ব্রেকিং নিউজ

রাঙামাটির মাতৃমঙ্গলে আবারো রোগী হেনস্থার অভিযোগ

॥ সৌরভ দে ॥

রাঙামাটিতে প্রসূতি মা ও শিশুদের মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (মাতৃমঙ্গল) প্রতিষ্ঠা করা হলেও ভূল চিকিৎসাসহ নানা অভিযোগে বারবার খবরের হেডলাইন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এত অভিযোগ ও লেখালেখির পরও কোন পরিবর্তন হয়নি এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণাধার ডা. লেনিন তালুকদারের। এখনো রোগীদের সাথে একই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অমানবিক আচরণ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নিজের অবস্থানেও আছেন বহাল তবিয়তেই। ২০১৬ সালের ২৪শে অক্টোবর প্রসূতি নিরূপা তংচঙ্গ্যাকে ভূল চিকিৎসায় মেরে ফেলার অভিযোগ, ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বরের জেনি আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতি মা ও তার গর্ভের সন্তানকে ভূল চিকিৎসায় মেরে ফেলার অভিযোগ, ২০২০ সালের ২০ মে এক প্রসূতির আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টের মাধ্যমে পেটের জ্যান্ত সন্তানকে মৃত ঘোষণা, সেবা প্রদানে অবহেলা, রোগীদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও অমানবিক ব্যবহারসহ ডজনখানেক অভিযোগ আছে এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

আবারো এক অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন এই চিকিৎসক। অভিযোগ পাওয়া যায়, জুনের ২০ তারিখ মাতৃমঙ্গলে এক নারীর অপারেশন হয় কিন্তু সেই সময় অপারেশন সফল না হওয়াতে ৮ জুলাই বুধবার সকালে ওই নারী তাঁর স্বামীর বড় বোনকে নিয়ে ডা. লেনিনের সাথে দেখা করতে গেলে দুর্ব্যবহারের শিকার হন। শুধু ডা. লেনিনই নয় এমনকি মাতৃমঙ্গলের পিয়নও তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

দুর্ব্যবহারের শিকার ওই নারীর ভাশুর ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম রাশেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জুনের ২০ তারিখ আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে কিছু একটা পুশ করা হয়েছিল। নির্দেশনা ছিল এটির কারণে কোন সমস্যা হলে তা শরীর থেকে বের করে ফেলতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে সে আর আমার বড় বোন আজকে সকালে মাতৃমঙ্গলে গেলে ডা. লেনিন তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এসময় “সকাল সকাল বিরক্ত করতে আসিও না” ধরণের অপেশাদার সুলভ মন্তব্যও করেন তিনি। এমনকি ওই হাসপাতালের পিয়নও আমার বড় বোনের সাথে খারাপ ব্যবহার করে।

বিষয়টি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমাকে অবহিত করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়কে অভিযোগ দিয়েছি, তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে মাতৃমঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করলে উক্ত পিয়ন ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে জানা গেছে। তবে এই বিষয়ে ডা. লেনিন তালুকদারের মুঠোফোনে বারংবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, কোন এক অদৃশ্য শক্তির হস্তক্ষেপে এই চিকিৎসকের দায় নিতে চায় না রাঙামাটির স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কোন বিভাগ। হয়না স্বচ্ছ কোন তদন্ত। ২০১৪ সালের ২০শে নভেম্বর ডা. লেনিনের বিরুদ্ধে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অবহেলা, রোগীদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, অমানবিক ব্যবহারসহ নানা অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি রাঙামাটি এসে তদন্ত করে গেলেও আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি তদন্তের রিপোর্ট, নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থাও। রাঙামাটির বাহুবলী এই চিকিৎসকের খুঁটির জোরটা ঠিক কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাঙামাটির বাসিন্দারা।