিশের এই সিনিয়র কর্মকর্তার জন্য উদ্বর্তন মহলে তদবির করেও দু’য়েক দিনের মধ্যে রিপোর্ট আনাতে পারেননি বলে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মীরা। তারা জানিয়েছেন, রিপোর্ট আসতে দেরি হওয়ায় তিনি পরিবারের সাথে সময় দিয়েছেন আর এতে তার আদুরে দুই সন্তানসহ আরো দুই স্বজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাঙামাটি পুলিশ বাহিনীর কয়েকজন উদ্বর্তন কর্মকর্তা জানান, শুরু থেকেই আমাদের সদস্যরা সরকারি নির্দেশনানুসারে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এতে করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সংস্পর্শে এসে তারা আক্রান্ত হয়েছে। পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে আসার সাত থেকে আটদিন পর্যন্ত রিপোর্ট আসেনা। এই সময়ের মধ্যে তারা দায়িত্ব পালনসহ সর্বত্র বিচরণ করেছে। এতে অন্যদের মাঝেও সংক্রমিত হয়েছে। আর এই বিষয়ের ফল আমরা এখন পাচ্ছি। হু-হু করে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

এদিকে, সম্প্রতি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের করোনার নমুনা সংগ্রহকারি অন্যতম এক ল্যাব টেকনেশিয়ান করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং দৈনন্দিন কর্মকান্ডে এর প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ডাঃ মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত রাঙামাটিতে চারজন চিকিৎসক দায়িত্বকালীন সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও আরো অন্তত ১৫ জনের মতো সিনিয়র নার্সসহ ফার্মাসিস্ট, আয়া, ওয়ার্ড বয়, টেকনেশিয়ান মিলে স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বমোট ৩৯ জন করোনা পজেটিভ হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে রোববার পর্যন্ত ২৮ জন সুস্থ হয়েছেন।