জনসংহতি সমিতির নেতার ঠিকাদারীতে নির্মিত কালভার্ট সেতুতে ৯ মাসে দুইবার ফাটল!

॥ অনুপম মারমা ॥

বান্দরবানে থানচিতে জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সদর হতে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে ছাংদাক পাড়া যাওয়ার রাস্তার উপর কালভার্ট সেতুতে নির্মানের সময় স্থানীয় বালির পাথর ব্যবহারের কারনে গত ৯ মাসে ২বার বিশাল গর্ত ও ফাটল ধরেছে। এ রাস্তায় এবং কালভার্ট সেতু দিয়ে জিনিংঅংপাড়া, শাহজাহান পাড়া, তংক্ষ্যং পাড়া, হাবরু হেডম্যান পাড়া, ছাংদাক পাড়াসহ অর্ধশতাধিক পাড়াবাসী যাতায়াত করেন। জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়াই দৈনিক ৫ শতাধিক জনসাধারন ও জুমিয়াদের জুম ও ফলজ বনজ বাগানের উদপাদিত ফসল পরিবহনের সুযোগ না থাকায় আম, কাজুবাদাম, মার্ফা, আদা, হলুদ, কলা ইত্যাদি বাজারজাত করতে না পাড়ায় ঐ সব উৎপাদিত ফসল গুলি পঁচন ধরেছে। অপরদিকে উপজেলা সদর হতে অভ্যন্তরীন যোগাযোগে জনদূর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।

২০১৯-২০ অর্থসালে টিআর,কাবিখা, কাবিটা, ছাড়াও বান্দরবান জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামে বিভাগীয় কমিশনার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অনুকুলে জনসাধারনে অতীব প্রয়োজনীয় সেতু কালভার্ট রাস্তা ঘাট স্কুল কলেজ সংস্কার জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও এসব গর্ত ও ফাটল ধরা কালভার্ট সেতু মেরামত কিংবা সংস্কারে উপ-বরাদ্দ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে যেখানে জনসাধারনের পাঁয়ের হাঁটার ও যাতায়াত করছেনা অজনগুরুত্বপূর্ণ সেখানে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে । থানচি সদর হতে ছাংদাক পাড়া যাওয়ার অভ্যন্তরীণ রাস্তাটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হলে ও সেটিকে আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ঠরা।

জানতে চাইলে ছাংদাক পাড়া নিবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতা উবামং মারমা সাংবাদিকদের বলেন, ভারী যানবহন চলাচলের কারনে কালভার্ট সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে। কিন্তু সংস্কারের জন্য অনেকবার বলা হলেও সংশ্লিষ্ঠরা আমাদের কথা কেউ কর্ণপাত করেন না।

সদর ইউপি মহিলা সদস্যা ডলিচিং মারমা বলেন, গত ২০১৯ সালে একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ৯মাস আগেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশে কাল্ভার্ট সেতুটি সংস্কার করা হয়েছিল। আবার একই স্থানে গর্ত বা ফাটল পুনরায় ধরেছে সংস্কারের জরুরী মনে করেন।

পথচারী উশৈসিং মারমা বলেন, আমাদের কৃষিখাতে উৎপাদিত ফসল এই সেতুটির কারনে পঁচন ধরেছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এমন নাজুক অবস্থা রেখেছে কি বলবো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি ।

থানচি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় (পিআইও)এর সূত্রে জানা যায়, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে অর্থায়নে উপজেলা সদর হতে ছাংদাক পাড়া যাওয়ার রাস্তার উপর গত কয়েক বছর মধ্যে ৩টি কালভার্ট সেতু নির্মান করা হয়েছে । প্রতিটিতে ২৭ লক্ষ টাকা করে মোট ৮১ লক্ষ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নির্মানে অক্রুটিপূর্ণভাবে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠ অধিদপ্তরে বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যে কালভার্ট সেতুটি ফাটল ধরেছে সেটি জনসংহতি সমিতির নেতা ও যুব সমিতি সভাপতি নুমংপ্রু মারমা(টাইগার) ঠিকাদারকে বাস্তবায়নে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। পিআইও মোঃ তারিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।