স্বাস্থ্যবিধি মানছে না নানিয়ারচরের দোকানীরা

॥ গোলাম মোস্তফা ॥

বৈশ্বিক মহামারী নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সারাদেশের ন্যায় পাহাড়েও বর্তমানে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে পাহাড়ের জনসাধারণকে মরনঘাতী এই ভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা করতে, এই করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বাজার গুলোতে বিভিন্ন স্থানে জটলা করে দোকানদার ও ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব না মেনে প্রতিনিয়তই পন্য ক্রয়-বিক্রয় করে যাচ্ছে।

শনিবার (৪ জুলাই) নানিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও বাজার বিশেষ করে বুড়িঘাট ও ঘিলাছড়ির দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় দোকানদাররা প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে গায়ের জোর খাটিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানার পাশাপাশি তারা সামাজিক দূরত্বও মানছে না। এমনকি মাক্স পরিধান না করেই তারা বেচাকেনা করে যাচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছে, নানিয়ারচর উপজেলা আনারসের রাজধানী হওয়ার দরুণ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ সহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ব্যবসায়িক কারণে অবাধে বিচরণ করছে। তাই রাঙামাটির অন্যান্য উপজেলার চাইতে নানিয়ারচর উপজেলায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি সবচাইতে বেশি। তারপর দোকানীরা যদি এভাবে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এভাবে বেচাকেনা চালিয়ে যায় তাহলে নানিয়ারচর উপজেলার জনসাধারণকে করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তারা উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়ার অনুরোধ করেছে।

তারা জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে বলেন, আমাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সব কিছু দেখেও না দেখার ভান ধরে আছেন ওনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে দোকানীরা আরো সচেতন হতো।

এই বিষয়ে নানিয়ারচর থানার ওসি সাব্বির হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার পর তিনি জানিয়েছেন, আমরা টহলরত অহস্থায় থাকা কালীন সময়ে ক্রেতা বিক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করে কিন্তু আমরা যখন চলে আসি তখন হয়ত তারা নিয়মকানুন না মেনে বেচাকেনা চালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত জনগনকে সচেতন করার লক্ষ্যেই আমাদের টহল অব্যাহত রেখেছি কিন্তু জনগন যদি নিজেরা সচেতন না হয় তাহলে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তাই তিনি জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলি রহমান তিন্নি মুঠোফোনে বলেন, আমরা জনসচেতনতায় প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। যেহেতু জনসাধারণ সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা তাই জনগনকে সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসন আরো কঠোরভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে মন্ত্রীপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে পহেলা জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী শপিংমল, দোকান ও হাট-বাজার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বেচাকেনার সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার কথাও বলা হয় প্রজ্ঞাপনে।