ব্রেকিং নিউজ

ঈদের আগেই শূন্য গরুর বাজার!

॥ শহিদুল ইসলাম হৃদয় ॥

এ যেন করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা কোরবানির পশুর হাটে ছোবল বসিয়েছে। জীবনে এই প্রথম এমন দৃশ্য আমরা রাঙামাটিতে দেখছে বলে মন্তব্য করে স্থানীয়রা জানান, ঈদের এক দিন আগে মানে আজকের দিন ও রাতে যেখানে কিনা হাজারো গরু-ছাগল কোরবানির জন্য ক্রয় করে সে জায়গায় গোটা বাজার মিলে হাতেগনা ২০ টি গরুও নেই এটা আমাদের কাছে কেমন আশ্চর্যজনক ঘটনা মনে হচ্ছে। রাঙামাটিবাসী এমন ঘটনা চোখে দেখবে কখনো কল্পনা করেনি।

স্থানীয় এক ভদ্রলোক বলেন, ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী দেশে শনাক্ত হওয়ার পর সরকার ২৬ শে’ মার্চ অঘোষিত লকডাউনের ঘোষণা দিলে সারা দেশের মত রাঙামাটিতেও কঠোর লকডাউন পালন করেছে পার্বত্যবাসী ফলে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সর্বশেষ জেলা রাঙামাটি সুনাম অর্জন করলেও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির থেকে পিছিয়ে নেই রাঙামাটিবাসী। লকডাউনে কর্মস্থল বন্ধ হয়ে পড়ায় লজ্জাই কারো কাছে হাত পাততে না পেরে, জমানো টাকা পরিবার নিয়ে ঘরে বসে খেয়ে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দিন গোনা মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো সব থকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং এবছরের কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য হারিয়েছে।

তিনি বলেন, আসলে করোনা ভাইরাস আমাদেরকে শারীরিক ভাবে ক্ষতি করতে না পারলেও আর্থিক ভাবে খুবই দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে আমাদের রাঙামাটি জেলা সহ সারা দেশের অনেক গরু-ছাগলের বাজারের বেহাল অবস্থা এমনকি সর্বপরিচিত দেশের নাম করা পশুর হাট এবং হাজার হাজার গরু, ছাগল, মহিষের জোয়ারে ভাসিয়ে দেওয়া কোটি কোটি টাকার সেই চট্টগ্রামের বিবির হাট বাজারেও প্রায় ৫০ টির মত গরু আছে বলে আমার এক সাংবাদিক আঙ্কেল জানিয়েছে।

রাঙামাটির একজন গরু ব্যবসায়ী বলেন, আমরা যে জায়গায় প্রতি বছর গরু আনতাম দুই’শ থেকে তিন’শ সেখানে এবার এনেছি মাত্র ৩০ টা গরু ঐ খান থেকে এখনো সব গরু বিক্রি করতে পারিনি। কারণ করোনা ভাইরাস দেশের সকল মানুষের ক্ষতি করেছে। আমরা যে উপজেলা গুলো থেকে গরু নিয়ে আসি তারাও আমাদেরকে বর্তমান বাজার দরে গরু দিচ্ছে না। ফলে আমরা যে কয়েকটা গরু এনেছি তা সীমিত লাভে বাজারের প্রথম দিন থেকে ছেড়ে দিচ্ছি। এমনিতেই তো এই ঈদে অনেক জন কোরবানি দিতে পারছে না তার উপর যারা লকডাউন শিতিল হওয়ার পর থেকে অল্প কিছু টাকা যোগীয়ে ভাগে কোরবানি দিচ্ছে তাদের বেশি দাম চেয়ে বসলে তারাও এবছর কোরবানি দেয়া থেকে বাদ পড়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, আসলে উপজেলায় যারা গরু পালন করে তাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই কারণ লকডাউনে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার যোগাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তার উপর গোয়াল ভর্তি গরু খরচ! তাই তাদের গরু পালনের পিছনে যা ব্যয় হয়েছে তা হিসাব করে বর্তমান বাজারের সাথে মিলিয়ে উঠতে পারছে না। আমি রাঙামাটির ট্রাক টার্মিনালের এই বাজারে অনেক বছর ধরে গরুর ব্যবসা করছি কিন্তু কোনো সময় এরকম খারাপ অবস্থা আমি দেখিনি। সকাল থেকে কিছু ক্রেতা এসে ঘুরে যাচ্ছে কিন্তু বাজারে আমাদের কয়েক জনের ২০-২৫ টা গরু ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নিয়ে আসা সব গরু বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।