রাঙামাটিতে যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ পেলেন ১৭ প্রশিক্ষণার্থী


নাজিম আল হাসান    |    ০৮:২০ পিএম, ২০২৬-১০-২১

রাঙামাটিতে যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ পেলেন ১৭ প্রশিক্ষণার্থী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিচালিত ‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় রাঙামাটি সদর জোনের উদ্যোগে ‘যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণ-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬ বেলা ১১টায় রাঙ্গামাটি সদর জোনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন রাঙামাটি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পিএসসি।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গত ১১ অক্টোবর শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে মোট ১৭ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পরিচিতি, সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করা হয়।

বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর যুবকদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের যানবাহন মেরামত খাতে কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পিএসসি বলেন,পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা এবং বেকারত্ব হ্রাস করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তরুণরা যেন প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়বে এবং তারা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্থানীয় জনগণকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

প্রশিক্ষণার্থীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,এ ধরনের প্রশিক্ষণ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা সিএনজি ও মোটরসাইকেল মেরামত সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছি, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে। আমরা আশা করি, অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করতে পারব। পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।