ব্রেকিং নিউজ

লংগদুতে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে চলছে জুয়ার আসর

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

লংগদু উপজেলার ৫ নং ভাসান্যাদাম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মধ্যম ঘনমোড় এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত চলছে মদ-জুয়ার ও ইয়াবার আসর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঘনমোড় সেনামৈত্রী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেন ও এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবশালী কয়েকজনের নেতৃত্বেই র্দীঘদিন ধরে উক্ত এলাকায় চলছে অপকর্ম। যার ফলে এলাকার তরুণদের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ ধ্বংস হচ্ছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন যুবক জানায়, মধ্যম ঘনমোড় এলাকাটি দিন দিন জাহিলিয়া যুগের মতোই হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন ব্যাক্তির জন্য আমাদের এলাকাটি খারাপ এলাকায় পরিণত হচ্ছে। এলাকায় নারী কেলেঙ্কারীর মতো ঘটনায় জড়িতরাই র্দীঘদিন ধরে নিয়মিত (তাজু মিয়ার দোকান ও জঙ্গলে) জুয়া-মদ ও ইয়াবার আসর বসানোর মতো কাজ করে আসছে। এবিষয়ে যারাই প্রতিবাদ করেছে তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি মহল নানা রকম হুমকি গালিগালাজ দিয়ে থাকে তাই প্রাণভয়ে কেউ কিছুই বলার সাহস পাচ্ছে না।

এদের দ্বারা লাঞ্চিত এক গৃহবধু জানায়, গত কিছুদিন আগে ইসমাইল মাষ্টার ও বাচ্চু মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে গ্রামের একটি জঙ্গলে জুয়ার আসর বসায়। তখন তিনি তাদের দেখে নিষেধ করায় বাচ্চু মিয়া তাকে হুমকি-ধামকি দেয়ার পাশাপাশি বরাবরের ন্যায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দিয়ে লাঞ্চিত করে।

এদিকে গ্রামের আরেক সচেতন ব্যক্তি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামের শিক্ষিত সমাজ যখন অপরাদের সাথে মিশে যায় তখন এই সমাজকে কারা রক্ষা করবে। তিনি আরো বলেন, যে শিক্ষক তার ছাত্রদের অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনবে, সে যদি ছাত্রদের নিয়ে জুয়ার আসর জমায়, এলাকায় জুয়ার নেতৃত্ব দেয়। তাহলে এই শিক্ষককে আমরা ছাত্রদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর বলব নাকি ভবিষ্যৎ ধংসের কারিগর?

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, মধ্যম ঘনমোড় ও উত্তর ঘনমোড় গ্রামের আসর জমায়েত কারিরা হলেন, ঘনমোড় সেনামৈত্রী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল মাষ্টার-পিতা: আলী হোসেন, দিনমজুর মোঃ বাচ্চু মিয়া-পিতা: মৃত-মোয়াজ্জেম হোসেন, সরকারি চাকরি জীবি মাইন উদ্দিন-পিতা: আলম মাষ্টার, স্থানীয় দোকানী ও বিজিবির বোট চালক মোঃ তাজুল ইসলাম-পিতা: নুর মিয়া, মোঃ নুরু মিয়া-পিতা: মৃত-এরশাদ মিয়া, হারুন পিসি,মোঃ মিজানুর রহমান-পিতা: মৃত কালু মিয়া, ইউনুছ আলী-পিতা: মৃত তোফাজ্জল আলী,মোঃ জুয়েল,হেলাল-পিতা: শাহ আলম,আব্দুল করিম-পিতা: মৃত সুলতান আহম্মদ,ইকবাল হোসেন মনির-পিতা: মৃত আমিন উল্লাহ,কবির হোসেন চকিদার-পিতা: আবুল মালেক,তসলিম হোসেন-পিতা: মৃত আবু তাহের,আল আমিন-পিতা: মাহাতাব, মুনসুর আলী-পিতা: মৃত আব্দুল মজিদ,নুর হোসেন সুমন-পিতা: নুর নবী মাষ্টার,নুর মোহাম্মদ-পিতা: মৃত আব্দুর রশিদ,রাসেল মিয়া-পিতা: অজিউল্লাহ সহ আরো অনেকে। এদের মধ্যে কেউ জুয়াসহ মদ ও নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত আছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আমীর হোসেন বলেন, মধ্যম ঘনমোড় ও উত্তর ঘনমোড় এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরেই জুয়া, মদ, ইয়াবার আসর বসানোসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। আমি এ বিষয়ে অবগত আছি এবং আমি এলাকায় বেশ কয়েকবার তাদের নিষেধ করেছি কিন্তু তারা আমার কথা না শুনে প্রতিদিন জুয়া ও মদের আসর বসাচ্ছে ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে অভিযুক্ত মূল মাষ্টারমাইন্ড ইসমাইল মাষ্টার বিভিন্ন জনের জায়গাজমি দীর্ঘদিন যাবত ভোগ দখল করার দরুন সে এটা তার বিরুদ্ধে ষরযন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এবিষয়ে লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ নূর বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। যেহেতু জানতে পারলাম আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।

এদিকে সচেতন মহল বলছে, এমন অপারাধীদের খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনতে না পারলে গ্রামের নতুন প্রজন্মদের উপর এর প্রভাব পরতে পারে। তাই প্রশাসনের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচারের ব্যাবস্থা গ্রহন করলে সমাজ থেকে অপরাধ কমে আসবে এবং আগামী প্রজন্মকে অপরাধ থেকে রক্ষা করা যাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।