খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনায় দুই ইউপিডিএফ সদস্য নিহত, একে-৪৭ উদ্ধারের দাবি


আলমগীর মানিক    |    ০২:১৬ এএম, ২০২৬-০৬-২৫

খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনায় দুই ইউপিডিএফ সদস্য নিহত, একে-৪৭ উদ্ধারের দাবি

খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনায় দুই ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দীঘিনালা উপজেলায় এক ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে রামগড়-মাটিরাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথিত গোলাগুলির ঘটনায় আরও একজন ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইউপিডিএফ সূত্রে জানা যায়, দীঘিনালার বাবুছড়া এলাকার মুড়োপাড়া চৌমুহনী রাস্তার মোড়ে বুধবার দুপুরে সশস্ত্র হামলায় ইউপিডিএফ সদস্য সুজন চাকমা (৪৮) নিহত হন। তিনি কবাখালী ইউনিয়নের তারাবন্যা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় ইউপিডিএফ সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের দায়ী করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা দাবি করেন, সাধারণ পোশাকে আসা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালিয়ে সুজন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জেএসএসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে একই দিনে রামগড় ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী তৈকাথান এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে ববিন ত্রিপুরা নামে এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত এবং সুনিল ত্রিপুরা নামে আরেক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি এবং অস্ত্র উদ্ধারের এ দাবিকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করেছে ইউপিডিএফ।

ইউপিডিএফের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের চলমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। সংগঠনটি সুজন চাকমা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছে।

ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে