ব্রেকিং নিউজ

ঈদুল আযহার আগে রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাটে ফিটনেস বিহীন লঞ্চে দূর্ঘটনার আশংকা

॥ ইকবাল হোসেন ॥

রাঙামাটি জেলা শহরের রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাটে মালিক মো. আলমগীরের “এম এল তানিয়া টু” নামের ফিটনেস (রেজিষ্ট্রেশন, নকশা, সার্ভে সময়সূচী) বিহীন লঞ্চ অবস্থান করায় দূর্ঘটনা ও লঞ্চ শ্রমিকদের সাথে অনাকাঙ্খীত ঘটনা ঘটার আশংকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহণ) সংস্থা রাঙামাটি জোন ও রাঙামাটি লঞ্চ শ্রমিক ইউনিয়ন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সরেজমিনে গিয়ে লঞ্চটি ঘাটে অবস্থানরত আছে দেখার পর বাংলাদেশ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহণ) সংস্থা রাঙামাটি জোনের রাঙমাটি লঞ্চ মালিক সমিতির মঈনুদ্দীন সেলিম যোগাযোগ করারে পর তিনি প্রতিবেদককে বলেন, (রেজিষ্ট্রেশন, নকশা, সার্ভে সময়সূচী ছাড়া কোন লঞ্চ ঘাটে অবস্থান করতে পারে না। আমাদের রাঙামাটিতে বিভিন্ন রুটে মোট ৪৫টি লঞ্চ সকল নিয়ম মেনে যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নিয়ম ভঙ্গ করে মো. আলমগীর “এম এল তানিয়া টু” নামের লঞ্চটি ঘাটে অবস্থান করিয়েছে যার ফলে এ লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হলে যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে এর পাশাপাশি লঞ্চ শ্রমিকদের সাথেও সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। তিনি বলেন যেহেতু পবিত্র ঈদ-উল-আযহা’র আর মাত্র একদিন বাকি আছে তাই যাত্রীর চাপ বেড়েছে। আমরা যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি চিন্তা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ’র পরিচালক রফিকুল ইসলাম মহোদয়কে এ বিষয়ে অবগত করেছি। তিনি বন্দর ও পরিবহন বিভাগ চট্টগ্রাম’র উপ-পরিচালক নয়ন শীল’র মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কাইয়ুম ও রিজার্ভ বাজার লঞ্চ ঘাটের সুপারভাইজার আব্দুল কুদ্দুসসহ অন্যান্য সুপারভাইজারকে আজ লঞ্চঘাটে পাঠিয়ে ছিলেন। তারা দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা বলার পর চলে যান ও আমাদের জানান যে আগামীকাল আবার আসবেন। কিন্তু লঞ্চটি এখনও ঘাটে অবস্থান করছে বিধায় আমরা রাঙামাটি কতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

বিষয়টি নিয়ে বন্দর ও পরিবহন বিভাগ চট্টগ্রাম’র উপ-পরিচালক নয়ন শীল’র সাথে যোগাযোগ করার পর তিনি জানান, আজ আমাদের প্রতিনিধিরা রিজার্ভ বাজার লঞ্চ ঘাটে যাওয়ার পর “এম এল তানিয়া টু” এর মালিকের কাছে রেজিষ্ট্রেশন সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়ার পর। মালিক তাদের বলেছে তার কাছে সকল কাগজপত্র আছে এবং সে এই কাগজপত্র আমাদের রাঙামাটি অফিসে রাতের মাধ্যে নিয়ে আসবে। কিন্তু এখনও এখনও সে আমাদের অফিসে আসেনি, তাই আমি বিষযটি নিয়ে রাঙামাটি নৌ পুলিশের এসপির সাথে কথা বলেছি। আগামীকাল (শুক্রবার) সকালে নৌ পুলিশ সহ আমাদের প্রতিনিধি যাবে সে কাগজপত্র দেখাতে না পারলে আমরা মামলা করবো এবং লঞ্চটি কোন প্রকারের যাত্রী পরিবহণ করতে পারবে না।

তিনি আরো জানান, সাধারণত কোন লঞ্চ যাত্রী সেবা প্রদানের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করে আমাদের কাছে চলাচলের আবেদন করে আমরা অনুমতি দিলেই সেই লঞ্চ যাত্রী সেবা প্রদান করতে পারবে। যদিও বিশেষ করে ঈদের সময় আমরা স্পেশালি অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণের জন্য অনুমতি দিয়ে থাকি। এক্ষেত্রেও রেজিষ্ট্রেশন থাকা আবশ্যক ও আমাদের কাছে আবেদনের পর অনুমতি সাপেক্ষে তা চলাচল করতে পারবে। তাই লঞ্চটির মালিক যেহেতু বলেছে তার সকল কাগজ পত্র আছে যদি সে তা দেখাতে না পারে কোন ভাবেই এই লঞ্চ যাত্রী সেবা প্রদান করতে পারবে না।

লঞ্চটির মালিক মো. আলমগীর এবিষয়ে জানিয়েছেন, আমার লঞ্চের রেজিস্ট্রেশন সার্ভে আছে। আমি পরিচালক মহোদয়ের মৌখিক অনুমতি নিয়ে লঞ্চ ঘাটে এনে রেখেছি।

এবিষয়ে রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার ওসি জানান, বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে, আগামীকাল বিএডব্লিউটিএ এর সাথে পুলিশ থাকবে ও সার্বিক সহযোগিতা করবে।