ব্রেকিং নিউজ

দূর্যোগকালীন ভাতা প্রদান নিশ্চিতে নিজ উদ্যোগে সিমের দোকান বসালেন কাউন্সিলর

॥ সৌরভ দে ॥

প্রধানমন্ত্রীর দূর্যোগকালীন ভাতা যাতে করে ওয়ার্ডবাসী সঠিকভাবে বুঝে পায় সেই উদ্দেশ্যে নিজ উদ্যোগে এলাকায় অস্থায়ীভাবে সিমের দোকান বসিয়েছেন রাঙামাটি সদরের ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর করিম আকবর। জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে সিম রেজিস্ট্রেশনের তথ্য তারতম্য থাকায় প্রথম প্রেরিত তালিকা হতে বেশ কয়েকজন ২৫০০ টাকা করে দূর্যোগকালীন ভাতা পাননি। যার কারণে সরকার ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় তালিকা প্রেরণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এই কারণেই এইবার আর কোন ঝুঁকি নিচ্ছেন না কাউন্সিলর করিম।

কাউন্সিলর করিমের জবানীতে এই অবস্থায় কাজটি করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এই করোনা পরিস্থিতিতে সংশোধন প্রার্থীদের ফোনে ডেকে এনে সব করতে হচ্ছে। তারপরও আমি করছি, জনগণের স্বার্থে।

তবে সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগও উঠেছে বেশ কয়েকটি। ২ নং ওয়ার্ড বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, কাউন্সিলর করিম শুধু নিজের পরিচিত ও কাছের মানুষদেরকে ডেকে সংশোধন করাচ্ছেন। তালিকা সংশোধনের অপেক্ষায় আছেন এমন অনেকেই কাউন্সিলরের কাছ থেকে কোন প্রকার আহবান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, আমি আমার মোবাইল নম্বরসহ সব তথ্য দিয়েছিলাম। তথ্য ভেরিফাই করার জন্য পৌরসভা থেকে আমাকে ফোনও করা হয়েছিল কিন্তু মোবাইল নম্বরটি আমার স্বামীর হওয়ার কারণে আমি ভাতা পাইনি। এখন শুনছি তালিকা সংশোধন শুরু হয়েছে কিন্তু আমাকে এখনো ডাকা হয়নি।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাউন্সিলর করিম জানান, সংশোধনী শুরু হয়েছে আজকে ৫দিন। আজকেই জমা দেওয়ার শেষ দিন। যাদের যাদের সংশোধনীর জন্য ঢাকা থেকে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছিল তাদের সবাইকেই আমি ডেকেছি, যাদের নাম তালিকায় নেই তাদেরকে কিভাবে ডাকবো? আমার ওয়ার্ডে বাসিন্দা আছে ১৫,০০০। তাদের মধ্যে দূর্যোগকালীন ভাতা পাবে ১০০০। এই ১০০০ জনের মধ্যে যাদের পূর্বের তথ্যে ভুল ছিল তাদেরকেই সংশোধনের আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে অনেকে অভিযোগ করছেন কাউন্সলির করিমের বসানো বিশেষ একটি কোম্পানীর সিমের দোকান থেকে সিম না কিনলে সংশোধিত তালিকায় নাম উঠছে না। এমনকি কাউন্সিলর নিজেই নাকি এলাকায় ঘোষণা দিয়েছেন যারা তাঁর মনোনীত দোকান থেকে সিম কিনবে না তাদের তালিকায় নাম উঠবে না। কাউন্সিলরের মনোনীত দোকানে সিমের দামও হাঁকা হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী।

তবে কাউন্সিলর করিম বলছেন, আমি এলাকাবাসীর সুবিধার্থে দোকানটা বসিয়েছি। যারা কিনতে ইচ্ছুক তারা এই দোকান থেকে থেকে কিনবে আর যারা ইচ্ছুক না তারা অন্য কোথাও হতে কিনে নিবে। এতে আমার কোন আপত্তি নেই।

সিমের দাম বেশী নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, সেটা আমার জানার বিষয় না। কে ৫০ টাকায় বিক্রি করছে আর কে ২০০ টাকায় তা আমার বিষয় না। আমার বিষয় হচ্ছে জনগণকে সেবা দেওয়া।