ব্রেকিং নিউজ

২ বছরেও জনস্বাস্থ্যের টিউবওয়েল পেলোনা পাবলিক হেলথবাসী; ফেইসবুকে এমপি’র দৃষ্টি আকর্ষণ

॥ সৌরভ দে ॥

আবেদন দেওয়ার পর গুনে গুনে ২ বছর ১০ মাস ২৭ দিন পার হতে চললেও একটি টিউবওয়েল জুটলো না রাঙামাটি জেলা সদরের পাবলিক হেলথ এলাকার বাসিন্দাদের ভাগ্যে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, সদস্য মুছা মাতব্বরসহ জেলার বাঘা বাঘা নেতাদের সুপারিশ থাকার সত্ত্বেও কেন একটি টিউবওয়েল এলাকায় স্থাপিত হচ্ছে না সেটাই প্রশ্ন এলাকাবাসীদের মনে।

২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট পাবলিক হেলথ এলাকাবাসীর পক্ষে নাছির উদ্দীন নামে এক ব্যাক্তি টিউবওয়েল প্রাপ্তির জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লেইকের পানি পান করার কারণে এলাকাবাসী নানা প্রকার রোগের সম্মুখীন হচ্ছে। তাই পাবলিক হেলথ এলাকায় একটি টিউবওয়েল প্রদান করে যেন এই সমস্যার সমাধান করা হয় কিন্তু আবেদন দেওয়ার ২ বছরের চেয়েও বেশী সময় পার হয়ে গেলেও টিউবওয়েল পায়নি এলাকাবাসী।

এই বিষয়ে সম্প্রতি নিজের ফেইসবুক ওয়ালে জেলার সাংসদ দীপংকর তালুকদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন ৮ নং যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন। তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এলাকাবাসীর আবেদনটা নিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের স্যারের কাছে যাই, তিনি সুপারিশ করেন। এরপর জেলা পরিষদ সদস্য মুছা মাতব্বরের কাছে যাই তিনিও সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে এই আবেদন নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম স্যার আমাকে জানান এই আবেদনে কোন কাজ হবে না আপনি জেলা পরিষদ সদস্য মুছা মাতব্বরের কাছ থেকে সরাসরি একটি লিখিত সুপারিশ আনেন। পরবর্তীতে আমি পার্টি অফিসে একটি লিখিত সুপারিশ আনতে গেলে “মেয়র গ্রুপ” করি বলে আমার উপর অভিযোগ দেওয়া হয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে টিউবওয়েলের আবেদন করিনি তারপরো কেন এইরকম একটি সামান্য বিষয়ে গ্রুপিং চলে আসছে আমি বুঝতে পারছি না। আজকে আবেদন করে কালকেই টিউবওয়েল পেয়েছে এইরকম অসংখ্য উদাহারন আছে। অনেক বড় বড় নেতাদের বাসাতেও টিউবওয়েল বসেছে কিন্তু পাবলিক হেলথ এলাকায় যেখানে একটি টিউবওয়েল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সেখানে বসেনি। তাই আমি আমাদের অভিভাবক দীপংকর দাদার কাছে দাবী করেছিলাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের টিউবওয়েলগুলো কোথায় যায় তা সঠিক তদন্ত করার জন্য।

এদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান, আবেদনে সুপারিশ থাকলেই যে তিনি টিউবওয়েল পেয়ে যাবেন তা কিন্তু না। আমাদের কাছে এইরকম শত শত আবেদন আসে এবং সবগুলোতেই এমন সুপারিশ থাকে কিন্তু বরাদ্দ আসার পর যারা সুপারিশ করেন তাঁরাই আবার ঠিক করে দেন কোথায় কোথায় টিউবওয়েল বসবে। তাদের দেওয়া লিস্ট অনুযায়ীই টিউবওয়েল বসে।

এই সম্পূর্ণ বিষয়টি জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের এখতিয়ারে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিউবওয়েলের জন্য যা বরাদ্দ আসে তা ৬০% জেলা পরিষদের বাকি ৪০% উপজেলা পরিষদের হাতে থাকে। আমার এইখানে আবেদন দিলেই তো হবে না, জেলা পরিষদ সদস্য মহোদয় ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাছাই করে লিস্টে যাদের নাম রাখবেন তারাই টিউবওয়েল পাবেন। এইখানে আমার ডিপার্টমেন্টের কোন এখতিয়ার থাকে না। আমরা তাদের নির্দেশনাই পালন করি।

এদিকে ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, একটি সিন্ডিকেট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলকে নিজেদের খেয়াল খুশি মত পরিচালনা করছে। এই সিন্ডিকেটের লোকেরাই সরকারি এই অধিদপ্তরটির টেন্ডার থেকে শুরু করে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে। শহরের মধ্যেই বেশ কয়েকজন বিশেষ নেতার বাসায় একেরও অধিক টিউবওয়েল স্থাপনের অভিযোগও করেছেন তারা। দীর্ঘ এক দশক ধরে শুধুমাত্র এই সিন্ডিকেট নির্ভরশীলতার কারণে জনসাধারণের জন্য সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতকরণের যে লক্ষ্য এই সরকারি অধিদপ্তরটির ছিল সেটি কোনভাবেই পূরণ হচ্ছে না। অধিদপ্তরটির জনৈক কর্মকর্তাদের অসদাচরণ ও সিন্ডিকেটের সাথে তাদের আঁতাতের মাধ্যমে বছরের পর বছর চলছে এই অরাজক অবস্থা।