দুর্যোগে যখন থমকে গেছে জীবন, তখন দুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে চাল নিয়ে হাবিব আজম


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ১২:৫২ এএম, ২০২৬-০৮-০৮

দুর্যোগে যখন থমকে গেছে জীবন, তখন দুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে চাল নিয়ে হাবিব আজম

পাহাড়ি ঢল, টানা বর্ষণ আর পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটি। কোথাও ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব পরিবার, কোথাও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে পানিতে। আবার কোথাও পাহাড়ধসে বন্ধ হয়ে গেছে চলাচলের পথ। দুর্যোগের ধাক্কায় অনেক পরিবারের আয়-রোজগারও থেমে গেছে। ফলে দুর্গত মানুষের অনেকের ঘরে এখন খাবারের সংকট।

এমন এক সংকটময় সময়ে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তৎপরতায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হাবিব আজম। শুধু ত্রাণ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে দুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

জেলা পরিষদের উদ্যোগে হাবিব আজমের তৎপরতায় রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় দেড় হাজার দরিদ্র ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শহরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নিম্নআয়ের মানুষ এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এ সহায়তার আওতায় এসেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সহায়তা নিতে মানুষকে সবসময় নির্দিষ্ট কোনো স্থানে এসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। প্রয়োজন বুঝে অনেক পরিবারের ঘরে ঘরেও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন হাবিব আজম।

কখনো কর্মহীন পরিবারের উঠানে, কখনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়িতে—নিজেই খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজের কাঁধে করে চালের বস্তা নিয়ে দুর্গত মানুষের ঘরে পৌঁছানোর দৃশ্যও স্থানীয়দের নজর কেড়েছে।

সাম্প্রতিক পাহাড়ি বন্যা ও পাহাড়ধসে রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় কৃষি ও দিনমজুরি নির্ভর বহু পরিবারের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যাদের জীবিকার প্রধান উৎস কৃষিকাজ, তাদের অনেকের ফসল নষ্ট হয়েছে। দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষেরও কাজের সুযোগ কমে গেছে।

ফলে দুর্যোগের ক্ষত শুধু ঘরবাড়ি কিংবা সড়ক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়েছে মানুষের প্রতিদিনের খাবারের ওপরও।

চাল নিতে আসা কয়েকজন সুবিধাভোগী বলেন, দুর্যোগের পর আয় বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘরে খাবার থাকলেও তা শেষ হয়ে যাচ্ছে, অথচ নিয়মিত আয় নেই। এমন সময়ে চাল পাওয়ায় অন্তত কয়েকদিনের খাবারের চিন্তা কমেছে।

একজন সুবিধাভোগী বলেন, “দুর্যোগে আমরা অনেক কষ্টে আছি। কাজ নেই, আয় নেই। এই সময়ে ঘরে চাল পৌঁছে দেওয়া আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়েও সাধারণ মানুষ হাবিব আজমের কাছে আসেন।

দুর্যোগের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সমস্যা সরেজমিনে দেখার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনের কথা শুনছেন তিনি। স্থানীয় একাধিক সুবিধাভোগীর দাবি, দল-মত বা সম্প্রদায় বিবেচনার চেয়ে অসহায় মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতার চেষ্টা করেন হাবিব।

তাঁদের ভাষ্য, রাঙামাটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী নেতা থাকলেও দুর্যোগের মতো সংকটময় সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি আলাদা করে নজরে পড়ছে।

একাধিক সুবিধাভোগী বলেন, “সমস্যা নিয়ে হাবিব আজমের কাছে গেলে খালি হাতে ফিরতে হয় না—সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন তিনি।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি দরিদ্র পরিবার বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছে বলে দাবি করছে।

দুর্যোগের সময় খাদ্য সহায়তা, ব্যক্তিগত সমস্যায় সহযোগিতা কিংবা জরুরি প্রয়োজন—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর কাছে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ একবার চাল বিতরণ করে খাদ্যসংকট সাময়িকভাবে কমানো সম্ভব হলেও ফসল হারানো, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

দুর্যোগের এই সময়ে হাবিব আজমের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গত মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে গিয়ে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের সময় একজন জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত মানুষের পাশে থাকা। সেই জায়গা থেকে হাবিব আজমের উদ্যোগ দুর্গত মানুষের জন্য সাময়িক স্বস্তির পাশাপাশি সাহসও জোগাচ্ছে।

রাঙামাটির পাহাড়ে বৃষ্টি থামলেও অনেক মানুষের জীবনে দুর্যোগের ক্ষত এখনো শুকায়নি। ফসল হারানো কৃষক, কর্মহীন দিনমজুর কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে এক বস্তা চাল হয়তো বড় কোনো সমাধান নয়; কিন্তু সংকটের মুহূর্তে সেটিই হয়ে উঠতে পারে কয়েক দিনের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

আর সেই অবলম্বনটুকু নিয়ে যখন একজন জনপ্রতিনিধি নিজেই মানুষের দরজায় পৌঁছে যান, তখন সেটি শুধু খাদ্য সহায়তা থাকে না—দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে হয়ে ওঠে “কেউ একজন আমাদের পাশে আছে”—এই আশ্বাসের প্রতীক।