ব্রেকিং নিউজ

প্রধানমন্ত্রী বরাবর দারুল আরকাম শিক্ষক সমিতির স্মারকললীপি

॥ মাহাদী বিন সুলতান ॥

চলমান করোনা মহামারীতেও গত ৬ মাস যাবৎ বেতন-ভাতা না পেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলীপি প্রদান করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন কতৃক পরিচালিত জেলার দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। প্রকল্প জটিলতায় বন্ধ মাদ্রাসা চালু ও বকেয়া বেতনের দ্বাবীতে সারাদেশের ন্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশিদ’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি দল।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২ টায় শিক্ষকদের দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৬ দফা দাবিতে এই স্মারকলিপি দেয়।

দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি হাফেজ বেলাল হোসাইন ফয়েজি ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ইমাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর একনেকে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প (৬ষ্ঠ পর্যায়) অনুমোদনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মর্মে নির্দেশনা দেন, দেশের যে সব এলাকায় স্কুল নেই সেখানে মসজিদভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম যেন অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা-ভাবনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ২০১৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের প্রতি উপজেলায় উক্ত প্রকল্পের (৬ষ্ঠ পর্যায়) অধীনে প্রথম পর্যায়ে ‘দারুল আরকাম’ নামে ১০১০টি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে।
মাদরাসাগুলোর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করা হয়। ২০১৮ সালে ১০১০জন কওমি ও ১০১০জন আলিয়া মাদরাসার সনদধারী আলেম নিয়োগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

কওমি সনদের স্বীকৃতির পর এটিই প্রথম কওমি আলেমদের সরকারি নিয়োগ। শুরুতে ইফার নিজস্ব সিলেবাসে ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান শুরু হলেও ২০১৯ সালে এসব মাদরাসা ৫ম শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়।

গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ (৬ষ্ঠ পর্যায়) শেষ হলেও ধর্ম-মন্ত্রণালয়ের বিশেষ চাহিদায় প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রাখা হয়। কিন্তু গত ১১ মে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পটি পাশ হলেও প্রকল্প থেকে দারুল আরকাম মাদ্রাসাকে বাদ দেয়া হয়। এতে সারাদেশে প্রায় ২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেমন অন্ধকারে তেমনি ২ হাজার আলেম শিক্ষক বেতনহীন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

শিক্ষকদের দুর্দশা ও হতাশার কথা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করে বলা হয়- প্রকল্প জটিলতা নিরসন করে আসন্ন কুরবানি ঈদের আগে বকেয়া বেতনভাতা প্রদান। শিক্ষকদের নিয়মিত জনবল হিসেবে উল্লেখ করে স্কেলভিত্তিক বেতন-ভাত প্রদান সহ ৬ দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় স্বারকলিপিতে।