ব্রেকিং নিউজ

কচ্ছপ গতির ইন্টারনেটে পিছিয়ে পড়ছে বাঘাইছড়ির শিক্ষার্থীরা

॥ ওমর ফারুক সুমন ॥

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারনে মানুষকে নিরাপদে রাখতে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। জনসমাগম কমাতে সীমিত আকারে চলছে সকল কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ব্যাহত হচ্ছে কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম। সরকার এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চালু করেছে টিভিতে ক্লাস পরিচালনা ও অনলাইনে শিক্ষা দান কার্যক্রম। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নিজ উদ্যোগে ফেইসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

মোবাইল ইন্টারনেট কিংবা ওয়াইফাই ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে নিজ নিজ পাঠ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের ক্লাসে অংশ নিতে পারছে। তবে এরজন্য প্রয়োজন ভাল গতির ইন্টারনেট সুবিধা।

বাংলাদেশের অন্যসব দূর্গম এলাকা গুলোর মধ্যে বাঘাইছড়ি একটি। তারপরও এখানে আছে ইন্টারনেট ব্যাবহার করার সুবিধা। মোবাইল ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই ব্যাবহার করে এখানকার শিক্ষার্থীরাও অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারার কথা থাকলেও এখানে আছে প্রতিবন্ধকতা।

সরকারি অফিসে ওয়াইফাই ব্যবহার করার সুবিধা থাকলেও তা সাধারন মানুষের হাতের নাগালের বাইরে আর মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানির ধীরগতির ইন্টারনেট দিয়ে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। অথচ, দেশের অন্যসব এলাকার মতো এখানেও চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফোর-জি সেবা প্রদানের কথা বলে টাকা নিলেও বাস্তবিক অর্থে মিলছেনা টু-জি গতির ইন্টারনেট সুবিধা। যা এই উপজেলার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। কোম্পানীগুলোর কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়েও মিলছেনা কোনো সুবিধা। এমন অবস্থায় পিছিয়ে থাকা পাহাড়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে ভাল গতির ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবস্থা করতে শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

কাচালং সরকারী কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক লালন চাকমা বিষয়টি নিয়ে খুবই হতাশা প্রকাশ করেন এবং তার ব্যাক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে ইন্টারনেট সেবার ধীরগতির সমস্যা তুলে একটি পোষ্ট করেন যাহা হুবহু তুলে ধরা হলো-

“মানুষের মৌলিক পাচটি উপাদান জেনেছি ছোটকাল থেকেই। অন্ন,বস্ত্র,শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান। এই পাঁচ ধরনের মৌলিক অধিকারের জন্য ভাইটাল উপাদান হলো তথ্য। বর্তমান বিশ্ব তথ্য ছাড়া অচল।তথ্য সেবা না থাকা মানেই সভ্যতা থেকে ছিটকে পড়া।একেতো বৈশ্বিক করোনা প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত তার উপর সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠান মোবাইল কোম্পানিগুলোর নিম্নমানের তথ্য সেবা মরার উপর খাড়ার গা। শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস চলছে,চলছে পরিক্ষা,অনলাইনে সভা,সেমিনার, কেনাকাটা আজকাল কি না হচ্ছে। গিভ এন্ড টেক পলিসি। প্রি পেইড দিয়ে প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোম্পানিগুলোকে আরও একটু মানবিক হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই।”