ব্রেকিং নিউজ

মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূর্ণবহালের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শাহাদাতের খোলা চিঠি

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূর্ণবহালের দাবিতে দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন রাঙ্গামাটি জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শাহাদাৎ হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোরের মেইল পাঠানো খোলা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন,

বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বিষয়ঃ – মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের প্রানে দাবি প্রসঙ্গে ।

জনাব,
যথা বিহিত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রজন্ম।আজ অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেয়ার কারণে অনেকেই হিংসাত্মক আচরণ করে। আমরা দেশ প্রেমিকদের সন্তান, দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্য, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত। বর্তমানে অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা বেকার, অনেকে পেটের দায়ে বিভিন্ন দিকে ছুটাছুটি করছে ।

হে বঙ্গবন্ধু কন্যা মমতাময়ী মা, আপনি আমাদের অভিভাবক, আমাদের ভরসা,আমাদের আশার আলো পথের দিশারী একমাত্র আপনিই।আপনার কাছে আমাদের বিনীত প্রার্থনা,মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সকল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০% কোটা পূর্ণবহাল এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কে যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কাজে নিযুক্ত করে অথবা তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করে আপনার নিরাপদ মাতৃস্নেহের আচলের নিচে ঠাঁই দিয়ে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত করে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রায় ১০০% কোটা দেখলাম বিদ্যমান আছে

যেখানে নারী কোটা ৬০% পোষ্য এবং বিজ্ঞান মিলিয়ে আরো ৪০% কোটা।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরে ঘোষণা এসেছিলো ১ম ও ২য় শ্রেণীতে কোটা ব্যবস্থা থাকছেনা।

আমরা এই স্বাধীন ও স্বার্বভৌম বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাসটা প্রায় সকলেই জানি
নিরীহ পূর্ব পাকিস্তানিদের বৈষম্য থেকে শুরু করে নির্বিচারে হত্যা কোনকিছুই বাদ রাখেনি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান। সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এই বাংলাদেশকে জন্ম দিয়েছিলো মুক্তিযোদ্ধারা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে সেদিন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিজ দেশের মাটিটুকু রক্ষার জন্য।জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু নিজেই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের উপহার স্বরূপ ৩০% কোটার প্রচলন করে গিয়েছিলেন।একটা বিষয় আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারি এই বাংলাদেশেরই উল্টোপিঠ বঙ্গবন্ধু এবং তার সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধারা, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে সেখানে শেখ মুজিব এবং মুক্তিযোদ্ধারা থাকবেই কিন্তু সর্বশেষ প্রাইমারি নিয়োগে সকল কোটা বিদ্যমান কিন্তু যাদের কাছে এই বাংলাদেশের দায়বদ্ধতা রয়েছে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কি দেওয়া হয়েছে?

আজ অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেকে ভাসিয়ে দিচ্ছে দেখা যাচ্ছে কিন্তু যাদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধটাই হয়েছে তাদেরকে কি অপমান করা হলোনা মমতাময়ী অবিভাবক??? এদেশে যদি কোটা থাকে তবে সেটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার্থে সরকারি কাজে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তদের অংশগ্রহণ রাখা উচিৎ। আজ যারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী প্রথমেই আসবে প্রতিবন্ধী,এদের জন্য তো কোটা রাখা হয়নি?

যারা দূর্গমতায় বসবাস করছে সেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদেরও কোটা রাখা হয়নি,
পোষ্য কোটা রেখেছেন মানে শিক্ষকের ছেলে মেয়ে শিক্ষক হবে বাকিরা কোথায় যাবে?
বিজ্ঞান কোটা রেখেছেন তাহলে কমার্স এবং মানবিকে যারা পড়ছে তারা কোথায় যাবে?
বিজ্ঞানের ছাত্রদের শিক্ষার মান বাড়িয়ে তাদেরকে সঠিক সুশিক্ষিত করতে পারলে তারা এমনিতেই সকলের আগে সুযোগ পাবে কেন তাদের জন্য আলাদা কোটা রেখেছে আমার বোধগম্য নয়।

সরকারি চাকুরিতে যদি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্মদের অংশগ্রহণ না থাকে সেখানে শাহেদদের মত লেবাসধারী কথিত চেতনা লালন করা কীটেরা সবাইকে ঘিলে খাবে এর জন্য কিন্তু শহীদেরা হাসতে হাসতে জীবন বিসর্জন দেয়নি। যদি কোটা রাখতে হয় তবে কেন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এরকম তামাশা করতে হবে?কেন প্রতিবন্ধী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কোটার সুযোগ দেওয়া হবেনা প্রিয় অবিভাবক মমতাময়ী মা।

অতএব, মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার নিকট সবিনয়ে অনুরোধ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের রাষ্ট্রীয় কাজে নিযুক্ত করে অথবা তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করে দেশ ও জাতির খেদমত করার সুযোগ প্রদানে সদয় মর্জি হয়।